বিনোদন অঙ্গন নির্বাচনে সরগরম

এ মুহূর্তে দেশি বিনোদন মিডিয়া সরগরম নির্বাচন নিয়ে। সিনেমা এবং নাটক-দুই মাধ্যমের অভিনয় শিল্পীদের দুই সংগঠন ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’ ও অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচন একই দিন, ২৮ জানুয়ারি। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে এফডিসিতে। অন্যটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। দুই সংগঠনেই বিভিন্ন পদে নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারকাশিল্পীরা। তাদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ ও সদস্যদের কল্যাণে কী কাজ করবেন, এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৩০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

এ মুহূর্তে দেশি বিনোদন মিডিয়া সরগরম নির্বাচন নিয়ে। সিনেমা এবং নাটক-দুই মাধ্যমের অভিনয় শিল্পীদের দুই সংগঠন ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’ ও অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচন একই দিন, ২৮ জানুয়ারি। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে এফডিসিতে। অন্যটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। দুই সংগঠনেই বিভিন্ন পদে নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারকাশিল্পীরা। তাদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ ও সদস্যদের কল্যাণে কী কাজ করবেন, এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

প্রথমত ভেবেছিলাম আমি এ সংগঠনটির সঙ্গে শুধু সদস্য হিসাবেই থাকব। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখলাম আমাদের যে দায়িত্বশীল মানুষগুলো যাদের আদর্শ নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই, তাদের কাজগুলো আদর্শিক মনে হচ্ছে না এখন। কাকে অনুসরণ করব! তাদের কাজকর্মের মধ্যে কেমন যেন বৈষম্যমূলক আচরণ মনে হয়েছে। শিল্পী সংঘের অধিকাংশ শিল্পী হচ্ছেন মঞ্চের কর্মী। শিল্পীরা নানা কারণে বৈষম্যের শিকার। গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে চারটি মূল নীতি আছে, অভিনয়শিল্পী সংঘের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সেভাবে দেখছি না। অনেক অগ্রজ শিল্পী উদ্বুদ্ধ করার কারণেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। এ ছাড়া আমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গে কাজ করি। সে অভিজ্ঞতা এখানে প্রয়োগ করার সুযোগ থাকবে। - সভাপতি প্রার্থী

আমি দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় করছি। নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি অভিনয়শিল্পীদের অধিকার, দাবি আদায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। এগুলো আদায়ের পাশাপাশি শিল্পীদের জন্য কাজ করার মনোবাসনা নিয়েই লড়ছি। নির্বাচিত হওয়ার পর এ শিল্পটাকে যেন আমরা পেশা হিসাবে নিতে পারি সে ক্ষেত্রে সব শিল্পীর সঙ্গে এবং আন্তঃসংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি সম্মানজনক জায়গায় শিল্পীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করব। কাজের নিরাপদ পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি প্রতি মাসেই যেন অসহায় ও সমস্যাপীড়িত শিল্পীদের সাহায্য সহযোগিতা করা যায় এমন একটি ফান্ড চালু করার পরিকল্পনা আছে আমার। সংগঠন কতৃক প্রণীত নিয়মকানুন শিল্পীরা যাতে অনুসরণ করেন, সেটাকেও অগ্রাধিকার দেব। নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে শিল্পীদের উন্নয়নে যেন অবদান রাখতে পারি, এ বিষয়টি নিয়েও আমার কাজ করার ইচ্ছা আছে। তাই নির্বাচনে যারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, তাদের সবার প্রতি অনুরোধ যোগ্য প্রার্থীকেই নির্বাচিত করা উচিত। -সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী

অভিনয় শিল্পী হিসাবে সবার কাছে আমার একটি পরিচিতি আছে। তা ছাড়া সাংগঠনিক কাজের প্রতিও এক ধরনের আকর্ষণ ছিল। এ জন্য আগে থেকেই এ সংগঠনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। পদ পদবির জন্য আমি কখনোই ভাবিনি। তবে সিনিয়ররা সব সময় আমাকেই এ সংগঠনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। তাই আগের কমিটিগুলোতেও দায়িত্ব পালন করেছি। অভিনয় পেশাটা এখনো সুরক্ষিত নয়। অনেক সমস্যা আছে এ অঙ্গনে। এগুলো নিয়ে কাজ করার ও ভাবার সময় এসেছে। আগের চেয়ে অভিনয়ে তরুণ আসছেন। তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার জন্য অনেক কাজ বাকি আছে। সে বিষয়গুলো সামনে রেখেই এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। জয় কিংবা পরাজয় যে কোনোটাই ঘটতে পারে। কিন্তু যদি পরাজিতও হই তাহলে অন্তত নিজের কাছে সান্ত্বনা দিতে পারব যে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব। - সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী

আমি সর্বশেষ মেয়াদেও সভাপতি ছিলাম। করোনা মহামারির জন্য আমরা অনেক কাজ নির্দিষ্ট সময়ে করতে পারিনি। প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে সেগুলো শেষ করা। এমনিতে করোনায় আমরা অসহায় শিল্পীদের জন্য কী করেছি সেটা দেখেছেন এবং জানেন। আমার সেক্রেটারিকে নিয়ে করোনায় মারা যাওয়া শিল্পীকে দাফনও করেছি। আমি তৃপ্ত কাজটি করে। কারণ একজন্য শিল্পীর শেষ বিদায়েও পাশে থাকতে পেরেছি এটার সবচেয়ে বড় পাওয়া। - সভাপতি প্রার্থী

