Covid 4th Wave: লাগাতার বৃদ্ধি হঠাৎ থমকে, আশায় স্বাস্থ্য ভবন

এই সময়: খুব বাড়াবাড়ি করবে না করোনার চলতি চতুর্থ ঢেউ- গাণিতিক মডেল কাটাছেঁড়া করে আপাতত এমনটাই আশা করছে স্বাস্থ্যভবন। তারা মনে করেছে, শীর্ষবিন্দুর কাছাকাছিই চলে এসেছে কোভিড গ্রাফ। সেই গ্রাফ হয়তো প্রথম ঢেউকেও টপকাতে পারবে না। টপকালেও খুব বেশি দূর যেতে পারবে না। হয়তো তাড়াতাড়িই নামতে শুরু করবে চতুর্থ ঢেউয়ের (Covid 4th Wave) গ্রাফ।

বাংলার স্বাস্থ্য অধিকর্তার কথায়, ''খুব আর বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না কোভিড। প্রথম ঢেউয়ের মতোই হবে বড়জোর। তবে সেটা সংখ্যায়। অসুস্থতার নিরিখে এর তেজ এখনও বেশ কম।'' যদিও বিধি না-মানলে করোনার তলানিতে নামা যে আরও পিছিয়ে যাবে, সে কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

তবে টানা কয়েক সপ্তাহের ঊর্ধ্বগতির পর আপাতত কয়েক দিন দেখা যাচ্ছে, তিন হাজারের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থিতু হয়েছে করোনা। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া কোভিড বুলেটিন অনুযায়ী, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবারের যথাক্রমে ২,৮৮৯, ২,৯৫০ ও ২,৯৬৮ দৈনিক আক্রান্তের পর রবিবার দেখা যাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ২,৯৬২ জন।


গত ২৪ ঘণ্টায় যাঁরা কোভিড পজিটিভ হয়েছেন, যথারীতি তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাসিন্দা উত্তর ২৪ পরগনার (৭৩৭)। তার পরেই রয়েছে কলকাতা (৬৫৮)। এর পরে রয়েছে হুগলি (১৯৬), পশ্চিম বর্ধমান (১৫২), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (১৪৪), নদিয়া (১৩৭), হাওড়া (১২২), পূর্ব বর্ধমান (১১৩) ও পশ্চিম মেদিনীপুর (১১২)। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন চার জন। এর মধ্যে দু'জন কলকাতার, একজন পশ্চিম মেদিনীপুরের এবং একজন হুগলির বাসিন্দা। এদিন পজিটিভিটি রেট ছিল ১৭.৩৬% যা গত দু'দিনের চেয়ে সামান্য বেশি।


স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, যে গাণিতিক মডেল অনুসরণ করে তাঁরা করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি রণনীতি সাজান, সেই মডেল সংক্রমণের হার ('আর ভ্যালু'), সুস্থতার হার এবং টিকা নেওয়া মানুষের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে পূর্বাভাস দিচ্ছে, এ বারে খুব বাড়াবাড়ি করবে না কোভিড। প্রথম ঢেউয়ে সর্বোচ্চ দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪,১৫৭। সেই সংখ্যাও এবার টপকানোর আশঙ্কা কম বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যভবনের জনস্বাস্থ্য বিভাগের কিছু আধিকারিক। তাঁদের দাবি, ''সাধারণত এক-একটি ঢেউ চড়াইতে ওঠে ছ' সপ্তাহ ধরে। সেই হিসেবে জুনের প্রথম সপ্তাহে শুরু চতুর্থ ঢেউয়ের ঊর্ধ্বগতিও প্রায় থামার কাছে।''

অবশ্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাফ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মানুষের আচরণ যদি বেপরোয়া হয়, তা হলে কিন্তু এই গাণিতিক মডেল মিলতে না-ও পারে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রথম তিনটি ঢেউয়ের সময়ে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, এখন তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। এই প্রবণতা আখেরে বিপদ ডেকে আনতে পারে। মানুষ করোনা বিধি না মানলে কিন্তু করোনার প্রকোপ কমার বদলে বেড়ে যেতেও পারে। নিদেনপক্ষে, তার কমে আসার প্রবণতাও বেশ শ্লথ হয়ে উঠতে পারে।