গর্বিত তামিমের ভাবনাজুড়ে বিশ্বকাপ

ওয়ানডেতে স্বপ্নের ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। এখনও কোন বৈষয়িক শিরোপা জেতা হয়নি। একটি মাত্র ট্রাই নেশন ট্রফি। পঞ্চাশ ওভারের ফরমেটে টাইগারদের এভাবে বিচার করার সুযোগ নেই। দুটি এশিয়া কাপের ফাইনাল, একটি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল, র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিকে পেছনে ফেলা, টানা ছয়টি দিপক্ষীয় সিরিজ জয়- মাশরাফি বিন মর্তুজার অধীনে এ সবই দেখেছে বাংলাদেশ। ম্যাজিশিয়ান ম্যাশের হাত ঘুরে নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড এখন তামিম ইকবালের বাহুতে। খান সাহেবকে পাল্লায় তোলার সময় হয়নি। তবে, টেস্ট ও টি২০তে দল যেখানে হালে পানি পাচ্ছে না, সেখানে ওয়ানডেতে সাফল্যের ধারা এখনও অব্যাহত। সুপার লীগে ১৮ ম্যাচের ১২টি জিতে সরাসরি আগামী বছরের বিশ্বকাপের টিকেট অনেকটাই নিশ্চিত। উইন্ডিজে টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ বগলদাবা করা অধিনায়ক ওয়ানডের এই দল নিয়ে গর্বিত। ২০২৩ বিশ্বকাপ সিনিয়রদের জন্য বড় সুযোগ বলে মনে করছেন তিনি।

‘মনে রাখতে হবে এটা (ওয়ানডে) এমন একটা ফরমেট, যেখানে আমাদের গর্ব করার মতো অনেক কিছু আছে। আমরা এই ফরমেটে অনেক ভাল দল, কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যত ভাল খেলি না কেন, নির্দিষ্ট দিনে সব দিক থেকেই ভাল খেলতে হবেÑ এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সবাই সামনের দিকে তাকিয়ে, শুধু আমি নই, সবাই জাতীয় দলের হয়ে দেশের জন্য খেলছে।’

টেস্ট ও টি২০তে বিধ্বস্ত দলকে চাঙ্গা করার জন্য ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেই কথাগুলো বলছিলেন তামিম। প্রতিটা বাক্য এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য! গর্বের ফরমেটে ঠিকই উড়েছে লাল-সবুজের পতাকা। ৬ ও ৯ উইকেটে জয়ের পথে টানা দুই ম্যাচে উইন্ডিজকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। আগামী বছর ভারতে বিশ্বকাপ। এই সিরিজ দিয়ে দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তামিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুরের মতো সিনিয়রদের জন্য এটাই হতে পারে শেষ অধ্যায়, ‘২০২৩ বিশ্বকাপ সম্ভবত আমাদের সবার জন্য সবচেয়ে বড় ইভেন্টের একটি হবে। বিশেষ করে আমাদের চারজনের, (আমি, সাকিব, মুশফিক এবং মাহমুদউল্লাহ) যাদের সম্ভবত সেখানেই শেষ হবে (ক্যারিয়ার)। আমাদের সম্ভাব্য সর্বোত্তম সমন্বয় তৈরি করতে হবে এবং দল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’ তামিমের নেতৃত্বে  এ নিয়ে চলতি বছরই পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা চতুর্থ সিরিজ জয়। ম্যাচের হিসাবে দশে-দশ।

এমন একটা দল নিয়ে অধিনায়ক বড় স্বপ্ন দেখতেই পারেন, ‘আমরা টেস্ট ও টি২০ সিরিজ হেরেছিলাম। ড্রেসিংরুমে কেউ ভাল অবস্থায় ছিল না। সবাই জিততে চেয়েছে (ওয়ানডে)। এই ফল তাই আনন্দ দিচ্ছে।’ প্রতিপক্ষ যেমনই হোক, সাফল্য সব সময় উপভোগ করা উচিত বলেও মনে করেন তামিম, ‘আপনি যার সঙ্গেই জেতেন না কেন- ইংল্যান্ড বলেন, নিউজিল্যান্ড বলেন, জিম্বাবুয়ে বলেন, হয়তো বা র‌্যাঙ্কিয়ে ওপর-নিচে থাকে, আমাদের কিন্তু অনেক কষ্ট করা লাগে।  যে সেঞ্চুরি করে বা যে পাঁচ উইকেট পায় তারও কষ্ট করা লাগে।

আমার কাছে মনে হয়, প্রত্যেকটা জয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ জিতে আমাদের  যেভাবে উদ্যাপন করা উচিত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে বা অন্য কোন টিমের সঙ্গে জিতলে একইভাবে উদ্যাপন করা উচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটাই এমন যে, আপনাকে জয়  কেউ উপহার দেবে না। জয়ের জন্য জন্য যুদ্ধ করতে হবে।’ সাকিব, মুশফিক, ইয়াসির আলির মতো তিন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে এই সাফল্য সামর্থ্যরে স্বাক্ষর রাখে, এমনটাই বিশ্বাস তামিমের। সিরিজ নিশ্চিত। শনিবার আনুষ্ঠানিকতার শেষ ওয়ানডেতে রিজার্ভ বেঞ্চ বাজিয়ে দেখতে চান অধিনায়ক, ‘সাধারণত যখন পয়েন্টসের হয়, তখন সুযোগ থাকে না। কিন্তু এখন এ রকম একটা সিরিজে যখন আপনি ২-০তে জিতে যান, তখন যারা খেলেনি বা দীর্ঘদিন ধরে আমরা যাদের নিয়ে ঘুরছি, তাদেরকে সুযোগ দেয়া উচিত। এ জন্য যদি আমাকে এক ম্যাচ মিস করতে হয় তবু ঠিক আছে। শেষ ম্যাচেই হয়তো এমনটা দেখতে পারেন।’

এর মধ্য দিয়ে ৩১তম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টানা চার ওয়ানডে সিরিজ জয়। দুই দল ১১তম দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতল ছয়টি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাঁচটি। এতদিন পাঁচটি সিরিজ জিতে সমঅবস্থানে ছিল দুই দল। এবার পাল্লা একটু ভারি হলো টাইগারদের। বাংলাদেশ ছয়টি সিরিজের মধ্যে তিনটিই জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে, তিনটি ঘরের মাটিতে। ২০০৯ সালে সাকিবের নেতৃত্বে, ২০১৮ সালে মাশরাফি এবং ২০২২ সালে তামিমের নেতৃত্বে। সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের ৩১তম ওডিআই সিরিজ জয়।

শুধু তা-ই নয়, ক্যারিবিয়ীদের বিপক্ষে এ নিয়ে টানা ১০টি ওয়ানডে ম্যাচ জেতারও কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এমন রেকর্ড। উইন্ডিজের বিপক্ষে সব মিলিয়ে ৪৩ দেখায় ২০তম ওয়ানডে ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। এর চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৫০টি ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড আছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে দেশের ইতিহাসে ৩৯৮টি ওয়ানডেতে ১৪২তম জয়।

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।