'অভিনয় না করে মাংসের দোকান দিন'- শ্রদ্ধাকে নেটিজেনদের পরামর্শ | বিনোদন | দেশ রূপান্তর

এই চেহারায় আঁটসাঁট খাটো পোশাক? ইনস্টাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করে রীতিমতো কটাক্ষের শিকার হলেন টেলিভিশন অভিনেত্রী শ্রদ্ধা আর্য। যার জবাবে নিন্দুকদের মুখে ঝামা ঘসে দিলেন তিনি। আবার একটি ভিডিও পোস্ট করলেন তিনি, যেখানে স্পষ্টতই মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে থু-থু করতে দেখা গেল শ্রদ্ধাকে। তারকারা সাধারণত তন্বী চেহারা ধরে রাখতেই পছন্দ করেন, সেখানে 'কুণ্ডলী ভাগ্য' ধারাবাহিকের জনপ্রিয় মুখ শ্রদ্ধা বাড়তি মেদ দেহে রেখেই লাবণ্যময়ী। চেহারা নিয়ে তার মোটেই পরোয়া নেই। এদিকে লোকের চোখে সেটাই অস্বস্তিকর ঠেকছে। সহ-অভিনেত্রী রুহি চতুর্বেদীর সঙ্গে ভিডিও পোস্ট করার পর কদর্য ভাষায় চর্চা শুরু হয় শ্রদ্ধাকে নিয়ে। কী ছিল সেই ভিডিওতে?

দেখা যায়, রুহি তার ছিপছিপে চেহারায় নাচছেন পেছনে। সামনে বুকচেরা ড্রেসে পপ গানে ঠোঁট মিলিয়ে অঙ্গভঙ্গি করছেন শ্রদ্ধা। সেই দেখে মন্তব্য ভেসে আসে, 'নিজেকে আয়নায় দেখেছেন? কী অশ্লীল!' কেউ আবার সরাসরি বললেন, 'এত চর্বি? মাংসের দোকান দিলেও তো পারেন! অভিনয় করে যা পান তার চেয়ে বেশি আয় হবে।'

এসব মন্তব্য মোটেই পাত্তা দেন না অভিনেত্রী। পরের দিন ভিডিওতে দেখা গেল, বারান্দায় বসে গোলাপি টাওয়েল জড়িয়ে মন দিয়ে কিছু একটা করছেন অভিনেত্রী। মুখ তুলে গানের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে 'থু-থু' করলেন দু'বার। ওপরে লেখা 'যারা মোটা বলে নিন্দা করছিল, তাদের উদ্দেশে'। সূত্র : বলিউডলাইফ ডটকম

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে একের পর এক নাটকীয়তার অবতারণা ঘটছে। প্রায় চার বছর ধরে সেন্সর বোর্ডে ঝুলে থাকা সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার মধ্যে ২১ জানুয়ারি সিনেমাটি দেখেছে সেন্সর বোর্ডের আপিল কমিটি।

আপিল কমিটির সদস্যদের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে আসে, সিনেমাটি মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়াকে চিঠি পাঠানো হবে। ঢাকার হোলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে নির্মিত বলিউডের সিনেমা ‘ফারাজ’ মুক্তির দিনেই ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন প্রযোজক ও নির্মাতা। অপেক্ষার এক সপ্তাহ পেরিয়ে দেড় সপ্তাহে গিয়ে ঠেকলেও চিঠি হাতে পাননি প্রযোজক।

দুই সপ্তাহের মাথায় চিঠি পেলেন প্রযোজক, তবে সেটি খুব একটা আশাজাগানিয়া নয়। বহুল আলোচিত সিনেমাটি নিয়ে আপিল কমিটি কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি, সিনেমাটি আবার দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপিল কমিটি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমে বলেন, ‘আপিল কমিটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, সিনেমাটি পুনঃপরীক্ষণ করতে হবে। সেই মোতাবেক প্রযোজককে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নাম না প্রকাশের শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, সিনেমাটি নিয়ে আপিল কমিটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসতে না পারায় সিনেমাটি আবার দেখতে চেয়েছেন। এই দফায় দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

নতুন সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’ শিরোনামের এ সিনেমাটি পরিচালনা করবেন দেবাশীষ বিশ্বাস। সোমবার সন্ধ্যায় নায়িকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।

দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ‘ছবিটি হতে যাচ্ছে রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার অর্থাৎ রমকম। ছবির নায়িকা বুবলী, তাকে এখানে দেখা যাবে বিজলী চরিত্রে। গল্প ও চরিত্র তার পছন্দ হয়েছে। তার সঙ্গে আমার প্রথম কাজ হতে যাচ্ছে। আশা করি ভালো কিছুই হবে।’

শবনম বুবলী বলেন, ‘দেবাশীষ বিশ্বাস অনেক জনপ্রিয় একটি নাম আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। তার পরিচালনায় প্রথমবার কাজ করতে যাচ্ছি। আশা করছি দর্শকের জন্য উপভোগ্য একটি সিনেমা নিয়ে আসতে পারব আমরা।’

ছবির নায়িকা চূড়ান্ত হলেও নায়ক কে হবেন, তা এখনও চুড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে নির্মাতা বলেন, আমার গল্পে চরিত্রটি যাকে ডিমান্ড করে আমি তাকেই নেবো। প্রাথমিকভাবে দুই-তিনজনের সাথে কথা হচ্ছে তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। আশা করছি দুয়েকদিনের মধ্যেই এ খবরটি জানাতে পারবো।

জানা গেছে, এখন ছবিটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। রোজার ঈদের পরপরই শুটিংয়ে নামবেন নির্মাতা। এরপর আসছে পূজায় ছবিটি মুক্তি দেবার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নীলাঞ্জনা প্রোডাকশনের ব্যানারে সিনেমাটি তৈরি হবে। এতে মেকআপের দায়িত্ব পালন করবেন দেবাশীষ বিশ্বাসের মা গায়ত্রী বিশ্বাস।

গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন মডেল ও অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই তার স্বামী জি এস বদরুদ্দিন রাহী যৌতুকের টাকার জন্য অভিনেত্রীকে নির্যাতন শুরু করেন। শুধু তাই নয়, এক কাপড়ে বাসা থেকে বের করে দেন সারিকাকে।

এরপর নির্যাতনের অভিযোগ এনে রাহীর বিরুদ্ধে মামলা করেন অভিনেত্রী। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি স্বামীর কাছ থেকে দূরে আছেন। মা–বাবার সঙ্গে থাকছেন। বাধ্য হয়েই তিনি মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে সারিকা সাবরিন বলেন, আমাদের বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবার বসেছিল এবং রাহী ক্ষমা চেয়েছে। সে একসঙ্গে থাকার সুযোগ চেয়েছে আর আমি তো তাকে ভালোবাসি তাই মামলা তুলে নিয়েছি। তাছাড়া আমিও চেয়েছি, সুন্দরভাবে সংসার করতে। কারণ, বিয়ে ভাঙা ভালো কিছু নয়। দুজনেরই পরিবার আছে, সমাজ আছে। এটা নিয়ে তারা তো বিব্রত অবস্থায় পড়ে। এই সুন্দর সমাধানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আমরা দুজনই একসঙ্গে সংসার চালাতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন রাহির ভাড়া করা বসুন্ধরার বাসাতেই আছি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ চায় সবার আগে নিজে ভালো থাকতে, তারপর আশপাশের মানুষকে ভালো রাখতে। ওই সময় আমার ওপর দিয়ে খুব ঝড় বয়ে গিয়েছিল। মামলা করার আগেও চেষ্টা করেছি সমাধান করতে, হয়নি। পরে বাধ্য হয়েই কাজটি করতে হয়েছিল আমাকে। থাক, সেসব কথা এখন আর না বলি।

‘ব্ল্যাক ওয়ার’ সিনেমায় নারী পুলিশ অফিসার ইরা চরিত্রটি দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। এই চরিত্রের মাধ্যমে সাদিয়া নাবিলার ক্যারিয়ারের যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। স্বাভাবিকভাবেই নতুন অনেক সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছেন। তবে নাবিলা এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সচেতন।

শুধু সিনেমা নয়, নাবিলা প্রেমের প্রস্তাবও কম পাচ্ছেন না। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

‘ব্ল্যাক ওয়ার’ সিনেমার পর প্রেমের অফার কেমন পাচ্ছেন? প্রশ্ন করলে নাবিলা বলেন, ‘আসলে সিনেমা দিয়ে কথা নয়। প্রেমের অফার চলছে সেই হাই স্কুল লাইফ থেকে।’

‘মিশন এক্সট্রিম’ দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় পা রাখা এই নায়িকা বলে যান, ‘এখন ইরাকে (ব্ল্যাক ওয়রের চরিত্র) দেখার পর, আই থিং ইয়াসমিন বেগমকে দেখার পর অফার আরও বেড়ে গিয়েছে। যারা ব্ল্যাক ওয়ার দেখেছেন, তারা ইয়াসমিন বেগমকেও দেখেছেন। ইরা বা ইয়াসমিন বেগম যেটাই বলি, তাদের জন্য প্রেমের অফার হয়তো আরও বেড়ে গেল।’

সাদিয়া নাবিলা কি এখন প্রেম করছেন? সরাসরি এই প্রশ্ন ছিল। উত্তরে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সাদিয়া নাবিলার প্রেমের সময় নেই তো এখন (হেসে)। সময় যখন হবে তখন (প্রেম) করব। করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু এখন সময় নেই।’

আগে প্রেম করেছেন? এই প্রশ্নে অভিনেত্রীর অকপট উত্তর, ‘সাদিয়া নাবিলা অবশ্যই প্রেম করেছে। ভবিষ্যতে ইনশা আল্লাহ আবারও করবে। যখন সময় পাবে হাতে। এটা ভবিষ্যতের জন্য, আপাতত সময় নেই।’

কেমন ছেলে পছন্দ জানতে চাইলে নাবিলা বলেন, ‘অনেস্ট টাইপের মানুষ। যারা রেসপেক্ট করতে পারে অন্যকে। ছেলেদের রেসপেক্ট করার এই ব্যাপারটা আমি খুব পছন্দ করি।’

সিনেমার জন্য গেল বছর থেকেই নাটকে অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন আফরান নিশো। ঠিকঠাক গল্প এবং মনের মত চরিত্র পাওয়ায় ক্যারিয়ারের বিশে এসে নাম লেখালেন সিনেমায়। গেল ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রস্ততি নিচ্ছেন।

এখন নিজের লুক সেট এবং রিহার্সেল চলছে। সেইসাথে চলছে লোকেশন রেকি। জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার অদূরে সিলেটে শুরু হতে যাচ্ছে এই তারকার প্রথম সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’র শুটিং।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে ছবিটির নির্মাতা রায়হান রাফি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্ততি শেষ পর্যায়ে। লোকেশন রেকি করতে আমি সিলেটে এসেছি, কারণ এখানেই টানা ৩৫ দিন শুটিং হবে। ছবির ক্যামেরা ওপেন হবে সিলেটে, এরপর ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় শুট হবে।’

সুড়ঙ্গ বলতে বোঝায়, মাটির নিচে অবস্থিত কোন যাত্রাপথ যেটি মাটি অথবা পাথরের ভেতর দিয়ে খনন করা হয়। গল্পে নিশোকে দেখা যাবে সুড়ঙ্গ খননকারী একজন শ্রমিক হিসেবে।

ছবিটিতে আফরান নিশো ছাড়াও তার সঙ্গে থাকছেন চিত্রনায়িকা তমা মির্জা। তিনি বলেন, আমরা এখন রিহার্সেল করছি, লুক সেট করছি। এই ছবিটির জন্য যে ধরণের লুক দেখা যাবে এমন ধরণের গল্পে এরকম লুক আগে কারও দেখা যায়নি। খুবই সুন্দর লুক এসেছে। আমি তো অপেক্ষায় আছি যে, কবে শুটে যাবো!

