SSC: প্রাথমিকে নিয়োগ হচ্ছে না কেন? শিক্ষা অধিকর্তার কাছে হলফনামা তলব হাইকোর্টের

SSC: প্রাথমিকে নিয়োগ হচ্ছে না কেন? শিক্ষা অধিকর্তার কাছে হলফনামা তলব হাইকোর্টের

'বারবার আদালতকে রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে আনলে পদক্ষেপ করা হবে', হুঁশিয়ারি দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

অর্ণবাংশু নিয়োগী: রাজ্যে শূন্যপদ কত? হাইকোর্টে হলফনামা দিল শিক্ষা দফতর। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায়ের হুঁশিয়ারি, 'আদালতকে বারবার রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে আনলে পদক্ষেপ করা হবে'। প্রাথমিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া হচ্ছে না কেন? ১৭ অগাস্টের মধ্যে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন রাজ্যের শিক্ষা অধিকর্তাকে।

কেন এই হলফনামা? রাজ্য়ে শিক্ষক নিয়োগে 'দুর্নীতি'। মামলা চলছে হাইকোর্টে। সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, এমনকী, নিজে কানেও শুনেছি যে, রাজ্যে নাকি ১৮ হাজার শূন্য় পদ তৈরি হয়েছে। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের কারণে চাকরি দেওয়া যাচ্ছে না'। সরকারি আইনজীবীর কাছে জানতে চান, 'রাজ্যে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, নবম-দশম শ্রেণি ও মাদ্রাসা, কোথায় কত শূন্য পদ তৈরি হয়েছে? আদালতের কোনও রায়ের জন্যই চাকরি দেওয়া হচ্ছে না'? মৌখিক উত্তর নয়, শিক্ষা দফতরকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

শিক্ষা দফতরের হলফনামায় উল্লেখ, মাধ্য়মিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও প্রধানশিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রাথমিকে ৩ হাজার ৯৩৬টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি এখনও। কেন? রাজ্যের শিক্ষা অধিকর্তার কাছে হলফনামা তলব করেছে হাইকোর্ট।

এদিন শুনানিতে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায় বলেন, 'একজন বলছেন, ১৮ হাজার শূন্যপদ আছে। আদালতের নির্দেশের কারণে নিয়োগ করা যাচ্ছে না। যিনি এটা বলছেন, তিনি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আমি জানতে চাই, সেটা আদালতের কোন নির্দেশ'? সরকারি আইনজীবী বলেন, 'নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথে আদালতের নির্দেশের কোনও বাধা নেই'। এরপর বিচারপতি হুঁশিয়ারি দেন, তাহলে কেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলছেন, আদালতের জন্য নিয়োগ বন্ধ। এই ধরনের মন্তব্য করার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বারবার আদালতকে রাজনীতি ময়দানে নামিয়ে আনলে পদক্ষেপ করা হবে'। 

এর আগে, একুশের জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন, 'রাজ্যে ১৭ হাজার শিক্ষকের পদ তৈরি হয়ে আছে। কিন্তু হাইকোর্টে মামলা চলছে। তাই চাকরি হচ্ছে না'। এমনকী, বাম আমলে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।