ট্রেলারে আশা জাগাচ্ছে ‘কারাগার’ | বিনোদন | দেশ রূপান্তর

আবার আসছে চঞ্চল চৌধুরী চমক! ‘হাওয়া’র মাতম এখনো শেষ হয়নি। এরইমধ্যে নতুন রূপে হাজির চঞ্চল। এই রূপ ‘কারাগার’-এর। কেবলই ট্রেলার প্রকাশ হলো। আর তাতেই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা চারদিকে। সব শ্রেণির লোকের এমন প্রশংসা খুব কমই মেলে বাংলাদেশের শিল্পীদের। দিনে দিনে চঞ্চলকে ভক্তরা কিংবদন্তিই বলছেন। কিংবদন্তি হতে গেলে কি শুধুই বয়সের জন্য অপেক্ষা! নাকি নিজের কাজের ধারাটা আরও ওপরের দিকে নিয়ে যাওয়া। চঞ্চল যেন হতাশ করতে জানেন না। এত নতুন রূপে, নতুন অবয়বে, নতুন স্বরে আসাটা এ তল্লাটের অভিনেতাদের জন্য বিরল।

‘কারাগার’-এর চঞ্চল কথা বলছেন না। তাকে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তর্জমা করছেন তাসনিয়া ফারিণ। কিন্তু সোজা হৃদয়ে দাগ কাটতে কথা কী খুব জরুরি? তাহলে লালনের গান ভীনদেশিদের ভাবুক করে কেন? চঞ্চলের চরিত্রায়নেও একই মহিমা। কথা না বলেই তিনি যেন বলে গেলেন আড়াইশ বছর বেঁচে থাকা এক জেলখাটা আসামির বয়ান। ‘কারাগার’ আসছে ১৯ আগস্ট থেকে স্ট্রিমিং হবে কলকাতার নামকরা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইতে। নির্মাণ করেছেন ‘তকদীর’খ্যাত সৈয়দ আহমেদ শাওকী। ‘তকদীর’ দিয়ে সাওকী-চঞ্চল জুটি যে কারিশমা দেখিয়েছিলেন, তা যেন এবার আরও জমজমাট হতে চলেছে। ট্রেলার দেখলে তো তাই অনুমেয়। কিন্তু বাগড়া দিলেন চঞ্চল। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রেলার দেখে গল্প আন্দাজ করা যায়, অনেক সময় কিছুটা হলেও যায়। কিন্তু কারাগার-এর ট্রেলারে কী চমক অপেক্ষা করছে সেটি কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। আমার চরিত্রটির ভাষ্য, তিনি আড়াইশ বছর বেঁচে আছেন, এটা তো অবাস্তব। আসলেই কি অবাস্তব? সব জট খুলবে সিরিজটি দেখার পর।’

চঞ্চল চৌধুরীর দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে কত চরিত্র, কত গল্প বলেছেন দর্শকদের। কিন্তু কারাগার নাকি তার জীবনের অন্যকম কষ্টকর শ্যুটিং অভিজ্ঞতা। বললেন, ‘এর আগেও তিন বার জেলখানায় শ্যুটিং করেছি। আয়নাবাজী সিনেমার সময়ও একাধিক জেলে কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু এবার দীর্ঘতম জেলজীবন পার করেছি! আমার অংশের শ্যুটিংই হয়েছে ১৩-১৪দিন ধরে। এছাড়া পুরো সিরিজটি শেষ করতে আরও কিছুদিন শ্যুটিং করতে হয়েছে। এই লম্বা শ্যুটিং সিডিউলে আমাকে ওই একই জামা পরে থাকতে হয়েছে। শ্যুটিং করেছি পুরান ঢাকার কাশিমপুর কারাগারের পরিত্যক্ত রুমে। সেগুলো অসম্ভব নোংরা। আমরা শ্যুটিং করার জন্য কিছুটা পরিষ্কার করে নিয়েছি, তাও ওই অবস্থা।’

তবে অভিনেতার কায়িক পরিশ্রমকে কখনোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না এই মেধাবী অভিনেতা।

তিনি বলেন, ‘চরিত্রকে বাস্তবসম্মত করতে শত পরিশ্রম হলেও কখনো টুঁ শব্দ করি না। তবে তার জন্য গল্প হতে হবে সেই রকম। আর পরিচালক তার কাজটি কতটা জেনেবুঝে সততার সঙ্গে করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়কে প্রাধ্যন্য দিয়েই গল্প বাছাই করি। এজন্য আজকাল কাজও খুব কম করা হয়। ভালো গল্পের খুব অভাব, টিভিতে তো বাজেটেও স্বল্পতা। ওটিটিতে বাজেট বেশ ভালো। তাই আমাদের পরিশ্রমটা দর্শকের কাছে ধরা পড়ে।’ কিন্তু কারাগার তার কাছে আরও স্পেশাল। চঞ্চল বলেন, ‘এত দায়বদ্ধতা নিয়ে আগে কাজ করিনি। শুধু যে গল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা তা নয়, আমি যে চরিত্রটি করেছি সেটির প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে কী চরিত্র করেছি, কেন এই দায়বদ্ধতা সেটি এখনই বলতে চাই না। এটাই এই সিরিজের টুইস্ট। শুধু এটুকু বলি, কাজটি দেখার পর দর্শক বলবেন, এই গল্পটি কেন এত দেরি করে বলা হলো। এই গল্প ও চরিত্রকে আরও অনেক আগে দর্শকের সামনে নিয়ে আসা উচিত ছিল।’

কারাগার-এর অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সাওকী অসম্ভব মেধাবী একজন নির্মাতা। তারসঙ্গে প্রথম কাজ ‘তকদীর’ কতটা সুনির্মিত দর্শক দেখেছেন। ‘কারাগার’ করতে গিয়ে সাওকীকে আরও পরিণত, আরও গোছানো অবস্থায় পেয়েছি। দারুণ মেধাবী একটি টিম রয়েছে তার। আমরা অভিনয়শিল্পীরাও যার যার জায়গাতে শতভাগ চেষ্টা করেছি। অভিনয় কী করেছি জানি না, তবে প্রোডাকশনটি দর্শকের ভালো লাগবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’