জিম্বাবুয়ের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ক্লুজনার | স্পোর্টস | দেশ রূপান্তর

প্রথম ম্যাচে দাপুটে ব্যাটিং। পাওয়ার হিটিং নিয়ে বাংলাদেশের যে আক্ষেপ, তাতে যেন আরও ঘি ঢেলে দিয়েছিলেন সিকান্দার রাজা। তবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেই আবার ছন্দ পতন। মোসাদ্দেক হোসেনের স্পিন ঘূর্ণি সামলাতেই যেন হিমশিম খাচ্ছিলেন টপ অর্ডাররা। ব্যাটারদের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সে বিষন্ন জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং কোচ ল্যান্স ক্লুজনার। তবে এখনই তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান না। বরং জিম্বাবুয়ের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।

রবিবার হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং সিরিজে সমতায় ফিরতে সাহায্য করেছে টাইগারদের।

মাত্র ৭ ওভারের মাথাতেই আউট হয়ে যান স্বাগতিকদের টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটার। তবে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ফর্মে থাকা সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্লের ৮০ রানের জুটি ১৩৫ রানে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। যদিও জয়ের এই সংগ্রহ যথেষ্ট ছিল না।

শুরুর দিকে একাধিক উইকেট পতনের পর কেন স্বাগতিকরা রক্ষণাত্মকভাবে ব্যাটিং করলো না? এমন প্রশ্ন উঠতেই ব্যাটিং কোচ ল্যান্স ক্লুজনার জানালেন তারা আক্রমণাত্মকই থাকতে চেয়েছিলেন।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শেষে ক্লুজনার বলেছিলেন, ‘আমরা যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে খেলে আসছি, সে ধারার পরিবর্তন করতে চাই। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ’।

এসময় ক্লুজনার বলেন, একটি দল হিসেবে আমরা বা ব্যাটিং কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো থেকে বিরত থাকব। মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে ১৫ রানে গিয়ে চতুর্থ উইকেট পতন হচ্ছে। সেখানে ৩ উইকেটে ১০০ রানও হতে পারতো। আমি মনে করি ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের উজ্জ্বল দিকগুলো দেখতে হবে। আমি মনে করি আমাদের প্রতিভাবান ব্যাটার আছে।

ক্লুজনার বলেন, ইতিবাচক থাকার অর্থ এই নয় যে, ‘উইকেটে রান করা এবং প্রতিটি বলে ছক্কা মেরে ফেলা’। তাছাড়া রক্ষণাত্মক ব্যাটিং আমাদের জন্য দ্রুত উইকেট হারানো থেকে বাঁচার বিকল্প নয়। খেলোয়াড়দের আমরা বলেছি তারা যেন স্ট্রাইক রেটের দিকে নজর রাখে। কোনো ঝুঁকি না নিয়েই তারা ওভারে সাত রান করতে পারে। আমরা একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে চাচ্ছি। কারণ সামনে বিশ্বকাপ, সেখানে অন্য দলগুলো যেভাবে খেলছে আমরা সেভাবেই খেলার চেষ্টা করছি।

ইতিবাচক হওয়ার কথা জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং কোচ বলেন, ‘আমরা সবাই ইতিবাচক হতে চলেছি এবং আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছি। আপনি যদি বিশ্বের অন্যান্য দলগুলোর দিকে তাকান তবে দেখবেন তারাও এভাবেই খেলে’।

ক্লুজনার যোগ করে বলেন, ‘ওপেনার রেগিস চাকাবা ফর্মহীন। তবে তাকে নিয়ে এখনই চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা তাকে নিয়ে কাজ করছি। আগ্রাসন ও সতর্কতার মাঝে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছি’।

তবে ধৈর্য ধরতে হবে জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন এই ক্রিকেটার বলেন, ‘রেগিস অতীতে যেভাবে খেলেছে তাতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি আমরা। তাকে আরও ইতিবাচক দেখতে চেয়েছিলাম। পাওয়ার প্লেতে ইতিবাচক থেকে দ্রুত আরও বেশি রান কিভাবে তোলা যায় সেজন্য আমরা কাজ করছি। আমি মনে করি আমরা বুলাওয়েতে এর ঝলক কিছুটা দেখেছি’।