শাস্তির ভয়ে পছন্দের আর্মব্যান্ড পড়লেন না কেইন | স্পোর্টস | দেশ রূপান্তর

ইরানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচটি নিয়ে রাজনৈতিক কারণেই আগ্রহ প্রবল। এই প্রথমবারের মতো ইরানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু এই ম্যাচে রাজনৈতিক ব্যাপার ছাপিয়েও আলোচনায় সমকামিতা বিতর্ক।

ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, সমকামিতাকে সমর্থন করে তৈরি বিশেষ আর্মব্যান্ড বাহুতে পরেই আজ মাঠে নামবেন।

কিন্তু শাস্তির ভয়ে আপাতত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন কেইন। কেবল কেইন নন, সমকামিতাকে সমর্থন করে তৈরি আর্মব্যান্ড পরবেন না ইউরোপের কোনো অধিনায়কই।

কাতারে সমকামিতা গর্হিত অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত। বিশ্বকাপের আগে এটি নিয়ে ইউরোপের বেশ কয়েকটি এলজিবিটি সংস্থা প্রতিবাদ জানিয়েছিল। নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, সুইডেনের মতো দেশগুলো এলজিবিটি সংস্থাগুলোর প্রতিবাদের সঙ্গে একাত্ম।

ব্যাপারটির প্রতিবাদে বিশেষ একটি আর্মব্যান্ড সামনে এনেছে তারা। সেটির নাম ‘ওয়ান লাভ’। কেইন আজ ইরানের বিপক্ষে এই ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ডই পরতে চেয়েছিলেন।

আর ফিফা পুরো এই ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড নিয়ে বেজায় বিরক্ত। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা চায়, তাদের নির্ধারিত আর্মব্যান্ড পরেই মাঠে নামুন সব দেশের অধিনায়কেরা। ফিফা মনে করে, বিশ্বকাপ যে দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সে দেশের আইন ও নিয়মনীতির প্রতি তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

ফিফা ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এফএ) ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিয়মানুযায়ী ওই বিশেষ আর্মব্যান্ড পরতে পারবেন না কোনো অধিনায়ক। ফিফা যে আর্মব্যান্ড বানিয়েছে, সেটিতে ঐক্য ও সমতার বার্তা আছে। প্রতি রাউন্ডেই সেই আর্মব্যান্ডের স্লোগান পাল্টে যাবে। কিন্তু এর বাইরে ম্যাচে অন্য কিছু পরে নামা যাবে না। ইরানের বিপক্ষে যদি কেইন অন্য কোনো আর্মব্যান্ড পরেন, তাহলে অবশ্যই ম্যাচের আগে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখানো হতে পারে।

ক্রিকেটের দিগন্তরেখা বদলে দিয়েছে আইপিএল। সেই ২০০৮ সাল থেকে তারা এই খেলার ইতিহাস বদলে দিতে শুরু করেছে। গত ১৬ বছরে এটি পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি টি–টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। আইপিএল এখন বাণিজ্যিক মূল্যে টক্কর দেয় ইউরোপীয় ফুটবল লিগগুলোর সঙ্গে। লিগটা নিজেদের এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে ক্রিকেট দুনিয়ার অনেক তারকাই এটিকে নিজ দেশের জাতীয় দলের চেয়েও অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

সম্প্রতি আইপিএলের প্রচারস্বত্ব বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যে। এই আইপিএলের পথ অনুসরণ করে ক্রিকেট দুনিয়ায় এসেছে আরও অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। বাংলাদেশ চালু করেছে বিপিএল, ওয়েস্ট ইন্ডিজে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট লিগ, পাকিস্তানে পিএসএল। শ্রীলঙ্কায় শুরু হয়েছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ।

