স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে চিকিৎসক নিগ্রহ নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত

সংক্ষিপ্ত

দায় বর্তায় চিকিৎসকের ওপর, যেটা একেবারেই অনৈতিক। তাই জীবনদায়ী ওষুধ থেকে স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যার অপ্রতুলতার দায় চিকিৎসকদের নয় বলে বৈঠকে দাবি করা হয়েছে।

জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরসের পক্ষ থেকে নবান্নে সভাগৃহে বৈঠক করা হয়। একাধিক সিদ্ধান্ত সেই বৈঠকে গৃহীত হয়েছে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক এই বৈঠকে স্থির করা হয়েছে রুগী রেফার করা থেকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার মত ইস্যুর সমাধান বের করা প্রয়োজন। বুধবার একটি প্রেস রিলিজ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়েছে চিকিৎসক সমাজের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সরকারি চিকিৎসকদের নানা রকম সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়।

নানা স্তরের হাসপাতালে যে পরিকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম,ওষুধপত্র থাকার কথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন নয়। প্রায় সব হাসপাতালেই প্রশিক্ষিত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক- স্বাস্থ্যকর্মী নেই। চুক্তির স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়েই সরকারি হাসপাতাল চালানো হচ্ছে। ফলে চিকিৎসকরা বহু ক্ষেত্রেই বাধ্য হন রুগী রেফার করতে। এরপরেই আসে চিকিৎসক নিগ্রহের কথা।

বৈঠকে জানানো হয়েছে রুগী রেফার করতে গিয়ে অনেক সময়েই পরিকাঠামোর অভাবে রুগীর প্রাণসংশয় হয়। তার দায় বর্তায় চিকিৎসকের ওপর, যেটা একেবারেই অনৈতিক। তাই জীবনদায়ী ওষুধ থেকে স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যার অপ্রতুলতার দায় চিকিৎসকদের নয় বলে বৈঠকে দাবি করা হয়েছে।

এরই সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে মুখ খুলেছেন সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের দাবি এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত হয়রানির শিকার। কোথায়, কোন রোগের, কিভাবে চিকিৎসা হবে এসব নিয়ে নানা বিভ্রান্তি চলছিল। এসব বিতর্কের মধ্যে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিসার, ফিশ্চুলার মত অপারেশন, যেগুলি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের প্রয়োজন সেগুলো স্বাস্থ্যসাথীর আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

আবার একই সঙ্গে বিনামূল্যে চিকিৎসার ফ্লেক্স, হোর্ডিংয়ে ভরে যাওয়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যেও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সুপার, প্রিন্সিপালদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা থেকে হাসপাতাল চালানোর সমস্ত খরচ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা দিয়ে, তাদের নিজেদেরকেই তুলতে হবে। ফলে প্রতিদিন খবর আসছে বহু সরকারি হাসপাতালে টাকা না পাওয়ায় ঠিকাদারেরা ওষুধ, সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি নার্সিং হোম ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোরও কোটি কোটি টাকার বিল বকেয়া রেখে হুমকি দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসাথীর পরিষেবা না দিলে লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে বলে। কোটি কোটি টাকা বকেয়া থাকলে তারাই বা পরিষেবা দেবেন কি করে? স্বাস্থ্য দপ্তর টাকার ব্যবস্থা না করে এক্ষেত্রেও দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলেই দাবি করা হয়েছে চিকিৎসকদের বৈঠকে।