দীর্ঘদিন ধরে আলাপ-আলোচনা করেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার সমসাময়িক তো বটে, বিশেষ করে এ সময়ে যারা কাজ করছে তারাও আমাকে বেশ উৎসাহ দিয়েছে। প্রযোজক, নির্মাতা, ক্যামেরাম্যান, নাচের অ্যাসোসিয়েশন ও ফাইটার গ্রুপ, মেকআপম্যান গ্রুপ সবাই বলেছেন নির্বাচনে অংশ নিতে। এত মানুষের ভালোবাসা ফেলে দিতে পারি না। তাদের প্রতি ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকেই শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এ ছাড়া ভিন্নভাবেও বিষয়টি আমি দেখছি। জীবন একটাই। এ একজীবনে আমি যেখান থেকে ইলিয়াস কাঞ্চন হয়েছি সেটার জন্য কিছুই করলাম না, এ আফসোস যেন না থাকে, এটা ভেবেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তাই চেষ্টা করে দেখি, আগামী দুই বছর চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করতে পারি কিনা। আমার বিশ্বাস, সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে কিছু একটা হবে। এফডিসিতে শিল্পীদের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা বেশি প্রয়োজন। শিল্পীরা সরকারের অনুদান নয়, কাজ করে সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান-এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাব। - সভাপতি প্রার্থী

গত দুই মেয়াদেই আমি শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। কতটুকু কী করেছি তা সবাই জানেন। সবচেয়ে বড় কথা পদে থাকলেও আমি সবার মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত আমি নেইনি। গতবার আমরা নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তার বেশিরভাগই পূরণ করেছি। করোনা মহামারিতে অসহায় শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে পোরেছি এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। বর্তমানটা আমার কাছে জরুরি। এবারও যদি নির্বাচিত হই তাহলে প্রথমেই ভূমিহীন শিল্পীদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করার কার্যক্রম গ্রহণ করব। এটার বাস্তবায়ন করা আমার মূল লক্ষ্য। শিল্পী সমিতির লক্ষ্য কিন্তু চলচ্চিত্রের উন্নয়ন নয়, শিল্পীদের উন্নয়ন। শিল্পীদের নানা সংকটে ও শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষায় শিল্পী সমিতি পাশে থাকবে, এটাই। আমরা অতীতেও ছিলাম, কথা দিচ্ছি ভবিষ্যতেও থাকব। - সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী

আমি মনে করি শিল্পীদের সংকট মোকাবিলায় শিল্পী সমিতির অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়েও এ সংগঠন কাজ করতে পারে। তাই শিল্পী সমিতির সব দিকেই নজর রাখতে হবে। এই নজর রাখার কাজটি এতদিন ঠিকভাবে হয়নি বা হচ্ছে না বলে আমি মনে করি। এ জন্য আমি চিন্তা করেছি, শিল্পী তথা চলচ্চিত্র শিল্পের মানোন্নয়নে কিছু করব। সে লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচিত হলে আমি কমিটির সবার সহযোগিতায় চলচ্চিত্রের শিল্পীদের অনুদানের টাকায় নয়, কাজের ব্যবস্থা করে দিয়ে আর্থিকভাবে উন্নয়নের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব। শিল্পীদের আত্মমর্যাদা আছে। সেটার প্রতি সম্মান জানিয়েই তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাব। পাশাপাশি শিল্পীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও বিবাদ দূর করে কাজের পরিবেশ তৈরি করব। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্রবান্ধব। তাকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এফডিসিতে নিয়ে আসার চেষ্টা করব। তিনি যাতে স্বচক্ষে আমাদের কর্মকাণ্ড দেখতে পারেন। আমি মনে করি মানুষ চেষ্টা করলে সব পারে। আমরা শিল্পী সমিতির উদ্যোগে বছরে কিছু সিনেমা নির্মাণের চেষ্টা করব।

আমি দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। এ সময়টায় অনেক কাজ করেছি। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি এর পরিধি দিন দিন বড় হচ্ছে। শিল্পীদের কল্যাণের জন্য অনেক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে করোনার কারণে আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা হয়েছে। তারপরও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করার জন্য। এ সময়ের মধ্যে শিল্পীদের কল্যাণ ট্রাস্ট করেছি। যেখানে বেশ কিছু সরকারি অনুদান পাওয়া গেছে। এ ফান্ডটা আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা আছে আমার। পাশাপাশি অভিনয়শিল্পীদের কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য কিছু কর্মপরিকল্পনা হাতে নেব। যার মধ্যে থাকবে শিল্পীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ও। সরকারিভাবে এ কাজটি করার জন্য আমি চেষ্টা চালাব, যদি নির্বাচিত হতে পারি। গত দুই মেয়াদে যদি ভালো কিছু করে থাকি তার জন্য অবশ্যই শিল্পীরা আমাকে ভোট দেবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমি মনে করি আগের চেয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘ এখন অনেক সক্রিয় কাজকর্ম নিয়ে। করোনাকাল না থাকলে বিগত দুবছরে আরও অনেক কিছুই দৃশ্যমান হতো। তবে আশার কথা হচ্ছে শিল্পী সংঘের সঙ্গে শিল্পীদের যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।