বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ভুলতেই কি ১০০ সুন্দরীকে নিয়ে উদ্দাম লেট নাইট পার্টি! | বিনোদন | দেশ রূপান্তর

বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ভুলতেই কি ১০০ সুন্দরীকে নিয়ে উদ্দাম লেট নাইট পার্টি!

গত গ্রীষ্মে ২৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী ক্যামিলা মরোনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে ৪৮ বছর বয়সী ডিক্যাপ্রিও এখনো অবিবাহিতই আছেন। ২৭ বছর বয়সী মডেল গিগি হাদিদের সঙ্গেও তার সম্পর্কের গুঞ্জন উঠেছে। কিন্তু গিগি হাদিদ এর আগে কখনো তার চেয়ে এতো বেশি পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক জড়াননি।

এর মধ্যেই খবর শতাধিক সুন্দরীকে নিয়ে উদ্দাম লেটনাইট পার্টি করে জীবনকে উদযাপন করছেন ডিক্যাপ্রিও। সম্প্রতি মিয়ামিতে এক সুইডিশ বিলিয়নেয়ারের মালিকানাধীন একটি ইয়টে শতাধিক সুন্দরীকে নিয়ে আনন্দ-উল্লাস করে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।

‘ভাভা টু’ নামের ইয়টটি সুইডিশ ধনকুবের আর্নেস্টো বার্তারেলির মালিকানাধীন। এটির মূল্য প্রায় ১৫ কোটি ডলার। মিয়ামিতে বুধবার রাতে এক বিগ ব্যাশ পার্টির ভেন্যু হয়েছিল প্রমোদতরীটি।

ওই লেটনাইট পার্টিতে শতাধিক সুন্দরী মডেল খুবই স্বচ্ছ পোশাকে নাচ-গান করেছেন। এমনকি তাদের কারও পরনেই আন্ডারওয়্যার ছিল না। ফলে তাদের প্রায় নগ্নই দেখাচ্ছিল।

পেজ সিক্স জানিয়েছে, মিয়ামিতে ডিক্যাপ্রিও যে পার্টির আয়োজন করেছিলেন তা মধ্যরাতের পরে শুরু হয়ে ভোর ৫ টা পর্যন্ত পুরোদমে চলছে। ওই পার্টিতে বিখ্যাত দুই টেনিস তারকা ভেনাস এবং সেরেনা উইলিয়ামসও উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন জ্যারেড লেটো, ভিটো শ্নাবেল, রেইলি ওপেলকা, ভিভি নেভো এবং পাওলো জাম্পোলি।

পার্টিতে ১০০ জন মডেল অংশ গ্রহণ করেছিলেন। পেজ সিক্সের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, একটি সূত্র তাদের বলেছে যে ‘পার্টিতে একশ জনের মতো মডেল ছিল। আমি আমার জীবনে একসঙ্গে এত বেশি মডেল দেখিনি, কেউই দেখতে ‘সাধারণ’ ছিল না। তারা ছিল মডেল, মডেল, মডেল’।

‘একদল মেয়ে ছিল যারা খুবই স্বচ্ছ পোশাক পরেছিল, যার নীচে কিছুই ছিল না, কোনো অন্তর্বাসও ছিল না। তাদের শরীরের সবকিছুই দেখা যাচ্ছিল।’

পেজ সিক্স আরও দাবি করেছে যে, একই পার্টিতে ডিক্যাপ্রিওকে পরিবেশ দূষণ থেকে ‘মহাসাগর বাঁচানোর’ বিষয়ে বার্তারেলির সঙ্গে কথা বলতেও শোনা গেছে।

চার বছর ধরে সেন্সরে আটকে থাকা ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে নানা প্রতিবাদের পরও সার্টিফিকেট মেলেনি। সম্প্রতি সিনেমাটি পুনরায় প্রদর্শনের পর আপিল বোর্ড সিনেমাটির বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, ছবিটি মুক্তিতে কোন বাধা নেই। কিন্তু এরপরও ছবিটি নিয়ে কোন সিদ্ধান্তই আসছে না।

এরইমধ্যে আজ রোববার সন্ধ্যায় ছবিটির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, কিছুক্ষণ আগে আবার আমরা জানলাম, তথ্য মন্ত্রনালয় তার তৈরি করা আপীল কমিটির সিদ্ধান্তও মানতে নারাজ। ফলে সেন্সর বোর্ড আপীল কমিটির সভা ডেকেছে আবারও, শনিবার বিকেল পূনঃপরীক্ষণ-য়ের জন্য।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আই মিন, সিরিয়াসলি!!!!??? একটা রাষ্ট্র যখন তার নিজের বানানো প্রতিষ্ঠানেই ভরসা রাখতে পারে না, তখন বুঝতে হবে আমরা সিরিয়াস প্রবলেমে আছি।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই নির্মাতা লিখেন, ‘অসম্ভব বা অবিশ্বাস্য বলে কোনো কিছু আর আমাদের দেশে থাকতে দিবে না- এই মর্মে পণ করেছে আমাদের তথ্য মন্ত্রনালয়। তথ্য মন্ত্রনালয়কে কেনো টানছি? চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, ব্যাংকের নিজস্ব কোনো টাকা নেই, তেমনি সেন্সর বোর্ডেরও নিজস্ব কোনো মত নেই! তথ্য মন্ত্রনালয়ের ইচ্ছাই সেন্সর বোর্ডের ইচ্ছা। তো সাধারণত অন্যায়-অনিয়ম করা হলেও সেগুলো একটা নিয়মের মেক-আপের আড়ালে করা হয়। দুঃখজনক হচ্ছে শনিবার বিকলের ক্ষেত্রে সেই মেক-আপ রক্ষা করারও প্রয়োজন বোধ করছে না তারা।

২১ জানুয়ারি আপনারা সবাই জেনেছিলেন, আপীল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিসক্লেমার যুক্ত করে শনিবার বিকেল ছেড়ে দেয়ার। কয় দিন আগে দিল্লী হাইকোর্টও ফারাজ ছবিটার ব্যাপারে একই অভিমত দিয়েছিলো। আপনাদের মতো আমরাও ভেবেছিলাম, যাক সকল নাটক শেষ হলো।’

সংবাদ সম্মেলন করবেন জানিয়ে তিনি আরও লিখেন, ‘আমরা সেন্সর বোর্ডের এই টালবাহানার কড়া নিন্দা জানাই, সব চেয়ে উঁচু কন্ঠে! একই সাথে আমরা সবাইকে আহবান জানাই, ন্যায়বিচারের এই “বিস্ময়কর নতুন মানদন্ডের” প্রতিবাদ করার জন্য। আমরা যদি না জাগি তাহলে আমাদের দেশেই আমরা এরকম তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক হিসাবে ট্রিটমেন্ট পাবো। আপাতত আমাদের এই আছে বলবার। এই বিষয়ে আগামী সাত তারিখ সংবাদ সম্মেলন করে আমরা বিস্তারিত বলবো।’

দেশের বাইরের দর্শকদের উদ্দেশ্য করে ফারুকী লিখেন, ওদিকে দেশের বাইরে যারা আছেন, তাদের জন্য আমাদের বলবার কথা এইটুকুই- দেশে মু্ক্তি বিলম্বিত হলেও, দেশের বাইরে যাতে আপনারা দ্রুতই শনিবার বিকেল দেখতে পারেন সেইজন্য আমাদের আন্তর্জাতিক পার্টনার এবং জার্মান প্রযোজক কাজ করছেন। খুব দ্রুত এই বিষয়ে আপডেট জানবেন। আমরা থামছিনা। আমাদের “দাবায়ে রাখা” যাবে না।

প্রতিবারই নতুন জুটি নিয়ে হাজির হন। এবারের ভালোবাসা দিবসেও তাই। ‘ঊনিশ ২০’-এ আরিফিন শুভ-বিন্দুর রসায়ন কতটা জমাতে পারবে বলে মনে করছেন?

