'আজ এই দিনটাকে মনের খাতায় লিখে রাখো' | বিনোদন | দেশ রূপান্তর

'তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে আমার মরণযাত্রা যেদিন যাবে', 'আজ এই দিনটাকে মনের খাতায় লিখে রাখো', 'আমি যে কে তোমার তুমি তা বুঝে নাও', ‘যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজে’, ‘আশা ছিল ভালোবাসা ছিল’, ‘মোর স্বপনের সাথি তুমি কাছে এসো’ - এ রকম বহু গান আছে, যার বেশির ভাগই শ্রোতাকে আজও দোলা দিয়ে যায়। 

আছে হিন্দি গানও। সেই তালিকায় রয়েছে ‘হামে তুমসে পেয়ার কিতনা’, ‘হামে অর জিনে কি’, ‘দেখা এক খাওয়াব’, ‘সাগার কিনারে’, ‘চেহরা হে ইয়া’, ‘ইয়ে দোস্তি’, ‘রিমঝিম ঘিরে সাওয়ান’সহ একগুচ্ছ গান। 

কেবল বাংলা বা হিন্দি নয়, তিনি গেয়েছেন মারাঠি, গুজরাটি, অসমিয়া, মালয়ালম, ওড়িয়া, ভোজপুরি ও কন্নড় ভাষায়। তিনি কিশোর কুমার। একজন সফল অভিনেতা, গায়ক, প্রযোজক, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। আজ তার ৯৩তম জন্মদিন।

কিশোর কুমারের চার অদ্ভুত কাহিনী রয়েছে, কিশোর কুমার ৪ আগস্ট ৪টার সময় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪র্থ সন্তান। তিনি জীবনে ৪টি বিয়ে করেছেনন, চলচ্চিত্র জীবনে ৪টি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

আইনজীবী কুঞ্জলাল গঙ্গোপাধ্যায় এবং গৌরী দেবীর ছোট ছেলে কিশোর কুমারের আসল নাম আভাস কুমার। তার জন্ম ১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট। ব্রিটিশ ভারতের সেন্ট্রাল প্রভিন্স বা আজকের মধ্যপ্রদেশের খন্ডোয়া অঞ্চলে। সেখানকার এক ধনী পরিবারের আইনজীবী ছিলেন কিশোরের বাবা কুঞ্জলাল।

কিশোর যখন ছোট, তার বড় ভাই অশোক কুমার তখনই হিন্দি সিনেমার প্রতিষ্ঠিত তারকা। অভিনয় শুরু করেছিলেন আর এক ভাই অনুপ কুমারও। অশোক চেয়েছিলেন তার ভাইটাও অভিনয় করুক। কিন্তু অভিনয় নিয়ে কিশোরের তেমন মাথাব্যথা ছিল না। তিনি ক্যারিয়ার শুরু করলেন বম্বে টকিজের কোরাস শিল্পী হিসেবে। বিনোদন দুনিয়ায় পা রেখে বড় দুই ভাইয়ের মতো নিজের নামটিও বদলে নিলেন। আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায় থেকে হলেন কিশোর কুমার।

১৯৪৬ সালে অশোক কুমারের ছবি ‘শিকারি’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হলো কিশোর কুমারের। তারপর ১৯৪৮ সালে ‘জিদ্দি’ ছবিতে প্রথমবার গাইলেন গান। রাজেশ খান্না, জিতেন্দ্র, দেব আনন্দ, অমিতাভ বচ্চনের জন্য গাইতেন তিনি। সলিল চৌধুরীর সংগীত পরিচালনায় ‘হাফ টিকিট’ ছবিতে নারী ও পুরুষ দুই কণ্ঠে গান করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

সংগীত ক্যারিয়ারে প্রায় আড়াই হাজার গান গেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে আট বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন এই শিল্পী।