অস্ট্রেলিয়া ঠিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আদলে না হলেও তাদের দেশে চালু রেখেছে জমজমাট টি–টোয়েন্টি লিগ বিগ ব্যাশ। ইংল্যান্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটা ঠিক টি–টোয়েন্টি নয়, হচ্ছে ‘দ্য হানড্রেডস’; অর্থাং ১০০ বলের ক্রিকেট। দক্ষিণ আফ্রিকা এ বছর থেকেই শুরু করেছে নতুন মোড়কে টি–টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘এসএ–টোয়েন্টি’। আইসিসির সহযোগী সদস্যদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতেও শুরু হয়েছে টি–টোয়েন্টি লিগ ইন্টারন্যাশনাল টি–টোয়েন্টি।

আইপিএলের আদলে গড়ে ওঠা বিশ্বব্যাপী এত ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোর ভবিষ্যৎ কী? ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী অবশ্য খুব একটা আশাবাদী নন এসব টি–টোয়েন্টি লিগ নিয়ে। তিনি মনে করেন, এই লিগগুলোর মধ্যে যেগুলো সঠিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে চলছে, টিকে থাকবে কেবল সেগুলোই।

একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে গিয়ে ভারতের বার্তা সংস্থাকে সৌরভ বলেছেন, ‘দুনিয়াজুড়ে এখন টি–টোয়েন্টি লিগ চলছে। কিন্তু আমি মনে করি, এর সব কটি টিকে থাকবে না। আইপিএলের কথা আলাদা। ভারতে ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনা আছে। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ইংল্যান্ডে আছে “দ্য হানড্রেডস”, দক্ষিণ আফ্রিকাতে শুরু হয়েছে এসএ–টোয়েন্টি। এই দেশগুলিতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা থাকায় এসব লিগের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কিন্তু অন্য দেশগুলোতে তেমনটা নেই।’

হঠাৎ হঠাৎ গজিয়ে ওঠা টি–টোয়েন্টি লিগগুলোকে নিয়ে মোটেও আশাবাদী নন সৌরভ, ‘শিগগির বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। খুব কম লিগই টিকে থাকবে। বাকিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। ভালোগুলোই টিকে থাকবে।’

সৌরভ এ বিষয়ে জিম্বাবুয়ের প্রসঙ্গ টেনেছেন, ‘অবকাঠামোর ওপর অনেক কিছু কিন্তু নির্ভর করে। আমরা যখন খেলা শুরু করি জিম্বাবুয়ে তখন ক্রিকেটের সমীহজাগানিয়া শক্তি। বড় বড় দলকে তারা হারিয়ে দেয়। কিন্তু এখন তাদের ক্রিকেটের মান কমে গেছে। মানুষের আগ্রহও কমে গেছে সে কারণে। অবকাঠামো যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আমি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল আর বিসিসিআইতে থাকার সময় খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছি।’

লিগপর্বের বড় দুই পরীক্ষা উতরে যাওয়ার পর এবার বাংলাদেশের সামনে দুর্বল ভুটান। আজ এই ম্যাচে জিতলেই সাফ নারী অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিশ্চিত হবে স্বাগতিক। আবার ড্র হলেও ৯ ফেব্রুয়ারি ফাইনালের মঞ্চে পা রাখবে গোলাম রব্বানী ছোটনের শীষ্যরা। তবে ড্র নয়, জিতেই ফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ।

পয়েন্ট টেবিলে এখন বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে ভারত। তিনে নেপাল। ভুটান বাদে তিন দলেরই আছে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ। পয়েন্ট যাই হোক, ফাইনালে যাওয়ার পথটা আজ অপর ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাওয়া ভারত ও নেপালের তুলনায় মসৃন বাংলাদেশের জন্য। ছোটনও মানছেন তা।

তবে ভুটানকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার পাত্র নন তিনি, ‘যদিও ভূটান টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে, দুই ম্যাচে অনেক গোল (১৬টি) খেয়েছে, তবে ওদেরকে আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। ফুটবলে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। তাই এ ম্যাচটিও আমরা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি।’