ইতিমধ্যে সিনেমার টিজার এবং রোমান্টিক গানের একটা অংশ উন্মুক্ত হয়েছে। যতদূর দেখেছি এই ছোট অংশেই দর্শক তাদের রসায়ন পছন্দ করেছে। আমাদের দিক থেকে আমরা সাধ্যের সবটুকু চেষ্টাই করেছি। এই জুটির রসায়ন কতটা জমেছে সেটা আসলে দর্শক সিনেমাটা দেখলে বলতে পারবে।

আপনি যেহেতু ভালোবাসার গল্প-ই বেশি বলেন, নিশ্চয় এখানেও প্রেমের গল্পই বলবেন। তারপরও এই গল্পে নতুন কি দেখাতে চেয়েছেন?

এটা একটা ফিল গুড লাভ স্টোরি। গান আছে, ফান আছে সাথে একটা ভালোবাসার গল্প আছে। আমাদের এই সময়টা বেশ অস্থির। আপনাকে- আমাকে প্রতিদিন কোন না কোন ক্রাইসিসের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। এই সময়ে আমি একটা মন ভালো করা সিনেমা নির্মাণ করতে চেয়েছি। এই সিনেমা দর্শকের চোখে-মুখে এবং মনে একটা আনন্দ তৈরী করতে পারলেই এটার নির্মাণ সার্থক হবে।

শুভ ভাইয়ের সাথে আমার টিভিতে একটা কাজ হয়েছে, তবে বিন্দুর সাথে এটাই প্রথম কাজ। পছন্দ কেন হলো জানি না, তবে যেদিন থেকে এই গল্প নিয়ে কাজ করবো ভেবেছি সেদিন থেকেই আমার মাথায় এই দুজনের কথা-ই বার বার আসছিল।

অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। দুজনেই খুব সিনসিয়ার ছিলেন। উনাদের সাথে ‘ঊনিশ ২০’এর জার্নি আমার সবসময় মনে থাকবে।

বলেছিলেন, নতুন বছর থেকে দুটি করে সিনেমা বানাবেন। দুটির ঘোষণাও এলো। একটি শাকিব খান অন্যটি সিয়াম আহমেদকে নিয়ে। এগুলোর আপডেট জানতে চাই..

আমি এখন পর্যন্ত কোথাও থিয়েটারের কোন সিনেমার ঘোষণা দেই নি। সবকিছু চূড়ান্ত হলেই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিবো।

যেহেতু ওটিটি এবং সিনেমায় ব্যস্ত হচ্ছেন তাহলে নাটকে কি বিরতি টানলেন, বলা যায়?

নাটক আমার প্রথম ভালোবাসা। এই নাটক আমাকে একটু একটু করে এত দূর নিয়ে এসেছে। সেখান থেকে এতো সহজে কি বিরতি নেয়া যাবে?

আসছে ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে নতুন গান নিয়ে আসছেন সংগীতশিল্পী তাহমিনা জাদীদ ডেইজি। গানের শিরোনাম ‘প্রতারক’। গানটির কথা লেখার পাশাপাশি এর সুর ও সঙ্গীত আয়োজন করেছেন শেখ জসীম।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন লোকেশনে গান ভিডিওটির চিত্রায়ন সম্পন্ন হয়েছে। ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন জাফর ফিরোজ।

ভালোবাসার মানুষের সাথে স্বপ্ন ভঙ্গ ও প্রতারণার গল্প উঠে এসেছে এই গানে, এমনটা জানিয়ে ডেইজি বলেন, প্রেম বিরহ দুইই ভালোবাসার গল্পে থাকে কেবল প্রতারণা মানুষকে কুড়ে কুড়ে খায়। নতুন প্রজন্ম এই গান থেকে নতুন বার্তা পাবে বলে মনে করি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গান ভিডিওটি উন্মুক্ত হবে। এছাড়াও ভালোবাসা দিবসে বিভিন্ন চ্যানেলে গানটি সম্প্রচারিত হবে।

সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন ‘কসৌটি জিন্দেগি কি’ খ্যাত টেলিভিশন অভিনেত্রী উর্বশী ঢোলাকিয়া। শনিবার রাতে মুম্বাইয়ের কাছে মিরা রোডে একটি ফিল্ম স্টুডিওতে শুটের কাজে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। তবে আপাতত সুস্থ আছেন।

জানা গেছে, মুম্বাইয়ের কাছে মিরা রোডে কাশিমিরা অঞ্চলে একটি স্কুল বাস পিছন থেকে এসে ধাক্কা মারে উর্বশীর গাড়িতে। স্কুল বাসে সেই সময় কয়েকজন বাচ্চাও ছিল বলে খবর। তবে স্কুল বাসে থাকা বাচ্চাদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে এখন পর্যন্ত স্কুল বাস চালকের বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি অভিনেত্রী। নিছকই দুর্ঘটনা, এই যুক্তিতে অভিযোগ দায়ের করতে চাননি উর্বশী। তবে অভিনেত্রীর গাড়িচালকের জবানবন্দি নথিভুক্ত করেছে কাশিমিরা থানার পুলিশ।

টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ উর্বশী ঢোলাকিয়া। ‘কসৌটি জিন্দেগি কি’ মেগা সিরিয়ালে খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি। তারপরেও কাজ করেছেন একাধিক হিন্দি ধারাবাহিকে।

একতা কাপুরের ‘নাগিন ৬’-এ অভিনয় করার পর সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পা রেখেছেন অভিনেত্রী উর্বশী ঢোলাকিয়া। পরিচালক তরুণ চোপড়ার ‘অবৈধ’ ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করেছেন।

ক্যারিয়ারের সুসময় পার করছেন চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। গেল বছরে মুক্তি পাওয়া ‘পরাণ’ ও ‘দামাল’ সিনেমায় অনন্যা আর হাসনা চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল প্রশংসিত হন এই নায়িকা।

নতুন বছরের শুরুতেও ব্যস্ত রয়েছেন আসন্ন সিনেমা ‘মানুষ’ নিয়ে যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার অভিনেতা জিত। এরইমধ্যে দিলেন আরও এক নতুন সিনেমার খবর। ছবির নাম ‘আমি ইয়াসমিন বলছি’। সুমন ধর এর পরিচালনায় ছবিটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন তিনি।

জানা গেছে, ২৭ বছর আগে দিনাজপুরের ইয়াসমিন নামে এক তরুণীর গণ ধর্ষণের শিকার হওয়া আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সিনেমা নির্মিত হবে। ওই সময় এই ঘটনায় তিনদিন পুরা উত্তাল ছিল দিনাজপুর। পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান সাত আন্দোলনকারী। আহত হন দুই শতাধিক। এরপর দিনাজপুরসহ সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে  পড়ে।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিতব্য এই সিনেমায় ইয়াসমিন চরিত্র করা প্রসঙ্গে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘পরাণ ও দামাল মুক্তির পর চলচ্চিত্রে আমার নতুন জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে অনেক চিত্রনাট্য হাতে এসেছে। ভেবেছি, বহু বছর পর দর্শক আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, সেই ভালোবাসা ধরে রাখতে হবে। যেসব চিত্রনাট্য এসেছে, তার মধ্যে গল্প খুঁজেছি, চরিত্র খুঁজেছি, চ্যালেঞ্জ খুঁজেছি। তাই গণহারে কাজ হাতে নিইনি। ছবিটি নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে ছয় মাস ধরে কথা হচ্ছিল। এর চিত্রনাট্য পড়ে আমি কেঁদে ফেলেছি। চিত্রনাট্য পড়ে যদি কোন অভিনেতা কেঁদে ফেলেন, আমি নিশ্চিত সেই সিনেমা দেখে দর্শকও কাঁদবেন।’

তিনি জানান, এই ছবির কাজ শুরু করার আগে ওজন কমাতে হবে। কলকাতা থেকে ফিরে এর প্রস্ততি নেওয়া শুরু করবো।

