কোনাপাড়া-মানিকদিয়া সড়কে বিনোদন পিয়াসী মানুষের ঢল

রাজধানীতে নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ নেই বললেই চলে। ঈদ বা কোনো বিশেষ দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ একটু আনন্দ উদযাপনের অনুষঙ্গ খোঁজে। বিনোদন পিয়াসী এমন হাজার হাজার মানুষের মেলা বসেছে যেন রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া-মানিকদিয়া সড়কে।

ডেমরার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সোজা উত্তর দিকে সবুজবাগের মানিকদিয়ার দিকে চলে গেছে সড়কটি। প্রায় তিন কিলোমিটার এ সড়কের দুপাশে জলাশয় ও ধানক্ষেত। এর ফাঁকে ফাঁকেই গড়ে উঠেছে ছোট ছোট বিনোদন স্পট।

বুধবার (৪ মে) বিকেল ৫টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে মানিকদিয়া সড়কে মুখে তীব্র যানজট। কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই, যে যেভাবে পারছেন এলোমেলো প্রাইভেটকার, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ঢুকিয়ে বসে আছেন।

যানজট পেরিয়ে সামনে যেতেই সরু সড়কের দুপাশে মানুষের সারি। কিছুদূর যেতেই আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের আবাসন প্রকল্প এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘মিনি কক্সবাজার’। বালি ফেলে বিস্তীর্ণ জলাশয় অনেকটা ভরাট করা হয়েছে। বালি-পানিতে মিলে কক্সবাজার সৈকতের আবহ এসেছে সেখানে।

বিকেলে গিয়ে দেখা গেলো, সেই বালুময় প্রান্তর হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর। আশপাশের এলাকাগুলো থেকে মানুষ পরিবার নিয়ে এসেছেন ঈদের ছুটিতে একটু মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে।

মো. আনোয়ার ডেমরার ডগাইর থেকে দু-বছরের শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আশেপাশে কোথাও ঘোরার মতো জায়গা নেই। আমি একটি দোকানের ম্যানেজার। ঈদে কয়েকদিন ছুটি পেয়েছি। কত আর বাসায় বসে থাকা যায়। তাই একটু বের হলাম। কিন্তু এখানেও মানুষের ভিড় খুব বেশি।’

এখানে নাগরদোলা-দোলনাসহ আরও বিভিন্ন ধরনের রাইড রয়েছে। এর বিপরীত পাশে পানির উপর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গ্রিন প্যালেস রেস্টুরেন্ট। এখানে নৌকায় ওঠারও ব্যবস্থা আছে। এ সড়ক ধরে মানিকদিয়ার দিকে গেলে ধার্মিক পাড়ায় রয়েছে শুভ ফ্যান্টাসি টয় ওয়ার্ল্ড। সামনে গিয়ে দেখা গেলো সড়কের পাশে খোলা জায়গা ঘিরে আরও কিছু রাইড স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে ছোট ছোট রেস্টুরেন্টও। সেগুলো ঘিরে মানুষের ভিড়।

তরুণ-তরুণীদের ভিড়ও সেখানে চোখে পড়ার মতো, রয়েছে শিশুরাও। মাতুয়াইল কেরাণীপড়া থেকে তিন বোন এসেছেন বেড়াতে। তারা সবাই শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে আসমা বেগম বলেন, ‘গত ঈদগুলোতে তো কোথাও যেতে পারিনি। এখন যে কোথাও গিয়ে একটু আনন্দ করবো, সেই জায়গাও সেই। আমাদের এ এলাকার কোথাও পার্ক নেই, যে সেখানে গিয়ে একটু বসবো। বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি। এখানকার অবস্থা যে ভালো তাও নয়।’

ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে বাবা-মা, স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে সপরিবারে এসেছেন নাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাড়ির কাছে তাই আসলাম। করোনার কারণে গত ঈদগুলো তো বাড়িতেই কাটাতে হয়েছে। সহসা তো অবসরও মেলে না। মুক্ত বাতাসে একটু ঘোরাফেরা করতে বের হলাম। কিন্তু এত ভিড় যে, মনে হচ্ছে হয়রানির মধ্যে পড়ে গেছি।’

একপর্যায়ে অটোরিকশা, রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও মানুষের চাপে সরু সড়কটিতে তীব্র জট লেগে যায়। এ জটে গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। অনেককে তাই হেঁটেই ফিরতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (৩ মে) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ঈদে ছয়দিনের ছুটি শেষে সরকারি অফিস খুলছে বৃহস্পতিবার (৫ মে)।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।