‘হাওয়া’র পর ‘ক্যাফে ডিজায়ার’ ও ‘শ্যামাকাব্য’ | বিনোদন | দেশ রূপান্তর

এ প্রজন্মের মেধাবী অভিনেতা সোহেল মন্ডল। প্রেক্ষাগৃহে চলছে তার অভিনীত আলোচিত সিনেমা ‘হাওয়া’। নতুন সিনেমা আসছে সামনে। সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

এক কথায় বলতে গেলে ‘হাওয়া’র জার্নি আমার আজীবন মনে থাকবে। দর্শকের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। ঢাকায় মোটামুটি সব হলই হাউজফুল যাচ্ছে। অগ্রিম টিকিট না কিনলে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না ছবির জন্য। আশা করছি ‘হাওয়া’ নিয়ে দর্শকের এই আগ্রহ আরও কয়েক সপ্তাহ থাকবে। এটি শুধু ‘হাওয়া’ টিমের জন্য নয়, বাংলা সিনেমার জন্যও অনেক বড় একটি সুসংবাদ। দর্শক হলে এসে এত আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশের সিনেমা দেখছেন, এটাই তো সবচেয়ে বড়প্রাপ্তি। আশা করছি আগামীতেও আমরা যে সিনেমাগুলো নিয়ে হাজির হব, দর্শকের এই আগ্রহ আরও ত্বরান্বিত হবে। আমি সব সময় দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি জানি, তারা ভালো জিনিস সব সময়ই গ্রহণ করেন। তাইতো ‘হাওয়া’র প্রচারণা আমরা শিল্পী-কলাকুশলীরা যতটা না করেছি, তার চেয়ে বেশি করেছেন দর্শক।

শুধু আমি নই, ‘হাওয়া’র পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন থেকে শুরু করে পুরো টিম সব সময় বলে আসছি, আমাদের সিনেমা দেখে আপনারা সমালোচনা করুন। যা থেকে আমরা কিছু শিখতে পারি, নিজেদের ভুলভ্রান্তি শুধরাতে পারি। কিন্তু সেই সমালোচনাটা হওয়া উচিত গঠনমূলক। যে সমালোচনা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কাউকে আঘাত করার জন্য, সেটি কিন্তু কারোরই কাম্য নয়। আবার ‘হাওয়া’ সংক্রান্ত কিছু সমালোচনা শোনা গেছে যেটির কোনো ভিত্তিই নেই। আমাদেরও দিনশেষে এগুলোতে মানসিক চাপ তৈরি হয়। কিন্তু কী করার আছে। সবাইকে মুখ বন্ধ রাখার ক্ষমতা তো আমাদের নেই। শুধু বলব, আমরা এখনো চাই সমালোচনা হোক, তবে সেটি যেন হয় গঠনমূলক।

সত্যি বলতে, শিল্পীর ক্ষুধা কিছুতেই মেটে না। সেটি হোক পুরস্কার, প্রশংসা কিংবা বক্স অফিস কালেকশন। তবে এগুলো শিল্পীকে একটি আনন্দময় জার্নি তৈরি করতে সহায়তা করে, নতুন কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা জোগায়। ‘তকদির’ ওয়েব সিরিজটি আমার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এটি দর্শকের ভালোবাসা তো পেয়েছেই, এবার সেই কাজের জন্য ওটিটি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন পেয়েও খুব ভালো লাগছে। পুরস্কার না পাই, আসাদুজ্জামান নূর, ইন্তেখাব দিনার, আশীষ খন্দকার, মনোজ প্রামানিকের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে মনোনয়ন পাওয়াটাও আমার কাছে এক ধরনের পুরস্কার।

অচিরেই চরকীতে আমার একটি সিনেমা মুক্তি পাবে। ‘ঊনলৌকিক’খ্যাত নির্মাতা রবিউল আলম রবির পরিচালনায় এ ওয়েব ফিল্মের নাম এখন পর্যন্ত ‘ক্যাফে ডিজায়ার’। নাম পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তরুণ অনেক চেনামুখ এতে কাজ করেছেন। রয়েছেন ইন্তেখার দিনার, সানজিদা প্রীতি, তমা মির্জা, শ্যামল মাওলা, খায়রুল বাশার, সারিকা সাবাহ, প্রিয়ন্তী উর্বি, ফারহানা হামিদসহ অনেকে। আশা করছি দর্শক খুব এন্টারটেইন হবেন। এছাড়া এখন রিহার্সেল করছি ‘শ্যামাকাব্য’ নামে একটি অনুদানের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের। নির্মাণ করবেন গুণী নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ। এই ছবিটি নিয়ে আপাতত এটুকু বলার অনুমতি পেয়েছি। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।