দুই বছর ধরে ‘আমি ইয়াসমিন বলছি’ সিনেমাটির গল্প নিয়ে কাজ করছেন পরিচালক। ইয়াসমিনের পরিবার প্রথমদিকে রাজি ছিলেন না যার কারণে গল্পটির অনুমতি নিতে প্রায় দুই বছর লেগেছে। পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে চিত্রনাট্যের কাজ শুরু করেছেন বলে জানান নির্মাতা।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে আনার সুযোগ ছিল ম্যানচেস্টার সিটির। আজ বড় সেই সুযোগটা তারা হাতছাড়া করেছে। হ্যারি কেইনের রেকর্ড গড়া গোলে টটেনহামের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে গেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।

বল দখলে সিটি শুরু থেকে একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়ে আসছিল। তবে ম্যাচের ১৫ মিনিটে সিটির রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে টটেনহামকে এগিয়ে দেন কেইন। সিটির ডিফেন্ডার মানুয়েল আকনজির দুর্বল পাসে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পিয়া-এমিল হয়বিয়া বাড়ান কেইনকে। প্রথম স্পর্শে ডান পায়ের শটে গোলটি করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

এই গোলে তিনি টটেনহামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়ে গেছেন। ২৬৭ গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন টটেনহাম কিংবদন্তি জিমি গ্রিভসকে। ১৯৭০ সাল থেকে এই রেকর্ড নিজের করে রেখেছিলেন গ্রিভস।

ছন্দে থাকা সিটির তরুণ ফরোয়ার্ড আর্লিং হলান্ড এ দিন পুরোটা সময় নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। তার দিনটা আজ ভালো কাটেনি। গোল করার তেমন কোনো সুযোগই পাননি সিটির এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।

এই হারে যদিও লিগ টেবিলে সিটির অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে আজ জিতে গেলে আর্সেনালের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানটা কমিয়ে আনতে পারত তারা। ২১ ম্যাচ খেলে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৪৫। একটি ম্যাচ কম খেলে আর্সেনালের পয়েন্ট ৫০। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। ২২ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে টটেনহামের অবস্থান পঞ্চম। তৃতীয় স্থানে আছে নিউক্যাসল ইউনাইটেড (৪০ পয়েন্ট)।

অপেক্ষার অবসান হলো। হ্যারি কেইনের হাত ধরে যেন জিমি গ্রিভস সাম্রাজ্যের সাম্রাজ্যের পতন হলো। ৫৩ বছর ধরে যে রেকর্ড তিনি দখল করে রেখেছিলেন। সেটাই আজ ভাঙলেন হ্যারি কেইন। প্রিমিয়ার লিগের ইংলিশ ক্লাব টটেনহামের সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন হ্যারি।

রাতে ম্যানচেস্টার সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে টটেনহাম। জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক কেইন। ম্যাচের ১৫ মিনিটে সিটির ডিফেন্ডার মানুয়েল আকনজির দুর্বল পাসে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পিয়া-এমিল হয়বিয়া বাড়ান কেইনকে। প্রথম স্পর্শে ডান পায়ের শটে গোলটি করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

আর এই গোলে তিনি টটেনহামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়ে গেছেন। ২৬৭ গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন টটেনহাম কিংবদন্তি জিমি গ্রিভসকে। ১৯৭০ সাল থেকে এই রেকর্ড নিজের করে রেখেছিলেন গ্রিভস।

লন্ডনের ক্লাব টটেনহাম হটস্পার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কোনো শিরোপা জেতে না। তবুও ইংলিশ লিগে তারাই সেরা দল। দলটির অন্যতম ভরসার নাম হ্যারি কেইন। ইংলিশ এই স্ট্রাইকার ২০০৯ সালে যোগ দেওয়া ক্লাবটির হয়ে গড়ে চলেছেন একের পর এক রেকর্ড।

গত বছরের আগস্টে সার্জিও আগুয়েরোকে টপকে প্রিমিয়ার লিগে এক ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের কীর্তি গড়েন কেইন। গত ২৩ জানুয়ারি তিনি স্পর্শ করেছিলেন জিমি গ্রিভসকে। আজ ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গোল করে তাকে ছাঁড়িয়ে যান তিনি। ভেঙে ফেলেন পাঁচ দশকের রেকর্ড।

রেকর্ডগড়া গোলে ম্যানসিটির বিপক্ষে টটেনহামকে জিতিয়ে ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান কেইন। তিনি ছাড়িয়ে যান জিমি গ্রিভসকে। কেইনের বর্তমান গোল সংখ্যা ২৬৭। সঙ্গে লন্ডন ডার্বিতে সবচেয়ে বেশি গোলের (৪৮) রেকর্ডও তার দখলে।

এই ম্যাচে প্রিমিয়ার লিগে ৩০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি। সিটির বিপক্ষে গোল করে এই লিগে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ গোল করার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন কেইন। তার ওপরে আছেন শুধু অ্যালান শিয়ারার (২৬০) ও ওয়েন রুনি (২০৮)।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যোগফল ভীষণ ফারাক সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কমিটিতে, এমন দাবি করেছেন দলটির অন্তত দুই ডজন কেন্দ্রীয় নেতা। তারা বলছেন, এ ফারাক কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে, যে কারণে দলীয় কাজকর্মে নিষ্ক্রিয় অনেকেই। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেককেই এখন দলীয় কার্যালয়ে দেখা যায়।

ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতিমন্ডলী, সম্পাদকমন্ডলী ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নির্বাচিত নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভালো কাজের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত কেন্দ্রীয় নেতারা অনেকাংশে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন তারা। ২০০৯ থেকে গত বছর ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আওয়ামী লীগের জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়েছে পাঁচটি। একই পদে থাকা একাধিক নেতার পদোন্নতি বা পদাবনতি কিছুই হয়নি। এটিও হতাশার বা নিষ্ক্রিয় থাকার অন্যতম কারণ। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, এ ধরনের সমস্যা নেতৃত্ব তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটায়।

ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচন দেখে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা মনোবেদনায় ভুগছেন। অল্পসংখ্যক নেতা যারা কাজ না করেও পদ টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, ভালো আছেন তারাই।

সম্প্রতি সভাপতিমন্ডলী ও সম্পাদকমন্ডলীর একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা হয় দেশ রূপান্তরের এ প্রতিবেদকের। তাদের হতাশা ও মনোবেদনা গোপন করেননি তারা। কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পদে থাকা এ নেতারা দাবি করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সারা বছর কাজ করা নেতারা পদোন্নতি যেমন পাননি দলের জন্য কাজ না করা নেতাদের পদাবনতিও ঘটেনি। এ নীতি অনুসরণ করে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করায় নেতারা মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন। হতাশা হয়েছেন। এমনটা হলে সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার কাজে অন্তরায় সৃষ্টি হয়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ওই নেতারা বলেন, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় রাগ-ক্ষোভ ভেতরে পুষে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন নেতারা। উচ্চবাচ্য করার সুযোগ নেই তাদের।

গত ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। এক দিনের সম্মেলনে বিকেলের অধিবেশনে ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক রেখেই কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে নতুন তিন-চারজন যোগ হয়েছেন। কয়েকজন বাদে পুরনোরা সবাই থেকে গেছেন। পদোন্নতি বা পদাবনতি তেমন হয়নি। এর আগে আওয়ামী লীগের তৃণমূল সম্মেলনেও পুরনো নেতৃত্ব বহাল রেখে কমিটি করা হয়। এ নিয়ে তৃণমূলেও হতাশা-ক্ষোভ দেখা গেছে।

অবশ্য এবারের জাতীয় সম্মেলনে সক্রিয় নেতার বাদ পড়ার নজিরও আছে। গত কমিটি থেকে বাদ পড়া কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সম্মেলনে কমিটি নির্বাচন দেখে মনে হয়েছে আমাকে বাদ দিতেই এ সম্মেলন। সামাজিকভাবে ও পরিবারের সদস্যদের কাছে আমি খুব লজ্জা পেয়েছি। আমি বাদ পড়ার কারণটাও খুঁজে পাই না।’

বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নানা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে আছেন। কিন্তু মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম ও মাহাবুবউল আলম হানিফসহ দুই-তিনজনকেই ঘুরেফিরে কর্মসূচিতে দেখা যায়। সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় এক নেতাকে একটি মাত্র কর্মসূচিতে দেখা গেছে। অন্য এক নেতা বিদেশে গিয়ে বসে আছেন। আগে সক্রিয় ছিলেন এমন আরেক নেতাকে আর কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায় না। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডিতে সভাপতির কার্যালয়ে আগে নেতাদের ঘিরে নিচের দিকের নেতা ও কর্মীদের আড্ডা হতো। সেই আড্ডায় এখন ভাটা দেখা যাচ্ছে।

গত ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভায় কেন্দ্রের ডজনখানেক নেতাকে মঞ্চে দেখা গেছে। সাধারণত দলীয়প্রধানের জেলা সফরে কেন্দ্রীয় প্রায় সব নেতাই থাকেন। নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া শ্রেয় মনে করছেন কোনো কোনো নেতা। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দিনরাত খাটাখাটুনি করা নেতারা যে ফল পেয়েছেন এবং দলীয় কার্যক্রমে না থেকে পদকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে ফায়দা লোটা নেতারাও একই ফল পেয়েছেন। তাহলে আর খাটুনি করে লাভ কি? তারা দাবি করেন, এ ধারা দলকে ও দলীয় রাজনীতিকে ভারসাম্যহীন করে তুলবে।

কাজের স্বীকৃতি না পাওয়া নেতারা বলেন, দলীয় কাজে সক্রিয় থাকতে মন সায় দেয় না এখন। চলছেও তাই। সম্মেলনের পর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি তেমন লক্ষণীয় নয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ও ধানমণ্ডিতে সভাপতির কার্যালয়ের চিত্র দেখে স্পষ্টই বোঝা যায় কেন্দ্রীয় নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা। বেসরকারি টেলিভিশনে টক শোতে অনেক নেতা যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

দলের দুটি কার্যালয়ের সহকারীরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্মেলনের পর একদিনও এখানে আসেননি এমন দুই ডজন নেতা রয়েছেন। তারা বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাদের নামে যেসব চিঠি আসে সেগুলো বিলি করতে হয় তাদের বাসায় গিয়ে। অফিস সহকারীরা আরও বলেন, অনেক কেন্দ্রীয় নেতা দেশের বাইরে গেছেন এবং পরিবার-পরিজনকে সময় দিচ্ছেন। দেশে থাকা নেতারা বাসাবাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভেতরে হতাশা বাসা বাঁধায় রাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলার আশঙ্কা দেখছেন অনেকে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় দলীয় ঐক্য দৃঢ় করে তোলার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মনোবলে চিড় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) সম্মেলনের দিন মঞ্চেই ঘোষণা করেছেন সামনের নির্বাচন ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তেমন পরিবর্তন আনতে চান না। সে কারণেই কাউকে বাদ বা পদোন্নতি দেওয়া উল্লেখযোগ্য হারে হয়নি। যারা রাজনীতি করেন রাজনীতির স্বার্থে এসব সিদ্ধান্ত মানতে হয়।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্মেলন মানে তিন বছর শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য একটি পরীক্ষার আয়োজন। তিন বছরের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া ও কাজ না করা নেতাদের বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিরস্কার করা। কার কী অবদান তার পরিমাপক হলো জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। সেখানে খাটাখাটুনির যাচাই করে কেউ মেধাতালিকায় জায়গা পান। আবার কেউ দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ফেল করেন কেউ। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গতিশীল হয়ে উঠে যেকোনো সংগঠন। কিন্তু গেল সম্মেলনের চিত্র হলো কেউ ফেল করেনি। সবাই গড়ে পাস করে গেছেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরীক্ষার ফলাফলের চিত্র এমন হলে সারা বছর কাজ করার কী দরকার! পদোন্নতির প্রত্যাশা করা আওয়ামী লীগের নেতা সবাই এখন এ নীতি অনুসরণ করে চলতে মনস্থির করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্মেলনের পর নেতা নির্বাচন দেখে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় নেতা ভেতরে ভেতরে মানসিকভাবে হতোদ্যম হয়ে পড়েছেন। ওপরে ওপরে সবাই স্বাভাবিক থাকতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ভেতরের অবস্থা তাদের নিষ্ক্রিয় করে তুলছে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর গুরুত্বপূর্ণ এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনীতি এখন ‘পাওয়ার হাউজ’কেন্দ্রিক। আওয়ামী লীগ এখন ‘পাওয়ার হাউজ’ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে রাজনীতিতে যতই সক্রিয় থাকি বা নিষ্ক্রিয় থাকি ‘পাওয়ার হাউজ’-এর কৃপা না পেলে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। তাই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার চেয়ে পাওয়ার হাউজের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলে এগিয়ে যেতে চান অনেক নেতা।

রাজনীতির বাইরের এই ‘পাওয়ার হাউজ’ একটি বলয়ে আবর্তিত জানিয়ে সম্পাদকম-লীর ওই নেতা বলেন, দলের জন্য কাজ না করলেও রাজনীতির পদপদবি ধরে রাখা সম্ভব। খাটাখাটুনির রাজনীতি এখন কেউ করবে না।

আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ড সিরিজ। তার আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে টাইগারদের প্রধান কোচ। এবার চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সহকারী নির্বাচনের পালা। জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিসিবিও। সেই তালিকায় বিদেশি কোচ যেমন আছেন তেমনি দেশি কোচরাও বাদ যাননি। দুই তালিকাতেই একাধিক কোচকে রেখে এগোচ্ছে বোর্ড। তবে বিদেশিদের শেষ পর্যন্ত না পাওয়া গেলে সহকারী হিসেবে দেশি কোচই দীর্ঘমেয়াদে বিসিবির ডাক পাবেন।

টানা খেলার চাপ থেকে একটু বিরতি নিতে হাথুরু ছুটিতে গেলে সহকারী কোচ জাতীয় দলকে সামলাবেন। এমন গুরু দায়িত্ব কোনো সিরিজে পড়ে গেলে তা স্থানীয় কোচদের পক্ষে সামলানো কঠিন। এজন্য বিদেশিতে নজর বিসিবির।

হাথুরুসিংহের নিয়োগের ঘোষণার দিনেই এই আভাস দিয়েছিলেন বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন, ‘আমরা এমন একজনকে খুঁজছি যাকে হেড কোচ পছন্দ করবে। আমাদের সূচিতে এত খেলা যে, একজন কোচের পক্ষে সব দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। আমরা একজন সহকারী কোচ নিয়োগ দেব, তালিকায় ৫ জন আছে। এর মাঝে উপমহাদেশের তিনজন। তারা দেশে এসে সাক্ষাৎকার দেবে।’

বিসিবির চিন্তা জুড়েই শ্রীধরন শ্রীরাম আছেন এখনো। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এই কোচের। তাকেই ছোট ফরম্যাটের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল বিসিবি। কিন্তু আইপিএল ছুটি নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় এখনো দুপক্ষের আলোচনা ‘আলোনাধীন’ রয়েছে। তাই বারবার, ‘আমি এখনো কিছু জানি না’ বলে যাওয়া শ্রীরাম কালও একই কথা জানালেন দেশ রূপান্তরকে।

বাংলাদেশ দলে দেশি কোচদের সহকারী হিসেবে থাকা নতুন কিছু নয়। মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের সহকারী কোচ ছিলেন। এরপর ২০০৯-১০ মেয়াদে খালেদ মাহমুদ সুজন সহকারী কোচ ছিলেন। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশিবার জাতীয় দলের সঙ্গে ছিলেন সোহেল ইসলাম। ২০১৪ সালে প্রথমবার ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যুক্ত হওয়া এই স্পিন বোলিং কোচ পরে স্পিন কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সবশেষ ২০২১ সালে পাকিস্তান সিরিজে স্পিন কোচ রঙ্গনা হেরাথের বদলি হিসেবে খন্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় দলের সহকারী হিসেবে তাই পূর্ব অভিজ্ঞতার বিচারে সোহেল ইসলাম-ই সবচেয়ে এগিয়ে। দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে কোচ হিসেবে অনেকটা এগিয়ে যাবেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন রংপুর রাইডার্সের এই কোচ, ‘লম্বা সময়ের জন্য রাখলে, সুযোগ পেলে তো অবশ্যই ভালো হয়। এভাবেই তো দেশি কোচরা এগিয়ে যাবে, মানে শুরুতে সহকারী কোচ থাকবে এরপর মূল কোচ হবে। এই দায়িত্ব পেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের কীভাবে সামলাতে হয়, কী কাজ করতে হয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপার থাকে এগুলো শেখা হবে। সবসময় তো বিদেশি কোচের ওপর নির্ভর করার বিষয়... মানে নিজেদের কোচদেরও তো উন্নত করা বা তৈরি করতে হবে। সহকারী কোচ হিসেবে দেশিদের যে অভিজ্ঞতা হবে, সেটা তারা নিজেরা যখন দেশের দলগুলোর কোচ হবে সেখানে আন্তর্জাতিকের অভিজ্ঞতা কিন্তু কাজে লাগাতে পারবে।’

