Sri Lanka Crisis: বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা, খাবারের জন্য বাধ্য হয়ে যৌন ব্যবসায় নামছেন মেয়েরা

Sri Lanka Crisis: বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা, খাবারের জন্য বাধ্য হয়ে যৌন ব্যবসায় নামছেন মেয়েরা

Sri Lanka Crisis: শ্রীলঙ্কার দৈনিক সংবাদপত্র দ্য মর্নিং-এর মতে, টেক্সটাইল শিল্পে কর্মরত নারীরা চাকরি হারানোর ভয়ে এবং দেশের দুর্বল অর্থনীতির কারণে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে পতিতাবৃত্তির দিকে ঝুঁকছেন। এ কারণে টেক্সটাইল খাত খারাপ হচ্ছে। একজন যৌনকর্মী সংবাদপত্রকে বলেছেন, 'আমরা শুনেছি যে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আমরা আমাদের চাকরি হারাতে পারি এবং এই মুহূর্তে আমরা যে সেরা বিকল্পটি দেখছি তা হল যৌনকর্ম।'

Sri Lanka Crisis: শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। মানুষের বাড়িঘর চালাতে কষ্ট হচ্ছে। এমনকি খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। এ কারণে গত কয়েকদিনে এখানে দ্রুত পতিতাবৃত্তি বেড়েছে। এখানকার অনেক নারী পেটের দায়ে যৌনকর্মী হতে বাধ্য হচ্ছেন। আয়ুর্বেদিক স্পা সেন্টারের আড়ালে এখানে নির্বিচারে চলছে যৌনকর্ম। খদ্দেরদের জন্য পর্দা ও বিছানা বসিয়ে এসব স্পা সেন্টারকে অস্থায়ী পতিতালয়ে পরিণত করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ নারীই আসছেন টেক্সটাইল শিল্প থেকে। জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ থাকলেও এরপর দেশের অর্থনীতির অবনতির কারণে তাকে এ ব্যবসায় আসতে হয়। শ্রীলঙ্কার দৈনিক সংবাদপত্র দ্য মর্নিং-এর মতে, টেক্সটাইল শিল্পে কর্মরত নারীরা চাকরি হারানোর ভয়ে এবং দেশের দুর্বল অর্থনীতির কারণে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে পতিতাবৃত্তির দিকে ঝুঁকছেন। এ কারণে টেক্সটাইল খাত খারাপ হচ্ছে। একজন যৌনকর্মী সংবাদপত্রকে বলেছেন, 'আমরা শুনেছি যে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আমরা আমাদের চাকরি হারাতে পারি এবং এই মুহূর্তে আমরা যে সেরা বিকল্পটি দেখছি তা হল যৌনকর্ম।'

সম্প্রতি পেটের দায়ের যৌনব্যবসায় নামা এক মহিলা জানিয়েছে, “আগের কাজে, আমাদের মাসিক বেতন ছিল প্রায় ২৮ হাজার টাকা এবং ওভারটাইম দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারতাম। কিন্তু যৌন কাজে নিযুক্ত হয়ে আমরা প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকার বেশি আয় করি। সবাই আমার সাথে একমত হবে না, কিন্তু এটা সত্য। যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফও একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে এই বছরের জানুয়ারি থেকে কলম্বোতে যৌনকর্মে জড়িত মহিলাদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মহিলারা কলম্বোর পশ্চিমাঞ্চল থেকে এসেছেন যারা আগে টেক্সটাইল শিল্পে কাজ করতেন। এই রিপোর্টগুলি শ্রীলঙ্কার যৌনকর্মীদের জন্য একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ স্ট্যান্ড আপ মুভমেন্ট লঙ্কা (SUML) এর উদ্ধৃতি দিয়েছে। প্রতিবেদনে এসইউএমএলের পরিচালক আশিলা ডান্ডেনিয়াকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে এই মহিলারা তাদের সন্তান, বাবা-মা এবং ভাইবোনদের বোঝা বহন করতে দ্রুত টাকা উপার্জন করতে চান। যৌন কাজ এমন একটি পেশা যেখানে মহিলারা অনিচ্ছা থাকার পরেও বাধ্য হয়ে এই পেশায় নামতে বাধ্য হচ্ছে। 

পতিতাবৃত্তি বৃদ্ধির অনেক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল মুদ্রাস্ফীতি। অস্থির এই দেশে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি মহিলাদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও হতাশাজনক করে তুলেছে। বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে এমনও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে মহিলারা খাবার এবং ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসের বিনিময়ে স্থানীয় দোকানদারদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কলম্বোর বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে শিল্পাঞ্চলে পতিতা ব্যবসার প্রচার হচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকী সুরক্ষার পরিবর্তে পতিতালয়ের মালিকরা মহিলাদের পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে এই অসহায় নারীদের ক্লায়েন্টদের অনুরোধে অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়। শুধু তাই নয়, এসব নারীকে প্রায়ই গ্রাহকদের লাঞ্ছনা ও মারধরের শিকার হতে হচ্ছে।