ন্যান্সিরর অতিথি আসিফ, তবে... | বিনোদন | দেশ রূপান্তর

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের দুই উজ্জ্বল তারকা আসিফ আকবর ও নাজমুন মুনিরা ন্যান্সির। এই জুটির কিছু গান এখনো দর্শকের হৃদয়ে গেঁধে আছে। একসময় দারুণ সখ্য ছিল তাদের। কিন্তু সেই গানের সূত্র ধরেই চলে যান একে অপরের বিরুদ্ধে। যেনতেন বিরুদ্ধাচরণ নয়, তা গড়ায় আইনি লড়াই পর্যন্ত। সেই মামলা এখনো চলমান। শুধু কি আইনি লড়াই? সামাজিক মাধ্যমে দুই শিল্পীর ভক্তরা মেতে ওঠেন বাগ্্্যুদ্ধে। বিশেষ করে আসিফ আকবরের পাঁড় ভক্তরা ন্যান্সিরকে সে সময় বাজেভাবে বুলি করছিল! কয়েক বছর ধরেই চলছে এ ঘটনা। হঠাৎ আসিফ আকবরের এক ফেইসবুক পোস্টে অবাক সবাই! ন্যান্সিরকে আলিঙ্গন করে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি। তবে এই ছবি পুরনো নয়। অতিসম্প্রতি ছবিটি তোলা। বিষয়টি বুঝতে আর বাকি থাকে না, ছবির সঙ্গে আসিফের লেখায়। তিনি লিখেছেন, ‘একটা ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম চারটা বছর। অবশেষে এলো সেই কাক্সিক্ষত ফোন। হ্যালো, বলতেই শুনলাম অনেক পছন্দের আদুরে কণ্ঠটি। “ভাইয়া, আমি ন্যান্সি বলছি...।” খুব ভালো লাগল ওর ফোনটা পেয়ে। দুনিয়ার সমস্ত অভিযোগ, অভিমান আমার বিরুদ্ধে, শুনে আরও ভালো লাগছিল। ন্যান্সি তো আমার ছোট, আমি তো বড়, তাহলে আমার মিনিমাম ভুলের ম্যাক্সিমাম শাস্তি হওয়া উচিত। নাজমুন মুনিরা ন্যান্সির কণ্ঠ আমাদের সম্পদ। আমাকে বলল, “ভাইয়া, আমি রাগ কমিয়ে ফেলেছি, আপনিও রাগ কমিয়ে ফেলেন।” সাথে সাথেই রাজি হয়ে গেলাম। অনেক দিন পর স্নেহের ন্যান্সিরর সাথে গল্পগানের আড্ডায় নিজেকে হালকা করে ফেলেছি। ভালো থাকো ন্যান্সি, আনন্দে বাঁচো। গান গেয়ে যাও, তোমার কণ্ঠ এ দেশের মানুষের একটা আনন্দময় ভালো লাগা, আমিও সেই দলের বাইরে নই। ভালোবাসা অবিরাম।’

আসিফের এই বার্তা পড়ে সবাই ভাবছেন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে দুই তারকা এক হয়েছেন। কিন্তু আসল ঘটনা খানিকটা আলাদাই। ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে ন্যান্সিরর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসিফ ভাইয়ের স্ট্যাটাসটা অতিসংক্ষেপে লেখা। তাই অনেক কিছুই হয়তো ভুলভাবে ধরা পড়েছে।’ তিনি জানালেন, ‘আসিফ ভাই আমাদের দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন শিল্পী। তাকে আধুনিক গানের যুবরাজ হিসেবেও মানি। একটা সময় তার সঙ্গে ভালো ভালো গান করেছি। তার স্নেহ পেয়েছি। সেই গান করতে গিয়েই শিল্পীর স্বার্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি বলে মনে হয়। তাই আমি নিজের জায়গাটা বুঝে পেতে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান করি। একটা সময় সেটি আইনি লড়াইয়ে রূপ নেয়। এই লড়াইয়ের জন্য আমাকে অনেক রকমের বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু আমি জানতাম, আমি সঠিক পথেই আছি। তাই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য আইনি লড়াইয়ে যাই। কিন্তু দিনশেষে আমরা একই অঙ্গনের সহকর্মী। তিনি আমার সিনিয়র শিল্পী। আমি তাই পেশাগত কারণ আর ব্যক্তিজীবনকে মিলিয়ে ফেলতে চাইনি। পেশাগত যে সমস্যাগুলো আছে, সেটা আলাদা জায়গায়। এ জন্য আমার বিয়েতেও আসিফ ভাইকে দাওয়াত দিয়েছিলাম, তিনি আসেননি। এবার আমার মেয়ের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে একেবারেই ঘরোয়া যে আয়োজনটি করি, সেখানেও তাকে আমন্ত্রণ জানাই। তিনি কী মনে করেছেন জানি না, এবার তিনি এলেন! শুধু তাই নয়, তার ব্যবহার ছিল খুবই আন্তরিক। ওই অনুষ্ঠানের জন্যই তাকে ফোন করেছিলাম এবং তিনি আমার অতিথি হয়ে এসেছিলেন।’ তিনি এ-ও বলেন, ‘তাকে নিয়ে আমার মনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, সেটি রয়ে গেছে। হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কমে যাবে। তবে আমি কখনোই চাইনি ব্যক্তিবিরোধ শিল্পের মধ্যে আসুক বা পরিবারে তার প্রভাব পড়ুক। আমার স্বামী প্রথম থেকেই বলে আসছেন, কোনো ঝামেলার দরকার নেই। জীবন অল্প দিনের, মৃত্যু হলেই সবকিছুর অবসান। বেঁচে থাকতেই সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকাটা সুখের। আমিও ভেবে দেখলাম তাই। আসিফ ভাইকে দুপুরে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। এক ঘণ্টা পর তিনিই কল ব্যাক করলেন। আমি কলটি ধরতেই ওপাশ থেকে বললেন, “ন্যানসিরে, জীবনটা কদিনের! তুমি ফোন দিয়েছ, আমি খুব খুশি।” এরপর অনেকক্ষণ কথা হলো।’

এখন আইনি লড়াইয়ের কী হবে? জানতে চাইলে ন্যান্সির বলেন, ‘সত্যি বলতে, আইনি লড়াই আমার হাতে নেই। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে রাষ্ট্র বাদী হয়ে মামলা করেছে। তাই মামলা আসিফ ভাইকে লড়তে হবে। তবে যে গানগুলো নিয়ে মামলা, তার ৫০ ভাগের কপিরাইট এরই মধ্যে আমার অধীনে চলে এসেছে। সেসব ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে।’