ডেটা সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তিনি বলেছেন, ‘ডেটা সুরক্ষা আইন যদি স্থানীয়করণের প্রয়োজনীয়তাকে কঠোরভাবে অনুসরণ করার শর্ত দিয়ে অনুমোদন করা হয়, তাহলে বর্তমানে বাংলাদেশে কাজ করছে এমন কিছু আমেরিকান কোম্পানি বাংলাদেশের বাজার ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে পারে।’ গতকাল রবিবার রাজধানীর টি এম কে সেন্টারে ‘বাংলাদেশ অনলাইন স্বাধীনতা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন পিটার হাস।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশে আসার পর থেকে দেশটির ডিজিটাল যুগে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া নিয়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি। ফুডপান্ডা থেকে বিকাশ এবং এর বাইরেও অনেক বিস্তৃতি দেখেছি। এটা আমার কাছে এখন স্পষ্ট, এই শতকে ডিজিটাল বিশ্বে দেশটি

স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে প্রধান ভূমিকা পালন করতে চায়। এর মধ্যে পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। আর বদলানোর কারণে প্রতিটি দেশের সরকার ও সমাজ নতুন নতুন প্রযুক্তির দ্রুতগতিতে নাটকীয় পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং এই পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের আইনেও নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে সাজানোর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সবাই। যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ সব দেশে এই চ্যালেঞ্জ আছে।’

পিটার হাস বলেন, ‘অনলাইন বিশ্ব যেমন বড় ধরনের সুযোগ করে দিচ্ছে, তেমনি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। ফলে সরকারগুলোকে অবশ্যই অনলাইন ও এর সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যবহারকারীর ডেটাকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে এবং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে হবে। এটা একটা জটিল প্রক্রিয়া। তারপরও এর ভারসাম্য রাখতে হবে।’

বদলে যাওয়ার সঙ্গে অর্থনীতির সংযোগ অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন পিটার হাস। তিনি বলেন, ‘আজকের বিশ্বে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত না করে বিশ্বের কোনো দেশের পক্ষেই সফল হওয়া সম্ভব না। এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি বাংলাদেশের আমাদের মিশনের কাজের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ অন্যতম। একইভাবে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে একটি টেকসই ও যৌথভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এমন একটা অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত। আর এ ক্ষেত্রে আমরা আমাদের লক্ষ্যকে বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়েছি। আমরা মনে করি, একটা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য বৃহত্তর পরিসরে অর্থনৈতিক সংযোগ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের আসনে স্থান করে দেবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও সংযুক্ত করতে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশি ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেন বিদেশি ব্যবসায়ীরা এখানে আসতে আগ্রহ বোধ করেন। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এ দেশে বিনিয়োগ করা এবং এখানে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ইচ্ছার কথা জানতে পেরেছি।’

বাংলাদেশের বাজার খুবই আকর্ষণীয় উল্লেখ করে পিটার হাস বলেন, ‘এ কারণেই সম্প্রতি আমরা দূতাবাসের একটি ফরেন কমার্শিয়াল সার্ভিস অফিস চালু করেছি। আর এর মধ্যেই আমরা আমাদের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আশঙ্কার কথাও শুনতে পেয়েছি। তারা বলছেন, প্রস্তাবিত নতুন আইনের প্রবিধানগুলো এখানে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে উঠবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দিক থেকে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওভার-দ্য-টপ প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য প্রণীত প্রবিধানগুলোর পাশাপাশি খসড়া ডেটা সুরক্ষা আইন নিয়ে উদ্যোগ রয়েছে। আমরা যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্বকে মূল্য দিই, তাই আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা সরকারের কাছে সরাসরি তুলে ধরেছি।’

খসড়া ডেটা সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিকে আমরা শ্রদ্ধা করি। উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয় হলো, ডেটা সুরক্ষা আইন যদি ডেটা স্থানীয়করণের প্রয়োজনীয়তাকে কঠোরভাবে অনুসরণ করা শর্ত দিয়ে অনুমোদন করা হয়, মানে তা যদি আইনে পরিণত করা হয়, তাহলে বর্তমানে বাংলাদেশে কাজ করছে এমন বেশ কিছু আমেরিকান কোম্পানি এ দেশের বাজার ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে পারে। এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে যদি কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্ট বা বিষয়বস্তুর কারণে অপরাধের দায় নিয়ে ফৌজদারি আইনের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তারা এখানে ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে না। এ ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশের জন্য খুবই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ প্রায় দুই হাজারের বেশি স্টার্টআপকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হতে পারে এবং প্রতিদিন যে কোটি কোটি বাংলাদেশি ব্যবহারকারী তাদের সেবা নিচ্ছেন, তারা আর সেবাগুলো পাবেন না। তাই আমি মনে করি ব্যবসাকে আকর্ষণীয় করার জন্য উদ্ভাবনের সংস্কৃতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সে জন্য অনলাইন উন্মুক্ত ও স্বাধীন হওয়া দরকার।’

মানবাধিকারের বিষয় টেনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহারকারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য অনলাইন বিষয়বস্তুর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে এবং এটাও সত্যি এ কাজটি খুব সহজ নয়। তবে আমরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের যে কোশ্চেন দেখেছি, সেখানে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এমন কনটেন্ট বিষয়বস্তুর সংজ্ঞার বিস্তৃত পরিসর নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে ১৯১টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ব্লক করার ঘোষণায় উদ্বেগের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সমালোচনা গ্রহণ করার সক্ষমতা এবং অপ্রীতিকর বক্তব্য হলেও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা শক্তিশালী গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য। আমাদের দূতাবাস নাগরিক সমাজের অনেক সংস্থা এবং সাংবাদিকদের কাছ থেকে এ আইনটির বিষয়ে শুনেছে। তাদের ভয় হলো এই নিয়ম আইন মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতাকে সীমিত করবে। ডেটা সুরক্ষা আইনের ক্ষেত্রেও এ কথাটি প্রযোজ্য। আমাদের উদ্বেগের বিষয় হলো, ডেটা সুরক্ষা আইনের সর্বশেষ খসড়ায় একটি স্বাধীন ডেটা তদারকি কর্র্তৃপক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়নি এবং এই আইনে ফৌজদারি শাস্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশ তাদের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করবে কিন্তু আমরা বাংলাদেশসহ সব দেশকে আন্তর্জাতিক মানদন্ড সমুন্নত রাখার আহ্বান জানাই।’

সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশ ডেটা সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদ-, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে উপযুক্ত ভারসাম্য গড়ে তুললে সেটা এ দেশের অব্যাহত উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে। বাংলাদেশের দীর্ঘকালের পরীক্ষিত অংশীদার আমরা এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাফল্য দেখতে চায়।’

শ্রম পরিদর্শক পদে যোগ দেওয়ার ৩৪ বছর পর পদোন্নতি পেলেন মাহমুদুল হক। স্বপ্ন দেখতেন পদোন্নতির সিঁড়ি বেয়ে একসময় প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে যাবেন। সেই স্বপ্ন আট বছরেই লুটিয়ে পড়ল জ্যেষ্ঠতার তালিকায়।