আসছে ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির লক্ষে নির্মিতব্য এই সিনেমাটি একইসঙ্গে প্রযোজনা করছে চরকি ও আলফা আই।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকার পুরস্কারজয়ী ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি তার ওপর সংঘটিত ছুরি হামলা নিয়ে প্রথমবারের মতো কথা বলেছেন। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা রুশদি এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। কিন্তু বেঁচে ফেরায় তিনি নিজেকে ‘ভাগ্যবান’ মনে করছেন। পাশাপাশি প্রকাশ করেছেন কৃতজ্ঞতা।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্কারকে দেওয়া রুশদির একটি সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

২০২২ সালের আগস্টে নিউইয়র্কে একটি সাহিত্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন রুশদি। এ সময় মঞ্চে তার ওপর হামলা চালান ২৪ বছর বয়সী যুবক হাদি মাতার। নিউ জার্সির এই বাসিন্দা সেদিন রুশদিকে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করেন। এতে নিজের রক্তের ওপর লুটিয়ে পড়েন রুশদি। এর জের ধরে প্রায় ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয় এই লেখককে। পরে এক চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন তিনি।

দ্য নিউইয়র্কারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুশদি বলেন, ‘আমি অনেকটাই ভাল হয়েছি। যা ঘটেছিল তা বিবেচনা করে দেখলে খুব একটা খারাপ নেই। বড় ক্ষতগুলো সেরে গেছে। তবে বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও তালুর নিচের অর্ধেকটা অনুভব করছি। আমাকে প্রচুর হাতের থেরাপি নিতে হচ্ছে। যদিও আমাকে বলা হয়েছে শারীরিকভাবে আমি উন্নতি করছি’।

রুশদি জানান, আঙ্গুলের কিছু অংশে অনুভূতি না থাকায় লিখতে অসুবিধা হচ্ছে তার। তিনি বলেন, ‘আমি উঠে দাঁড়াতে পারছি। হাঁটতে পারছি চারপাশে। তবে আমার শরীরে এমন কিছু অংশ আছে যেগুলো নিয়মিত চেকআপ করতে হবে। এটা ছিল একটি মারাত্মক আক্রমণ’। তিনি জানান, ছুরি হামলার ঘটনায় মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। এর ফলে তাকে নিরাপত্তার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন রুশদি। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ লেখার পর থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছিলেন এই লেখক। এই উপন্যাস লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়। উপন্যাসটিতে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন মুসলিমরা।

উপন্যাসটি প্রকাশের এক বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন। সেই সঙ্গে তার মাথার দাম হিসেবে ঘোষণা করেন ৩ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার। রুশদি ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। মঙ্গলবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হচ্ছে তার লেখা নতুন উপন্যাস ‘ভিক্টরি সিটি’। পুরুষতান্ত্রিক বিশ্বকে উপেক্ষা করে এই নারী কীভাবে একটি শহরকে পরিচালনা করেছেন, সে গল্পই উঠে এসেছে বইটিতে।

বান্দরবানের থানচিতে সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে র‍্যাবের গোলাগুলি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার রেমাক্রি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, জঙ্গিদের অবস্থান রয়েছে এমন তথ্যে র‌্যাব অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কুকি চিন সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে, র‌্যাবের সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, সকাল ৮টা পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। অভিযান শেষ না হওয়ায় কিছু বলা যাচ্ছে না।

অভিযানে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখাসহ একাধিক ব্যাটালিয়ন অংশ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নে প্রতি অর্থবছরই সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। আবার নতুন অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায় করে ঋণের বড় অংশই পরিশোধ করে। কিন্তু নানা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকায় চলতি অর্থবছরে আগের ঋণ পরিশোধ না করে নতুন করে ঋণ নিচ্ছে সরকার। এতে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ বেড়ে চলেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে ব্যাংকে সরকারের ঋণস্থিতি ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আর এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৯০ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার ব্যাংক থেকে যেসব ঋণ নেয় তার অধিকাংশই বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে যায়। ব্যয়-সংকোচন নীতির কারণে অর্থবছরের শুরুর দিকে সরকারের অর্থ চাহিদা কম ছিল। এখন কিছু প্রকল্প সচল হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফলে খাদ্য ও জ্বালানি আমদানিতে আগের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। যে হারে খরচ বেড়েছে সে হারে আয় না বাড়ায় ব্যাংক থেকে ধার নিতে হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে বছরের ব্যবধানে সরকারের ব্যাংক খাতে ঋণ বেড়েছে ৯০ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুতে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরের সাত মাসে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৩৪ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ বেড়েছিল মাত্র ১১ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত সরকার বাজেট বাস্তবায়নে অর্থবছরের শেষদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে থাকে। আবার পরের অর্থবছরের শুরুতে আয় বাড়লে সে ধার পরিশোধ করে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ধার নেওয়া বাড়িয়েছে সরকার। কারণ হিসেবে তারা বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন আর সরকারের ব্যয়ের সঙ্গে আয়ে কম হওয়া।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছর সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। বিশেষ করে টাকা ছাপিয়ে তারা প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এতে মানি ক্রিয়েশন বাড়বে। এ ছাড়া সরকার সম্প্রতি প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে। এসব ঋণ বিতরণের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ মানি বেড়ে যাবে। এসব ঋণ যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হয় তাহলে অর্থের বিপরীতে উৎপাদন বাড়বে না। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের অর্থ সাবধানে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন এ অর্থনীতিবিদ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরুতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। সাত মাস পর জানুয়ারি শেষে ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের ঋণ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। সে হিসেবে আলোচিত সময়ে এ খাতে সরকারের ঋণ কমেছে ১১ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা।