লিগপর্বের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়েই অনেকটা এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে ১-১ ড্র করে তারা। আজ তাই এক পয়েন্ট পেলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে ফাইনাল।

ছোটন বলেন, ‘শুরুতেই আমরা দুটি কঠিন ম্যাচ (নেপাল ও ভারত) খেলে ফেলেছি। যদিও ভূটানের বিপক্ষে ১ পয়েন্ট পেলে আমরা ফাইনালে উঠব, কিন্তু আমরা চাই এ ম্যাচ জিততে। গত দুই ম্যাচে মেয়েরা ভালো পারফর্ম করেছে। এবার চাওয়া জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনালে ওঠা।’

লিগপর্বের অন্য ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ড্র করলেই ফাইনাল নিশ্চিত হবে ভারতের। আর নেপালকে টিকে থাকতে জিততেই হবে।

কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের টার্ফ যেন এক মৃত্যুকূপ। খটখটে এই টার্ফের সবুজ আস্তরণের নিচে বড় বড় নুড়ি পাথর। ফুটবলারদের যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের চোট উপহারে এই টার্ফ সিদ্ধিহস্ত। তারপরও নির্বিকার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এখানে নিয়মিত আয়োজন করছে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ফুটবল। ফুটবলারদের ঝুঁকিটা তাদের ভাবনাতেই নেই। নিয়মিতই অভিযোগ করে খেলোয়াড়রা।

এবার সেই অভিযোগদাতাদের তালিকায় যোগ দিয়েছে সাফ নারী অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আসা নেপাল ও ভুটান।

নেপালের নিয়মিত একাদশে খেলা কুসুম খাতিওরা হাঁটুর চোটে ছিটকে পড়েছেন টুর্নামেন্ট থেকে। ভুটানের এক নম্বর কিপার নরবু জাংমো, ডিফেন্ডার গঙ্গা, সোনাম ঘাকিকে মেনে নিতে হয়েছে একই পরিণতি।

নেপালের কোচ ইয়াম প্রাসাদ গুরং বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি বল আর টার্ফ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এখানে খেলে প্রথম ম্যাচেই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন কুসুম খাতিওরা হাঁটুর চোট নিয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছে। এখানকার টার্ফটা অনেক শক্ত। এখানে খেললে হ্যামস্ট্রিং চোট, মাংসপেশিতে টান ও হাঁটুর চোটের সম্ভাবনা বেশি।’

ভুটানের কোচ কারমা দেমা বলেন, ‘আমার প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক দুই সেন্টারব্যাক চোটে পড়েছে। এবার একজন ডিফেন্ডার চোটে পড়ল। আমাদের টার্ফের সঙ্গে তুলনা করলে এখানকার টার্ফ খুবই বাজে।’

এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বাফুফের মহিলা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ দিয়েছেন দায়সারা উত্তর, ‘আমি এটা নিয়ে প্রেসিডেন্টের (কাজী সালাউদ্দিন) সঙ্গে কথা বলব। এই মাঠে সমস্যা আছে, তা সবাই জানে। কিছু করার নেই। এটার যতক্ষণ পর্যন্ত সমাধান না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সংস্কার করেই খেলতে হবে।’

বাফুফে এই মাঠে খেলে চোটে আক্রান্ত হওয়া কোনো ফুটবলারের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে বলে শোনা যায়নি এখনো।

সুপার কাপের অভিষেক আসরের মোহামেডান-আবাহনী ফাইনাল ম্যাচের একটি মুহূর্ত। -ফাইল ছবি

বাফুফে ২০০৯ সালে সাড়ম্বরে আয়োজন করেছিল কোটি টাকার সুপার কাপ। স্বপ্নের ফাইনালে আবাহনীকে হারিয়ে প্রথম আসরের শিরোপা জিতেছিল মোহামেডান। সেদিন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এসেছিলেন হাজারো দর্শক। সেই উন্মাদনা দেখে কাজী সালাউদ্দিন প্রতি বছর জমজমাট আসরটি আয়োজন করার ঘোষণা দেন।

