“যখন আমার আব্বাকে গুলি করল, আমার মা কিন্তু জীবন ভিক্ষা চায়নি,” বলেন শেখ হাসিনা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব যে ত্যাগ ও সাহসের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা দেশ-বিদেশের বহু নারীর জন্য ‘অনুসরণীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমার বাবার পাশে থেকে থেকে যেভাবে তিনি (বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব) সাহস দেখিয়েছেন, আমি মনে করি আমাদের দেশের মেয়েরা শুধু না, পৃথিবীর অনেক মেয়েরাই তার জীবনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারবে, যে একজন মানুষ তার জীবনের সব কিছু ত্যাগ করেছেন একটি জাতির স্বাধীনতার জন্য, একটি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য।”

রোববার ‘বঙ্গমাতা: এ প্যারাগন অব উইমেনস লিডারশিপ অ্যান্ড নেশন-বিল্ডিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও ফজিলাতুন নেছা মুজিবের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট তখনকার রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার স্ত্রীসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে একদল ঘাতক। সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান কেবল শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঘাতক কারা? এরা তো আমাদের বাসায় অহরহ যেত। আমার মা সবাইকে আপ্যায়ন করত। তারা ঘাতক হয়ে এল।”

বঙ্গমাতার সাহসিকতা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “যখন আমার আব্বাকে গুলি করল, আমার মা কিন্তু জীবন ভিক্ষা চায়নি। এই পরিস্থিতিতে সাধারণত মানুষ নিজের জীবন ভিক্ষা চায়। আমার মা ভিক্ষা চায়নি। মা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, উনাকে যখন হত্যা করেছ, আমাকেও হত্যা কর। তখন ঘাতকের বুলেট তাকে কেড়ে নেয়।”

বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে বঙ্গমাতার ভূমিকার কথা তুলে ধরে তাদের মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সংসারের ব্যাপারে, রাজনীতির ব্যাপারে, প্রতিটি ব্যাপারে তিনি যে সিদ্ধান্ত যখন দিয়েছেন, সেটা যে আমাদের দেশের জন্য কতটা সঠিক,… আর শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনটাও দিয়ে গেলেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মায়ের জীবনে কোনো চাওয়া পাওয়া ছিল না। তিনি নিজের জন্য কোনোদিন কিছু চাননি। আমরা শুনিনি আমার আম্মা কোনো আবদার করেছেন।”

দেশের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন কারাগারে। সেই সময়টায় সংসার সামলানোর পাশাপাশি দলের আওয়ামী লীগের অনেক বিষয়েও ভূমিকা রাখতেন শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব।

ওই পুরোটা সময় যে মনোবল তিনি দেখিয়েছেন, তা তুলে ধরে তার মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যখন বন্দি করে নিয়ে গেল সেই ১৮ নম্বর রোড বর্তমানে যেটা ৯/এ, ২৬ নম্বর বাড়ি একতলা একটা বাড়ি তার মধ্যে বন্দি করে রেখেছিল। মাটিতে আমাদের থাকতে হত, ফ্লোরে কোনো কম্বল ছিল না। কোন কিছু ছিল না। ২৪ ঘণ্টা আমরা কোনো খাবার পাইনি। আমার মাকে কোনদিন আমরা ভেঙে পড়তে দেখিনি।”

সংগ্রামে এবং জাতির ক্রান্তিকালে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে তাকে সাহস ও পরামর্শ যোগানোর ভূমিকাতেও শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব অবিচল ছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

জাতি গঠনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ‘অবদান ও জীবন দর্শন’ নিয়ে দু দিনের আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ।

৮ অগাস্ট সোমবার বঙ্গমাতার জন্মদিন সামনে রেখে রোবাবর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন।

বাংলা একাডেমির সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর পরিচালক অধ্যাপক তানিয়া হক।

১৭ অগাস্ট প্রতিবেদন জমার পূর্ব নির্ধারিত তারিখে জমা দিতে না পারায় ২ অক্টোবর দিন রেখেছিল আদালত।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব, বলেছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।