তবে সরকার এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বাড়িয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। আর জানুয়ারি শেষে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সাত মাসে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৪৬ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। যদিও গত ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ আরও বেশি ছিল। ডিসেম্বর শেষে সরকার এ খাত থেকে ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকার মাসের ব্যবধানে ঋণ কমিয়েছে ১৯ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরিশোধ বাড়িয়েছে।

এর আগে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিভলবিং ফান্ড থেকে (টাকা ছাপিয়ে) ৬০ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। কিন্তু জানুয়ারি শেষে সরকার ওই ফান্ডের ১২ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। বর্তমানে ডিভলবিং ফান্ডে সরকারে ঋণ ৪৮ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।

জাহিদ হোসেন বলেন, চলতি অর্থবছর ডলার বিক্রির কারণে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে এসেছে। এ জন্য ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়তই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধারের প্রবণতা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে সরকার ট্রেজারি বন্ড ও বিলের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিভলবিং ফান্ড থেকে ঋণ নিচ্ছে। এতে মানি ক্রিয়েশন বাড়ছে। যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেট-ঘাটতি পূরণে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। আগের অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এবার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য সরকারের। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকেও ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।

দেশে ‘বাংলা ইশারা ভাষা দিবস-২০২৩’ পালিত হবে আজ মঙ্গলবার। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘বাংলা ইশারা ভাষা প্রচলন, বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির জীবনমান উন্নয়ন’।

দিবস উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৭ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ইশারা ভাষা বা সাংকেতিক ভাষা বা প্রতীকী ভাষা বলতে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে হাত ও বাহু নড়ানোর মাধ্যমে যোগাযোগ করার পদ্ধতিকে বোঝানো হয়।

বিজ্ঞজনেরা বলেন, অল্প করে হলেও দেশে ইশারা ভাষা ব্যবহার শুরু হয়েছে, কিন্তু তার কোনো মানদণ্ড নেই। বেসরকারিভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে কাজ করছে। তাই সরকারের ইনস্টিটিউট যেমন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব নিলে একটি মানসম্পন্ন ইশারা ভাষার প্রচলন হবে। আর হাসপাতাল, আদালত ও রেল স্টেশন, বিমানবন্দরে ইশারাভাষী নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল হিসেবে মাঘ মাসেই গরমের আভাস। এক দিকে তাপমাত্রার ওঠানামা, অন্য দিকে বাতাসে ভাসমান ধুলোয় বাড়ছে অ্যালার্জির প্রকোপ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অ্যালার্জি থেকে সর্দিকাশি ও জ্বর হচ্ছে।

একই সঙ্গে ঠান্ডাগরমের কারণে ভাইরাল ফিভার বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। অ্যালার্জির কারণে সর্দিজ্বর হোক বা ভাইরাসের কারণে, উপসর্গ প্রায় একই রকম। নাক দিয়ে পানি ঝরা, হাঁচি, খুসখুসে কাশির সঙ্গে জ্বর। একটা তফাৎ আছে— তা হল ভাইরাস জ্বর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেরে যায়, কিন্তু অ্যালার্জি ভোগায়।

ডাক্তারদের পরামর্শ, জ্বর-সর্দি হলেই তাড়াহুড়ো করে অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়া। অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। লাগাতার সর্দি-হাঁচি-জ্বর চলতে থাকলে অবশ্যই অ্যালার্জি পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। জ্বর-সর্দি হলে নাকে স্যালাইন ড্রপ, অ্যান্টিঅ্যালার্জিক, গরম পানিতে গার্গল করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এতেই উপকার পাওয়া যায়। কোনও খাবারে অ্যালার্জি থাকলে তা খাওয়া বন্ধ করা উচিত।

চিকিৎসকের মতে, বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের পাশাপাশি অনেক সময় জটিল কোনও রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবেও জ্বর আসে। ইউরিন ইনফেকশন, টনসিলাইটিস, আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন, ফুসফুসের প্রদাহ কিংবা নিউমোনিয়া অথবা মেনিনজাইটিসের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবেও জ্বর হতে পারে।

আবার টিউবারকুলোসিস গাউট, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, কোনও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, লিম্ফ গ্ল্যান্ড ও রক্তের ক্যানসারসহ অন্যান্য ক্যানসার হলেও প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে লাগাতার জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই টানা বা বারে বারে জ্বর হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত। ডায়রিয়ার মতোই জ্বর হলেও ডিহাইড্রেশন হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এই সময় বারে বারে পানি পান করা প্রয়োজন।

শ্রম পরিদর্শক পদে যোগ দেওয়ার ৩৪ বছর পর পদোন্নতি পেলেন মাহমুদুল হক। স্বপ্ন দেখতেন পদোন্নতির সিঁড়ি বেয়ে একসময় প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে যাবেন। সেই স্বপ্ন আট বছরেই লুটিয়ে পড়ল জ্যেষ্ঠতার তালিকায়।

১৯৮৮ সালে যোগ দেওয়ায় ’৯৫ সালেই পদোন্নতি পাওয়ার কথা ছিল মাহমুদুল হকের। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অদূরদর্শিতা সে স্বপ্ন শুরুতেই বাধা পেল। এন্ট্রি পোস্টে যোগ দেওয়ার পর তার মতো অন্য কর্মচারীরা যখন পদোন্নতির স্বপ্নে বিভোর, তখন তাতে গা-ই করলেন না সেই সময়ের প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

মাহমুদুল অপেক্ষায় রইলেন পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য। সেই পরিবর্তন আসতে আসতে চাকরিতে কেটে গেল আঠারো বছর। আঠারোতে মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হয়। তিনিও ভাবলেন আঠারোতে তিনি না হয় ‘জব ম্যাচিউরিটি’তে পৌঁছালেন। চাকরির আঠারো বছরে পদোন্নতি পেলেও মন্দ হয় না।