১৯৮৮ সালে যোগ দেওয়ায় ’৯৫ সালেই পদোন্নতি পাওয়ার কথা ছিল মাহমুদুল হকের। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অদূরদর্শিতা সে স্বপ্ন শুরুতেই বাধা পেল। এন্ট্রি পোস্টে যোগ দেওয়ার পর তার মতো অন্য কর্মচারীরা যখন পদোন্নতির স্বপ্নে বিভোর, তখন তাতে গা-ই করলেন না সেই সময়ের প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

মাহমুদুল অপেক্ষায় রইলেন পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য। সেই পরিবর্তন আসতে আসতে চাকরিতে কেটে গেল আঠারো বছর। আঠারোতে মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হয়। তিনিও ভাবলেন আঠারোতে তিনি না হয় ‘জব ম্যাচিউরিটি’তে পৌঁছালেন। চাকরির আঠারো বছরে পদোন্নতি পেলেও মন্দ হয় না।

কিন্তু অবাক ব্যাপার, কর্তৃপক্ষ পদোন্নতি দিল, তবে মাহমুদুলকে ছাড়া। পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে কোথাও তার নাম নেই। হতাশায় মুষড়ে পড়লেন তিনি। জুনিয়র কর্মকর্তারদের নাম আছে, অথচ তার নাম নেই। প্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারকদের দরজায় দরজায় ঘুরলেন ন্যায়বিচারের আশায়। কিন্তু তারা পাত্তাই দিলেন না বিষয়টি।

তারা আমলে না নিলেও মাহমুদুলের স্বপ্ন তো সেখানেই থেমে যাওয়ার নয়। সেই স্বপ্ন পুঁজি করে তিনি গেলেন আদালতে। সেই ভিন্ন জগৎটাও কম চ্যালেঞ্জিং ছিল না। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে রায় দিল। মাহমুদুল আনন্দে আত্মহারা হলেন। কিন্তু সেই আনন্দ বেশি দিন স্থায়ী হলো না। সরকার আপিল করল প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে। মামলার ফল উল্টে গেল। হতাশায় ভেঙে না পড়ে তিনি গেলেন উচ্চ আদালতে। আপিল বিভাগে সিভিল আপিল মামলা করলে প্রশাসনিক আপিল আদালতের রায় বাতিল হয়। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকে।

জলে নেমে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করার মতো মাহমুদুল হকও যেন সরকারের সঙ্গে লড়াই করতে নামলেন। আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন করল সরকারপক্ষ। একপর্যায়ে সরকার বুঝতে পারল কোনোভাবেই তারা এ মামলায় জিততে পারবে না। সরকারপক্ষে রিভিউ পিটিশন প্রত্যাহার করা হলো। আদালত সরকারের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনকে আইনের কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা করল। জুনিয়র কর্মকর্তাকে যেদিন থেকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং যতবার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, একইভাবে মাহমুদুল হককে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। বকেয়া বেতন-ভাতাসহ সব পাওনা কড়ায়-গ-ায় পরিশোধের নির্দেশনা আসে।

আদালতের এই নির্দেশনা দেওয়া হয় ২০১৮ সালে। এরপর আদেশ বাস্তবায়ন করতে সরকারের লেগে যায় প্রায় চার বছর। ২০২২ সালের ১১ মে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ৩৪ বছর পর পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন মাহমুদুল হক। আবারও তাকে ঠকিয়েছে সরকার। জুনিয়র কর্মকর্তা যুগ্ম মহাপরিদর্শক হলেও তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় তার দুই ধাপ নিচের সহকারী মহাপরিদর্শক পদে। উপমহাপরিদর্শক ও যুগ্ম মহাপরিদর্শক আরও ওপরের পদ। আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কখনোই প্রজ্ঞাপন মাহমুদুল হকের জন্য ভালো বার্তা বয়ে আনেনি। পুরো চাকরিজীবন আদালতের বারান্দায় ঘুরে তিনি পৌঁছেছেন অবসরের প্রান্তসীমায়। আর তিন মাস পরে তিনি অবসরে যাবেন। যৌবন ও মধ্য বয়সের দিনগুলোতে আদালতে ঘুরে বেড়ানোর শক্তি ও সাহস থাকলেও মাহমুদুল হক এখন সেই সাহস দেখাতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করছেন। পারবেন তো শেষ সময়ে এসে সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে?

মাহমুদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, তিনি আদালতের কাছেই জানতে চাইবেন, আদালতের বিচার না মানার শাস্তি কী।

পুরো ঘটনা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা শুনিয়ে জানতে চাইলেন, কতজনের পক্ষে মাহমুদুল হকের মতো লড়াকু মনোভাব দেখানো সম্ভব?

সীমাহীন আনন্দ নিয়ে মানুষ সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়। এরপরই তার মধ্যে যে স্বপ্নটি দানা বাঁধে তা হচ্ছে পদোন্নতি। কার কীভাবে পদোন্নতি হবে তা আইনকানুন, নিয়ম-নীতি দিয়ে পোক্ত করা। পুরো বিষয়টি কাচের মতো স্বচ্ছ। এরপরও পদোন্নতি হয় না। দিন, মাস, বছর পার হয়ে যায়, কাক্সিক্ষত পদোন্নতির দেখা মেলে না।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ২৬টি ক্যাডারের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি হয়। বাকি ক্যাডারে হতাশা। তার চেয়েও কঠিন পরিস্থিতি নন-ক্যাডারে। ক্যাডার কর্মকর্তারা নিজের পদোন্নতির ষোলো আনা বুঝে নিয়ে ঠেকিয়ে দেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি। সংখ্যায় বেশি হওয়ায় নন-ক্যাডাররা একজন আরেকজনকে নানা ইস্যুতে আটকাতে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেন। সরকারের মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কর্মচারী। সেই হিসেবে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনবলের পদোন্নতি হয় না। পে-কমিশন হলেই কর্মচারীদের পদোন্নতির জন্য করুণা উথলে ওঠে। এমনকি ব্লকপোস্টে যারা আছেন, তাদের জন্যও পদোন্নতির বিকল্প সুবিধা বাতলে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর্মচারীদের পদোন্নতি উপেক্ষিতই থাকে।

যখন সময়মতো পদোন্নতি হয় না, তখন নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে থাকে। এসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট দপ্তর-অধিদপ্তরের চৌহদ্দি পেরিয়ে আমজনতাকেও প্রভাবিত করে। নন-ক্যাডার কর্মকর্তা আর সঙ্গে কর্মচারীরা যখন বুঝতে পারেন পদোন্নতির আশা তাদের নেই, তখন তারা দুহাতে টাকা কামানোর ধান্দায় মেতে ওঠেন। এতে করে ঘুষের সংস্কৃতি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। অকার্যকর পথে হাঁটে রাষ্ট্র। সাধারণ মানুষ টাকা ছাড়া তাদের কাছ থেকে কোনো সেবা পায় না, ব্যবসায়ীরা নতুন কোনো আইডিয়া নিয়ে ব্যবসায় আসেন না, ব্যবসাবান্ধব পরিস্থিতি না থাকায় মুখ ফিরিয়ে নেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর বারবার আহ্বানেও বিনিয়োগকারীরা সাড়া দেন না। সাধারণ মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দেওয়ার বাণীতেও উদ্বুদ্ধ হন না সংশ্লিষ্টরা।

এই পরিস্থিতিতে অনিয়ম আটকে রাখার সব কৌশলই ব্যর্থ হচ্ছে। যথাযথ তদারকি না থাকায় বিভাগীয় ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে। ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০টি অডিট আপত্তি ঝুলে থাকায় অডিট প্রতিষ্ঠানগুলোও আগ্রহ হারিয়ে নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছে অনিয়মে। দন্তহীন বাঘে পরিণত হওয়ার তথ্য সাংবাদিকদের জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান নিজেই।

নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদোন্নতির বড় একটা অংশ আটকে রাখে মন্ত্রণালয়গুলো। এই আটকে রাখার কারণ হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের স্বার্থ। বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তরে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিলে নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্তদের ওপরের পদে বসাতে হবে। এতে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের এককালীন লাভ; অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে একবার পদোন্নতি দেওয়া যাবে। কিন্তু পদোন্নতি না দিয়ে সংশ্লিষ্টদের চলতি দায়িত্ব দিলে বছরজুড়ে টাকা আয় করতে পারেন নীতিনির্ধারকরা। দপ্তর, অধিদপ্তরে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি দায়িত্বপ্রাপ্তদের আয় অনুসারে নীতিনির্ধারকদের মাসোহারা দিতে হয়। নন-ক্যাডারদের পদোন্নতি দেওয়া হলে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের নিয়মিত আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে আইন বা বিধি-বিধানের ফাঁকফোকর গলিয়ে নন-ক্যাডার এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি আটকে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।

সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদের সভাপতি নিজামুল ইসলাম ভূঁইয়া মিলন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সচিবালয় এবং সারা দেশের সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতির মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। নন-ক্যাডারের কিছু বিষয় ছাড়া সচিবালয়ের কর্মচারীরা সময়মতো পদোন্নতি পায়। কিন্তু সচিবালয়ের বাইরে পদোন্নতি হয় না বললেই চলে। সচিবালয়ে মাত্র ১০ হাজার কর্মচারী আছেন। সচিবালয়ের বাইরে আছেন ১০ লাখের বেশি। এসব কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে বহু বছর ধরে চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সমস্যা নিয়ে কাজ করার জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছে। কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে। ব্যস, ওই পর্যন্তই। এরপর এর কোনো অগ্রগতি নেই। যেখানে সরকারপ্রধান বলেন, চাকরিজীবনে সবাই যেন কমপক্ষে একটি পদোন্নতি পায়। সেখানে বহু কর্মচারী কোনো পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যাচ্ছেন। সরকারপ্রধানের নির্দেশনা উপেক্ষা করেন আমলারা। তাদের আগ্রহ কেনা-কাটায়, বিদেশ ভ্রমণে, নতুন জনবল নিয়োগে। এসব করলে তাদের লাভ। কর্মচারী পদোন্নতি দিতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এর নিশ্চয়ই একটা শেষ আছে। বৈষম্যের পরিণতি কী হয়, তা অনেক দাম দিয়ে বিডিআর বিদ্রোহে আমরা দেখেছি।’

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নন-ক্যাডারদের পদোন্নতি ঝুলছে বছরের পর বছর। এই অধিদপ্তরের কয়েক শ কর্মকর্তা পাঁচ বছর আগেই পদোন্নতির যোগ্য হয়েছেন। নানা কায়দা-কানুন করে তাদের পদোন্নতি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক সংশ্লিষ্টদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা করার নামে সময়ক্ষেপণ করছে। জ্যেষ্ঠতার তালিকা করার পর এখন তাদের পারিবারিক সদস্যদের তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সংস্থা নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদেরও তথ্য তালাশ করছে। তাদের আত্মীয়দের মধ্যে কে কোন দলের সমর্থক তার তথ্য নিচ্ছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।

গত মাসে শেষ হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দায়িত্ব পালন করছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সুরম্য ভবনে দায়িত্ব পালন করলেও ওই নন-ক্যাডার কর্মকর্তার মনের অবস্থাটা মনোহর ছিল না। কেমন আছেন জানতে চাইলে ওই নন-ক্যাডার কর্মকর্তা বলেন, ‘ভালো নেই। চাকরি করছি, পদোন্নতি নেই। ২০১৫ সালের আগে পদোন্নতি না পেলেও টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড ছিল। তাও তুলে দেওয়া হয়েছে। তুলে দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল সময়মতো পদোন্নতি হবে, ব্লকপোস্টধারীদের দেওয়া হবে বিশেষ আর্থিক সুবিধা। এসবের কোনোটাই হয়নি।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে একটি প্রশাসনিক আদেশ খুবই পরিচিত। সেই প্রশাসনিক আদেশ ১৬/২০১৮ অনুযায়ী ৭০ ভাগ কর্মকর্তা সরাসরি নিয়োগ হবে। আর ৩০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ৭০ ভাগ কর্মকর্তা সরাসরি নিয়োগের ফলে বিমানে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মকর্তা বেশি। নীতিনির্ধারকদের নতুন জনবল নিয়োগে আগ্রহ বেশি। পুরনোদের পদোন্নতি দিয়ে ওপরের পদ পূরণের চেয়ে তারা নতুন নিয়োগে যান। ফলে কারও চাকরিজীবনে একবারও পদোন্নতি হয় না। নামমাত্র যে পদোন্নতি হয় তা অনিয়মে ভরপুর।

নন-ক্যাডার ছাড়াও ১৩তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত পদোন্নতি হয় না বললেই চলে। প্রতিটি দপ্তরে এসব গ্রেডের পদোন্নতি আটকে আছে। অথচ এসব গ্রেডেই বেশি লোক চাকরি করছেন। সরকারের মোট জনবল প্রায় ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৭ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ২৩ শতাংশ পদের মধ্যেও নন-ক্যাডার রয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৭৭ শতাংশ পদই ১৩তম থেকে তার পরের গ্রেডের। এতে করে সহজেই বোঝা যায় সরকারের জনবলের বড় অংশই পদোন্নতির চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। সরকারের জনবলের এই বিশাল অংশ যখন পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন, তখন তারা নানা অনিয়মে ঝুঁকে পড়েন।

বেশির ভাগ দপ্তর, অধিদপ্তর পরিচালনা করেন বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তারা তাদের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে ক্যাডার কর্মকর্তাদের দপ্তর, অধিদপ্তরে পাঠান। প্রেষণে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা শুধু রুটিন কাজটুকুই করতে চান। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ বা পদোন্নতি রুটিন কাজ না হওয়ায় তা উপেক্ষিত থাকে। তা ছাড়া পদোন্নতি দিতে গিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়; বিশেষ করে মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রী বা সচিব তাদের পছন্দের লোককে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সংস্থার প্রধানকে চাপ দেন। এই চাপ উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ না থাকায় অযোগ্য লোককে পদোন্নতি দিতে হয় সংস্থার প্রধানকে। এই জটিলতা থেকে দূরে থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতি দেওয়া থেকেও দূরে থাকেন সংস্থার প্রধানরা।

নন-ক্যাডার কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের ১৪ গ্রেডের একজন কর্মচারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাইরের লোকের ইচ্ছাটাই জাগে না আমাদের পদোন্নতি দিতে। আমাদের দপ্তরপ্রধান মহাপরিচালক প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। অতিরিক্ত মহাপরিচালকও অনেক সময় প্রশাসন ক্যাডার থেকে প্রেষণে আসেন। তাদের কেন ইচ্ছা জাগবে আমাদের পদোন্নতি নিয়ে। যদি এসব পদে ফুড ক্যাডারের কর্মকর্তা থাকতেন, তাহলে তারা খাদ্য বিভাগের সমস্যা বুঝতেন। তা ছাড়া নিয়োগ বিধি সংশোধনের নামে আমরা দীর্ঘদিন একই পদে আটকে আছি।’

গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এক আবেদনে জানান, ‘বর্তমানে সচিবালয়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কর্মরত। এর বিপরীতে ক্যাডারবহির্ভূত সংরক্ষিত পদের সংখ্যা ২৬৭টি, যা খুবই নগণ্য। ফলে একই পদে ২০-২২ বছরের বেশি সময় কর্মরত থাকার পরও অনেকে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। পদোন্নতি না পাওয়ায় সৃষ্ট হতাশার ফলে কর্মস্পৃহা নষ্ট হচ্ছে।’

সরকার এ সমস্যা থেকে কীভাবে বের হতে পারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব সমস্যা সমাধানে সরকার সব সময়ই কাজ করে। কিন্তু এ চেষ্টা জটিলতার তুলনায় কম। এ বিষয়ে আরও এফোর্ট দিতে হবে।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে ১১২ কেন্দ্রের ফলাফলে ৯৫১ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। একতারা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৮৬ ভোট। এ আসনে জয় পেয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম তানসেন। মশাল প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার ৪৩৭ ভোট।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বগুড়ার দুইটিসহ মোট ৬ আসনে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির এমপিরা পদত্যাগের ঘোষণা দিলে এ আসনগুলো শূন্য হয়।

