নিজের মৃত্যুদিনের জন্যও গান লিখেছেন | বিনোদন | দেশ রূপান্তর

প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পাপিয়া সারোয়ার। আজ বাইশে শ্রাবণে তার গানের ব্যস্ততা রয়েছে। রবীন্দ্রসংগীত চর্চা ও তার রবীন্দ্র-ভাবনা নিয়ে এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

সত্যি বলতে, এখন আর বাইশে শ্রাবণ আলাদাভাবে ধরা দেয় না। গুরু দেবের গানই তো চর্চা করি। এত বছরের সাধনায় তার বসবাস আমার চিন্তা-ভাবনায়, মননে ও জীবনাচরণে। রবীন্দ্রনাথ আমার কাছে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয়। তাই আলাদা করে রবীন্দ্রজয়ন্তী কিংবা তার প্রয়াণ নিয়ে ভাবি না। বাইশে শ্রাবণে তিনি হইলোক ত্যাগ করেছেন, সেটা ভাবলে এখন আর কষ্টও লাগে না। পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে একটু একটু করে জানতে চেষ্টা করেছি। কিছুটা হয়তো বুঝতেও পেরেছি। তাতে মনে হয়েছে, তিনি মৃত্যুকে ভয় পেতেন না, মৃত্যুতে আর কষ্ট পেতেন না। জীবনে তো আর কম মৃত্যু দেখেননি! শুরু হয়েছিল মাত্র ১৩ বছর বয়সে মাকে বিদায় দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর বাবা, স্ত্রী, প্রিয় পুত্র, বন্ধুতুল্য ভাবিসহ অনেক আপনজনকে একের পর এক যেতে দেখেছেন। তাই একটা সময় তিনি লিখেছেন, তবু প্রাণ নিত্য ধারা, ..., আছে দুঃখ আছে মৃত্যু, তবুও শান্তি, তবুও আনন্দ, অনন্ত জাগে’; অর্থাৎ তিনি মৃত্যুকে এক আনন্দময় যাত্রা মনে করেছেন। তিনি থেকে যাবেন তার সৃষ্টি ও কর্মে।

এখন আর আগের মতো একের পর এক অনুষ্ঠান করতে ভালো লাগে না। আজ রাতে চ্যানেল নাইনে ‘তুমি রবে নীরবে’ নামে একটি রেকর্ডেড অনুষ্ঠান প্রচার হবে। তাতে থাকবে কবির গান ও কবিতা। কদিন আগেই শ্যুটিং করলাম। আর আজ লাইভ কয়েকটি গান গাইব চ্যানেল আইয়ে। ১১টা ৫ মিনিটে অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা।

আমরা গর্ব করে বলতে পারি, জীবনের এমন কোনো অনুভূতি নেই, এমন কোনো উৎসব-উপলক্ষ নেই, যা নিয়ে রবিঠাকুর গান রচনা করেননি। জন্মদিন নিয়ে অনেকেই গান লিখেছেন, কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে তিনি নিজের মৃত্যুদিনের জন্যও গান রচনা করে গেছেন। বিখ্যাত নাটক ‘ডাকঘর’-এর জন্য তিনি লিখেছেন ‘সমুখে শান্তি পারাবার, ভাসাও তরণী’। কিন্তু তিনি নিজেই আবার তার প্রিয় দুই শিষ্য শৈলজা রঞ্জন মজুমদার ও শান্তিদেব ঘোষকে বলে গিয়েছিলেন এই গান যেন তার জীবদ্দশায় কেউ না গায়। তার চাওয়া ছিল এই গান শান্তিনিকেতনে তার শ্রাদ্ধ বাসরে যেন গাওয়া হয়। সেই গানটিই আজ শোনাব দর্শদের।

রবীন্দ্রনাথকে মানুষ খুঁজে নেন আপন মহিমায়। তিনি হারিয়ে যাবেন না, যত দিন বাঙালির মনন বেঁচে থাকবে। এই সময়টা বড্ড অস্থির। জীবন অনিশ্চিত। তবুও কিন্তু বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্রনাথের চর্চা চলছেই। করোনার পর থেকে আমিও অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি নিয়মিত।