কিন্তু অবাক ব্যাপার, কর্তৃপক্ষ পদোন্নতি দিল, তবে মাহমুদুলকে ছাড়া। পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে কোথাও তার নাম নেই। হতাশায় মুষড়ে পড়লেন তিনি। জুনিয়র কর্মকর্তারদের নাম আছে, অথচ তার নাম নেই। প্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারকদের দরজায় দরজায় ঘুরলেন ন্যায়বিচারের আশায়। কিন্তু তারা পাত্তাই দিলেন না বিষয়টি।

তারা আমলে না নিলেও মাহমুদুলের স্বপ্ন তো সেখানেই থেমে যাওয়ার নয়। সেই স্বপ্ন পুঁজি করে তিনি গেলেন আদালতে। সেই ভিন্ন জগৎটাও কম চ্যালেঞ্জিং ছিল না। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে রায় দিল। মাহমুদুল আনন্দে আত্মহারা হলেন। কিন্তু সেই আনন্দ বেশি দিন স্থায়ী হলো না। সরকার আপিল করল প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে। মামলার ফল উল্টে গেল। হতাশায় ভেঙে না পড়ে তিনি গেলেন উচ্চ আদালতে। আপিল বিভাগে সিভিল আপিল মামলা করলে প্রশাসনিক আপিল আদালতের রায় বাতিল হয়। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকে।

জলে নেমে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করার মতো মাহমুদুল হকও যেন সরকারের সঙ্গে লড়াই করতে নামলেন। আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন করল সরকারপক্ষ। একপর্যায়ে সরকার বুঝতে পারল কোনোভাবেই তারা এ মামলায় জিততে পারবে না। সরকারপক্ষে রিভিউ পিটিশন প্রত্যাহার করা হলো। আদালত সরকারের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনকে আইনের কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা করল। জুনিয়র কর্মকর্তাকে যেদিন থেকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং যতবার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, একইভাবে মাহমুদুল হককে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। বকেয়া বেতন-ভাতাসহ সব পাওনা কড়ায়-গ-ায় পরিশোধের নির্দেশনা আসে।

আদালতের এই নির্দেশনা দেওয়া হয় ২০১৮ সালে। এরপর আদেশ বাস্তবায়ন করতে সরকারের লেগে যায় প্রায় চার বছর। ২০২২ সালের ১১ মে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ৩৪ বছর পর পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন মাহমুদুল হক। আবারও তাকে ঠকিয়েছে সরকার। জুনিয়র কর্মকর্তা যুগ্ম মহাপরিদর্শক হলেও তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় তার দুই ধাপ নিচের সহকারী মহাপরিদর্শক পদে। উপমহাপরিদর্শক ও যুগ্ম মহাপরিদর্শক আরও ওপরের পদ। আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কখনোই প্রজ্ঞাপন মাহমুদুল হকের জন্য ভালো বার্তা বয়ে আনেনি। পুরো চাকরিজীবন আদালতের বারান্দায় ঘুরে তিনি পৌঁছেছেন অবসরের প্রান্তসীমায়। আর তিন মাস পরে তিনি অবসরে যাবেন। যৌবন ও মধ্য বয়সের দিনগুলোতে আদালতে ঘুরে বেড়ানোর শক্তি ও সাহস থাকলেও মাহমুদুল হক এখন সেই সাহস দেখাতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করছেন। পারবেন তো শেষ সময়ে এসে সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে?

মাহমুদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, তিনি আদালতের কাছেই জানতে চাইবেন, আদালতের বিচার না মানার শাস্তি কী।

পুরো ঘটনা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা শুনিয়ে জানতে চাইলেন, কতজনের পক্ষে মাহমুদুল হকের মতো লড়াকু মনোভাব দেখানো সম্ভব?

সীমাহীন আনন্দ নিয়ে মানুষ সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়। এরপরই তার মধ্যে যে স্বপ্নটি দানা বাঁধে তা হচ্ছে পদোন্নতি। কার কীভাবে পদোন্নতি হবে তা আইনকানুন, নিয়ম-নীতি দিয়ে পোক্ত করা। পুরো বিষয়টি কাচের মতো স্বচ্ছ। এরপরও পদোন্নতি হয় না। দিন, মাস, বছর পার হয়ে যায়, কাক্সিক্ষত পদোন্নতির দেখা মেলে না।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ২৬টি ক্যাডারের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি হয়। বাকি ক্যাডারে হতাশা। তার চেয়েও কঠিন পরিস্থিতি নন-ক্যাডারে। ক্যাডার কর্মকর্তারা নিজের পদোন্নতির ষোলো আনা বুঝে নিয়ে ঠেকিয়ে দেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি। সংখ্যায় বেশি হওয়ায় নন-ক্যাডাররা একজন আরেকজনকে নানা ইস্যুতে আটকাতে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেন। সরকারের মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কর্মচারী। সেই হিসেবে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনবলের পদোন্নতি হয় না। পে-কমিশন হলেই কর্মচারীদের পদোন্নতির জন্য করুণা উথলে ওঠে। এমনকি ব্লকপোস্টে যারা আছেন, তাদের জন্যও পদোন্নতির বিকল্প সুবিধা বাতলে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর্মচারীদের পদোন্নতি উপেক্ষিতই থাকে।

যখন সময়মতো পদোন্নতি হয় না, তখন নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে থাকে। এসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট দপ্তর-অধিদপ্তরের চৌহদ্দি পেরিয়ে আমজনতাকেও প্রভাবিত করে। নন-ক্যাডার কর্মকর্তা আর সঙ্গে কর্মচারীরা যখন বুঝতে পারেন পদোন্নতির আশা তাদের নেই, তখন তারা দুহাতে টাকা কামানোর ধান্দায় মেতে ওঠেন। এতে করে ঘুষের সংস্কৃতি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। অকার্যকর পথে হাঁটে রাষ্ট্র। সাধারণ মানুষ টাকা ছাড়া তাদের কাছ থেকে কোনো সেবা পায় না, ব্যবসায়ীরা নতুন কোনো আইডিয়া নিয়ে ব্যবসায় আসেন না, ব্যবসাবান্ধব পরিস্থিতি না থাকায় মুখ ফিরিয়ে নেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর বারবার আহ্বানেও বিনিয়োগকারীরা সাড়া দেন না। সাধারণ মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দেওয়ার বাণীতেও উদ্বুদ্ধ হন না সংশ্লিষ্টরা।