তখন, বগুড়া-৬ (সদর) এবং বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন হিরো আলম। নির্বাচন কমিশন একদফা তার প্রার্থিতা বাতিল করলেও পরে আদালতে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন হিরো আলম বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সদরের কেন্দ্র সব দখল হয়্যা গ্যাছে। ডিসি-এসপিক কয়্যাও কোনো কাম হচ্চে না। সদরের আশা সব শ্যাষ। কাহালু-নন্দীগামের অনেক কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে দেকছি। ভোট খুব সুষ্ঠু হচ্চে। মাঠের অবস্থা ভালো। কাহালু-নন্দীগ্রামে নিশ্চিত এমপি হচ্চি।’

এর আগে, সকালে সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান তিনি। ভোট দেওয়ার পর হিরো আলম বলেন, ‘বগুড়া-৬ আসনে আগে থেকেই গোলযোগের আশঙ্কা করেছিলাম, সেটাই সত্যি হয়েছে। নির্বাচনি এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে বগুড়া-৪ আসনে ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। এভাবে সুষ্ঠু ভোট হলে এই আসনে আমিই বিজয়ী হবো।’

এদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থীর এজেন্ট বাদে অন্য এজেন্টদের ভোটকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সকালে হিরো আলমসহ তিনজন প্রার্থী এ অভিযোগ করেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করা হয়।

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা খরচের হিসাব ধরে বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৭২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বেশি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে খরচের বেশিরভাগ অর্থ জোগাড়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়ানো হবে। আসছে জুনের প্রথমভাগে জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী বাজেট হবে জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ বাজেট। তাই এখানে নেওয়া কোনো পদক্ষেপে যেন আওয়ামী লীগ সরকার সমালোচনার মুখে না পড়ে এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের থাকছে বিশেষ নজর। এ ছাড়া রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। তাই সংকট ও নির্বাচন দুটোই মাথায় রাখতে হচ্ছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে মোটাদাগে একটি রূপরেখা পাঠানো হয়েছে। নতুন পরিকল্পনার পাশাপাশি গত তিন মেয়াদে সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে আগামী বাজেট প্রস্তাবে তা মনে করিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো আগামী বাজেটের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায়ের কৌশল নির্ধারণে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে হিসাব ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট প্রস্তাব প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে তা কয়েক দফা খতিয়ে দেখা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তিনি প্রয়োজনীয় সংশোধন, যোগ-বিয়োগ করে আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার আগেও অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে।

ডলার সংকটে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারছেন না সাধারণ ব্যবসায়ীরা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পণ্যের দাম বাড়ছে। কাঁচামাল সংকটে বিপাকে শিল্প খাত। ব্যাংক খাতে অস্থিরতা। নতুন চাকরির সুসংবাদ নেই বললেই চলে। দফায় দফায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। খুব শিগগিরই এসব সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছেন না অর্থনীতিবিদরা। অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঋণদাতা সংস্থার কঠিন শর্তের বেড়াজালে আছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতেই আগামী অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশি^ক অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার কী কী পদক্ষেপ নেবে তা আগামী বাজেটে স্পষ্ট করা হবে। দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথাও বলা হবে। তবে শত সংকটের মধ্যেও আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী যতটা সুবিধা দেওয়া সম্ভব তা দিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে কাঁচামাল আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দিতে হিসাব কষা হচ্ছে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডলার সংকটে আমদানি রপ্তানি প্রায় বন্ধ। ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকটকাল চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বাজেটে আমাদের দাবি অনুযায়ী নগদ সহায়তা দিতে হবে। রাজস্ব ছাড় দিতে হবে। কর অবকাশ ও কর অব্যাহতি বাড়াতে দিতে হবে।’

ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া সংস্কারের শর্ত মানার অঙ্গীকার করে সরকার ঋণ পেয়েছে। শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে ঋণের যেকোনো কিস্তি আটকে দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। পর্যায়ক্রমে প্রতি অর্থবছরের বাজেটে এসব সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়ন করা হবে। আসছে বাজেটে শর্ত মানার চেষ্টা থাকবে। বিশেষভাবে অতীতের মতো ঢালাওভাবে কর অব্যাহতি দেওয়া হবে না। আর্থিক খাতের সংস্কারের কিছু ঘোষণা থাকবে। বিশেষভাবে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দেওয়া হবে। আইএমএফের সুপারিশে এরই মধ্যে ভ্যাট আইন চূড়ান্ত হয়েছে। আয়কর আইন মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে। শুল্ক আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে আছে। এ তিন আইন অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। আসছে বাজেটে টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার কথা বলা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কিছু উদ্যোগের কথা শোনানো হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঋণদাতা সংস্থার শর্ত মানার কথা বলা হলেও সব আগামী বাজেটে একবারে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে অর্থনীতির গতি কমে যাবে।’

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এনবিআর-বহির্ভূত খাত এবং এনবিআর খাতের জন্য মোট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৪ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৯ শতাংশ বাড়িয়ে ধরা হতে পারে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা হবে। এনবিআর এ লক্ষ্যমাত্রা কমানোর জোরালো আবেদন করেছে। কিন্তু তা আমলে আনেননি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হিসেবে, ৩৪ শতাংশ বা ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা আয়কর হিসেবে এবং ৩১ শতাংশ বা বাকি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শুল্ক হিসেবে সংগ্রহ করার কথা বলা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার কথা শুধু বললেই হবে না। কীভাবে অর্জিত হবে, সেটি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা না থাকলে প্রতিবারের মতো ঘাটতি থাকবে। রাজস্ব ঘাটতি হলে অর্থনীতিতে আয় ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত।’

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর উৎসে করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। সম্পদশালীদের ওপর নজর বাড়ানো হবে। শুধু বেশি সম্পদ থাকার কারণে অতিরিক্ত কর গুনতে হবে। সারচার্জ বহাল রাখা হবে। সুপারট্যাক্স গ্রুপকে উচ্চহারে গুনতে হবে কর। আগামী অর্থবছরেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা থাকবে। অর্থ পাচারোধে আইনের শাসন কঠোর করা হবে। অর্থ পাচার আটকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। করপোরেট কর কমানোর দাবি থাকলেও তা মানা হবে না। অন্যদিকে নির্বাচনের আগের বাজেট হওয়ায় করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে খোদ অর্থমন্ত্রী বললেও রাজস্ব আদায় কমে যাবে এমন যুক্তি দেখিয়ে এনবিআর রাজি নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। কমানো হবে শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানি শুল্ক। ডলারের ওপর চাপ কমাতে বেশি ব্যবহৃত পণ্য আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হবে। বিলাসবহুল পণ্য আমদানি কমাতে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে। তৈরি পোশাক খাতের সব সুবিধা বহাল রাখা হবে। শিল্পের অন্যান্য খাতেও কতটা সুবিধা বাড়ানো যায় তা নিয়ে এনবিআর হিসাব করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বাজেট প্রস্তুতিবিষয়ক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন প্রকল্পে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি এবং ঘাটতি ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হতে পারে। আগামী অর্থবছরে জিডিপির ৬ শতাংশ ঘাটতি ধরে ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হতে পারে বলে জানা যায়। ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে ভর্তুকি কমানোর চাপ থাকলেও আগামীবার এ খাতে বেশি ব্যয় ধরা হতে পারে। এ খাতে ১ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় আছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ অনুমোদন করে। ঋণদাতা সংস্থাটির কাছ থেকে বাংলাদেশ ছয় কিস্তিতে তিন বছরে ৪৭০ কোটি ডলার পাচ্ছে। ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের দিন আইএমএফ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে পূর্বাভাস দেয়। সংস্থাটি বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে হতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা হতে পারে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

এতে রিজার্ভ সম্পর্কে বলা হয়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ কমে দাঁড়াবে ৩ হাজার কোটি ডলার। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়বে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।