এই পরিস্থিতিতে অনিয়ম আটকে রাখার সব কৌশলই ব্যর্থ হচ্ছে। যথাযথ তদারকি না থাকায় বিভাগীয় ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে। ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০টি অডিট আপত্তি ঝুলে থাকায় অডিট প্রতিষ্ঠানগুলোও আগ্রহ হারিয়ে নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছে অনিয়মে। দন্তহীন বাঘে পরিণত হওয়ার তথ্য সাংবাদিকদের জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান নিজেই।

নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদোন্নতির বড় একটা অংশ আটকে রাখে মন্ত্রণালয়গুলো। এই আটকে রাখার কারণ হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের স্বার্থ। বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তরে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিলে নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্তদের ওপরের পদে বসাতে হবে। এতে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের এককালীন লাভ; অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে একবার পদোন্নতি দেওয়া যাবে। কিন্তু পদোন্নতি না দিয়ে সংশ্লিষ্টদের চলতি দায়িত্ব দিলে বছরজুড়ে টাকা আয় করতে পারেন নীতিনির্ধারকরা। দপ্তর, অধিদপ্তরে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি দায়িত্বপ্রাপ্তদের আয় অনুসারে নীতিনির্ধারকদের মাসোহারা দিতে হয়। নন-ক্যাডারদের পদোন্নতি দেওয়া হলে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের নিয়মিত আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে আইন বা বিধি-বিধানের ফাঁকফোকর গলিয়ে নন-ক্যাডার এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি আটকে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।

সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদের সভাপতি নিজামুল ইসলাম ভূঁইয়া মিলন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সচিবালয় এবং সারা দেশের সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতির মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। নন-ক্যাডারের কিছু বিষয় ছাড়া সচিবালয়ের কর্মচারীরা সময়মতো পদোন্নতি পায়। কিন্তু সচিবালয়ের বাইরে পদোন্নতি হয় না বললেই চলে। সচিবালয়ে মাত্র ১০ হাজার কর্মচারী আছেন। সচিবালয়ের বাইরে আছেন ১০ লাখের বেশি। এসব কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে বহু বছর ধরে চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সমস্যা নিয়ে কাজ করার জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছে। কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে। ব্যস, ওই পর্যন্তই। এরপর এর কোনো অগ্রগতি নেই। যেখানে সরকারপ্রধান বলেন, চাকরিজীবনে সবাই যেন কমপক্ষে একটি পদোন্নতি পায়। সেখানে বহু কর্মচারী কোনো পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যাচ্ছেন। সরকারপ্রধানের নির্দেশনা উপেক্ষা করেন আমলারা। তাদের আগ্রহ কেনা-কাটায়, বিদেশ ভ্রমণে, নতুন জনবল নিয়োগে। এসব করলে তাদের লাভ। কর্মচারী পদোন্নতি দিতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এর নিশ্চয়ই একটা শেষ আছে। বৈষম্যের পরিণতি কী হয়, তা অনেক দাম দিয়ে বিডিআর বিদ্রোহে আমরা দেখেছি।’

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নন-ক্যাডারদের পদোন্নতি ঝুলছে বছরের পর বছর। এই অধিদপ্তরের কয়েক শ কর্মকর্তা পাঁচ বছর আগেই পদোন্নতির যোগ্য হয়েছেন। নানা কায়দা-কানুন করে তাদের পদোন্নতি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক সংশ্লিষ্টদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা করার নামে সময়ক্ষেপণ করছে। জ্যেষ্ঠতার তালিকা করার পর এখন তাদের পারিবারিক সদস্যদের তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সংস্থা নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদেরও তথ্য তালাশ করছে। তাদের আত্মীয়দের মধ্যে কে কোন দলের সমর্থক তার তথ্য নিচ্ছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।

গত মাসে শেষ হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দায়িত্ব পালন করছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সুরম্য ভবনে দায়িত্ব পালন করলেও ওই নন-ক্যাডার কর্মকর্তার মনের অবস্থাটা মনোহর ছিল না। কেমন আছেন জানতে চাইলে ওই নন-ক্যাডার কর্মকর্তা বলেন, ‘ভালো নেই। চাকরি করছি, পদোন্নতি নেই। ২০১৫ সালের আগে পদোন্নতি না পেলেও টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড ছিল। তাও তুলে দেওয়া হয়েছে। তুলে দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল সময়মতো পদোন্নতি হবে, ব্লকপোস্টধারীদের দেওয়া হবে বিশেষ আর্থিক সুবিধা। এসবের কোনোটাই হয়নি।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে একটি প্রশাসনিক আদেশ খুবই পরিচিত। সেই প্রশাসনিক আদেশ ১৬/২০১৮ অনুযায়ী ৭০ ভাগ কর্মকর্তা সরাসরি নিয়োগ হবে। আর ৩০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ৭০ ভাগ কর্মকর্তা সরাসরি নিয়োগের ফলে বিমানে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মকর্তা বেশি। নীতিনির্ধারকদের নতুন জনবল নিয়োগে আগ্রহ বেশি। পুরনোদের পদোন্নতি দিয়ে ওপরের পদ পূরণের চেয়ে তারা নতুন নিয়োগে যান। ফলে কারও চাকরিজীবনে একবারও পদোন্নতি হয় না। নামমাত্র যে পদোন্নতি হয় তা অনিয়মে ভরপুর।

নন-ক্যাডার ছাড়াও ১৩তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত পদোন্নতি হয় না বললেই চলে। প্রতিটি দপ্তরে এসব গ্রেডের পদোন্নতি আটকে আছে। অথচ এসব গ্রেডেই বেশি লোক চাকরি করছেন। সরকারের মোট জনবল প্রায় ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৭ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ২৩ শতাংশ পদের মধ্যেও নন-ক্যাডার রয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৭৭ শতাংশ পদই ১৩তম থেকে তার পরের গ্রেডের। এতে করে সহজেই বোঝা যায় সরকারের জনবলের বড় অংশই পদোন্নতির চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। সরকারের জনবলের এই বিশাল অংশ যখন পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন, তখন তারা নানা অনিয়মে ঝুঁকে পড়েন।

বেশির ভাগ দপ্তর, অধিদপ্তর পরিচালনা করেন বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তারা তাদের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে ক্যাডার কর্মকর্তাদের দপ্তর, অধিদপ্তরে পাঠান। প্রেষণে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা শুধু রুটিন কাজটুকুই করতে চান। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ বা পদোন্নতি রুটিন কাজ না হওয়ায় তা উপেক্ষিত থাকে। তা ছাড়া পদোন্নতি দিতে গিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়; বিশেষ করে মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রী বা সচিব তাদের পছন্দের লোককে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সংস্থার প্রধানকে চাপ দেন। এই চাপ উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ না থাকায় অযোগ্য লোককে পদোন্নতি দিতে হয় সংস্থার প্রধানকে। এই জটিলতা থেকে দূরে থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতি দেওয়া থেকেও দূরে থাকেন সংস্থার প্রধানরা।

নন-ক্যাডার কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের ১৪ গ্রেডের একজন কর্মচারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাইরের লোকের ইচ্ছাটাই জাগে না আমাদের পদোন্নতি দিতে। আমাদের দপ্তরপ্রধান মহাপরিচালক প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। অতিরিক্ত মহাপরিচালকও অনেক সময় প্রশাসন ক্যাডার থেকে প্রেষণে আসেন। তাদের কেন ইচ্ছা জাগবে আমাদের পদোন্নতি নিয়ে। যদি এসব পদে ফুড ক্যাডারের কর্মকর্তা থাকতেন, তাহলে তারা খাদ্য বিভাগের সমস্যা বুঝতেন। তা ছাড়া নিয়োগ বিধি সংশোধনের নামে আমরা দীর্ঘদিন একই পদে আটকে আছি।’

গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এক আবেদনে জানান, ‘বর্তমানে সচিবালয়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কর্মরত। এর বিপরীতে ক্যাডারবহির্ভূত সংরক্ষিত পদের সংখ্যা ২৬৭টি, যা খুবই নগণ্য। ফলে একই পদে ২০-২২ বছরের বেশি সময় কর্মরত থাকার পরও অনেকে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। পদোন্নতি না পাওয়ায় সৃষ্ট হতাশার ফলে কর্মস্পৃহা নষ্ট হচ্ছে।’

সরকার এ সমস্যা থেকে কীভাবে বের হতে পারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব সমস্যা সমাধানে সরকার সব সময়ই কাজ করে। কিন্তু এ চেষ্টা জটিলতার তুলনায় কম। এ বিষয়ে আরও এফোর্ট দিতে হবে।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে ১১২ কেন্দ্রের ফলাফলে ৯৫১ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। একতারা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৮৬ ভোট। এ আসনে জয় পেয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম তানসেন। মশাল প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার ৪৩৭ ভোট।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বগুড়ার দুইটিসহ মোট ৬ আসনে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির এমপিরা পদত্যাগের ঘোষণা দিলে এ আসনগুলো শূন্য হয়।

তখন, বগুড়া-৬ (সদর) এবং বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন হিরো আলম। নির্বাচন কমিশন একদফা তার প্রার্থিতা বাতিল করলেও পরে আদালতে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন হিরো আলম বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সদরের কেন্দ্র সব দখল হয়্যা গ্যাছে। ডিসি-এসপিক কয়্যাও কোনো কাম হচ্চে না। সদরের আশা সব শ্যাষ। কাহালু-নন্দীগামের অনেক কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে দেকছি। ভোট খুব সুষ্ঠু হচ্চে। মাঠের অবস্থা ভালো। কাহালু-নন্দীগ্রামে নিশ্চিত এমপি হচ্চি।’

এর আগে, সকালে সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান তিনি। ভোট দেওয়ার পর হিরো আলম বলেন, ‘বগুড়া-৬ আসনে আগে থেকেই গোলযোগের আশঙ্কা করেছিলাম, সেটাই সত্যি হয়েছে। নির্বাচনি এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে বগুড়া-৪ আসনে ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। এভাবে সুষ্ঠু ভোট হলে এই আসনে আমিই বিজয়ী হবো।’

এদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থীর এজেন্ট বাদে অন্য এজেন্টদের ভোটকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সকালে হিরো আলমসহ তিনজন প্রার্থী এ অভিযোগ করেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করা হয়।

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা খরচের হিসাব ধরে বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৭২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বেশি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে খরচের বেশিরভাগ অর্থ জোগাড়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়ানো হবে। আসছে জুনের প্রথমভাগে জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী বাজেট হবে জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ বাজেট। তাই এখানে নেওয়া কোনো পদক্ষেপে যেন আওয়ামী লীগ সরকার সমালোচনার মুখে না পড়ে এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের থাকছে বিশেষ নজর। এ ছাড়া রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। তাই সংকট ও নির্বাচন দুটোই মাথায় রাখতে হচ্ছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে মোটাদাগে একটি রূপরেখা পাঠানো হয়েছে। নতুন পরিকল্পনার পাশাপাশি গত তিন মেয়াদে সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে আগামী বাজেট প্রস্তাবে তা মনে করিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো আগামী বাজেটের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায়ের কৌশল নির্ধারণে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে হিসাব ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট প্রস্তাব প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে তা কয়েক দফা খতিয়ে দেখা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তিনি প্রয়োজনীয় সংশোধন, যোগ-বিয়োগ করে আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার আগেও অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে।

ডলার সংকটে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারছেন না সাধারণ ব্যবসায়ীরা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পণ্যের দাম বাড়ছে। কাঁচামাল সংকটে বিপাকে শিল্প খাত। ব্যাংক খাতে অস্থিরতা। নতুন চাকরির সুসংবাদ নেই বললেই চলে। দফায় দফায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। খুব শিগগিরই এসব সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছেন না অর্থনীতিবিদরা। অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঋণদাতা সংস্থার কঠিন শর্তের বেড়াজালে আছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতেই আগামী অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশি^ক অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার কী কী পদক্ষেপ নেবে তা আগামী বাজেটে স্পষ্ট করা হবে। দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথাও বলা হবে। তবে শত সংকটের মধ্যেও আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী যতটা সুবিধা দেওয়া সম্ভব তা দিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে কাঁচামাল আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দিতে হিসাব কষা হচ্ছে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডলার সংকটে আমদানি রপ্তানি প্রায় বন্ধ। ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকটকাল চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বাজেটে আমাদের দাবি অনুযায়ী নগদ সহায়তা দিতে হবে। রাজস্ব ছাড় দিতে হবে। কর অবকাশ ও কর অব্যাহতি বাড়াতে দিতে হবে।’

ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া সংস্কারের শর্ত মানার অঙ্গীকার করে সরকার ঋণ পেয়েছে। শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে ঋণের যেকোনো কিস্তি আটকে দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। পর্যায়ক্রমে প্রতি অর্থবছরের বাজেটে এসব সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়ন করা হবে। আসছে বাজেটে শর্ত মানার চেষ্টা থাকবে। বিশেষভাবে অতীতের মতো ঢালাওভাবে কর অব্যাহতি দেওয়া হবে না। আর্থিক খাতের সংস্কারের কিছু ঘোষণা থাকবে। বিশেষভাবে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দেওয়া হবে। আইএমএফের সুপারিশে এরই মধ্যে ভ্যাট আইন চূড়ান্ত হয়েছে। আয়কর আইন মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে। শুল্ক আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে আছে। এ তিন আইন অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। আসছে বাজেটে টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার কথা বলা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কিছু উদ্যোগের কথা শোনানো হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঋণদাতা সংস্থার শর্ত মানার কথা বলা হলেও সব আগামী বাজেটে একবারে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে অর্থনীতির গতি কমে যাবে।’

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এনবিআর-বহির্ভূত খাত এবং এনবিআর খাতের জন্য মোট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৪ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৯ শতাংশ বাড়িয়ে ধরা হতে পারে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা হবে। এনবিআর এ লক্ষ্যমাত্রা কমানোর জোরালো আবেদন করেছে। কিন্তু তা আমলে আনেননি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হিসেবে, ৩৪ শতাংশ বা ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা আয়কর হিসেবে এবং ৩১ শতাংশ বা বাকি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শুল্ক হিসেবে সংগ্রহ করার কথা বলা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার কথা শুধু বললেই হবে না। কীভাবে অর্জিত হবে, সেটি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা না থাকলে প্রতিবারের মতো ঘাটতি থাকবে। রাজস্ব ঘাটতি হলে অর্থনীতিতে আয় ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত।’

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর উৎসে করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। সম্পদশালীদের ওপর নজর বাড়ানো হবে। শুধু বেশি সম্পদ থাকার কারণে অতিরিক্ত কর গুনতে হবে। সারচার্জ বহাল রাখা হবে। সুপারট্যাক্স গ্রুপকে উচ্চহারে গুনতে হবে কর। আগামী অর্থবছরেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা থাকবে। অর্থ পাচারোধে আইনের শাসন কঠোর করা হবে। অর্থ পাচার আটকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। করপোরেট কর কমানোর দাবি থাকলেও তা মানা হবে না। অন্যদিকে নির্বাচনের আগের বাজেট হওয়ায় করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে খোদ অর্থমন্ত্রী বললেও রাজস্ব আদায় কমে যাবে এমন যুক্তি দেখিয়ে এনবিআর রাজি নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। কমানো হবে শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানি শুল্ক। ডলারের ওপর চাপ কমাতে বেশি ব্যবহৃত পণ্য আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হবে। বিলাসবহুল পণ্য আমদানি কমাতে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে। তৈরি পোশাক খাতের সব সুবিধা বহাল রাখা হবে। শিল্পের অন্যান্য খাতেও কতটা সুবিধা বাড়ানো যায় তা নিয়ে এনবিআর হিসাব করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বাজেট প্রস্তুতিবিষয়ক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন প্রকল্পে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি এবং ঘাটতি ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হতে পারে। আগামী অর্থবছরে জিডিপির ৬ শতাংশ ঘাটতি ধরে ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হতে পারে বলে জানা যায়। ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে ভর্তুকি কমানোর চাপ থাকলেও আগামীবার এ খাতে বেশি ব্যয় ধরা হতে পারে। এ খাতে ১ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় আছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ অনুমোদন করে। ঋণদাতা সংস্থাটির কাছ থেকে বাংলাদেশ ছয় কিস্তিতে তিন বছরে ৪৭০ কোটি ডলার পাচ্ছে। ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের দিন আইএমএফ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে পূর্বাভাস দেয়। সংস্থাটি বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে হতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা হতে পারে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

এতে রিজার্ভ সম্পর্কে বলা হয়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ কমে দাঁড়াবে ৩ হাজার কোটি ডলার। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়বে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।