তবে অনেক প্রতিশ্রুতির মতো এটাও রাখতে পারেননি তিনি। এক মৌসুম বিরতি দিয়ে ২০১১ সালে মাঠে গড়ায় দ্বিতীয় আসর। সেবার চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। আর সবশেষ ২০১৩ সালে তৃতীয় আসরে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে মোহামেডান। এরপর থেকেই বাক্সবন্দী সুপার কাপ।

দীর্ঘ এক দশক পর আসরটি আবার আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। তবে সেটাও স্পন্সর পাওয়া সাপেক্ষে। স্পন্সর চূড়ান্ত না হলেও বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ অবশ্য হোমওয়ার্কগুলো করে রাখছেন।

স্পন্সর হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে সোহাগ বলেন, ‘খুব করে আশা করি, আগামী দুই দিনের মধ্যে স্পন্সরশিপের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারব।’

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২ এপ্রিল থেকে সুপার কাপ শুরুর পরিকল্পনা আছে ফেডারেশনের। যা শেষ হবে ১৩ তারিখে। আসরটি হবে ছয় দল নিয়ে। তিনটি করে দল দুই গ্রুপে খেলবে, প্রতি গ্রুপ থেকে সেরা দুটি করে দল সেমিফাইনাল খেলবে এবং এরপর ফাইনাল।

তবে তার আগে বাছাইপর্ব হবে জানিয়ে সোহাগ বলেছেন, ‘আগামী ১৪ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি হবে বাছাইপর্ব। গত বছরের লিগ টেবিলের সেরা চারটি দল সরাসরি মূল পর্বে খেলবে। বাকি ৭টি দলের মধ্যে বাছাই পর্ব হবে, সেখান থেকে ২টি দল পাবে মূল পর্বের টিকেট।’

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকার পুরস্কারজয়ী ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি তার ওপর সংঘটিত ছুরি হামলা নিয়ে প্রথমবারের মতো কথা বলেছেন। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা রুশদি এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। কিন্তু বেঁচে ফেরায় তিনি নিজেকে ‘ভাগ্যবান’ মনে করছেন। পাশাপাশি প্রকাশ করেছেন কৃতজ্ঞতা।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্কারকে দেওয়া রুশদির একটি সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

২০২২ সালের আগস্টে নিউইয়র্কে একটি সাহিত্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন রুশদি। এ সময় মঞ্চে তার ওপর হামলা চালান ২৪ বছর বয়সী যুবক হাদি মাতার। নিউ জার্সির এই বাসিন্দা সেদিন রুশদিকে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করেন। এতে নিজের রক্তের ওপর লুটিয়ে পড়েন রুশদি। এর জের ধরে প্রায় ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয় এই লেখককে। পরে এক চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন তিনি।

দ্য নিউইয়র্কারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুশদি বলেন, ‘আমি অনেকটাই ভাল হয়েছি। যা ঘটেছিল তা বিবেচনা করে দেখলে খুব একটা খারাপ নেই। বড় ক্ষতগুলো সেরে গেছে। তবে বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও তালুর নিচের অর্ধেকটা অনুভব করছি। আমাকে প্রচুর হাতের থেরাপি নিতে হচ্ছে। যদিও আমাকে বলা হয়েছে শারীরিকভাবে আমি উন্নতি করছি’।

রুশদি জানান, আঙ্গুলের কিছু অংশে অনুভূতি না থাকায় লিখতে অসুবিধা হচ্ছে তার। তিনি বলেন, ‘আমি উঠে দাঁড়াতে পারছি। হাঁটতে পারছি চারপাশে। তবে আমার শরীরে এমন কিছু অংশ আছে যেগুলো নিয়মিত চেকআপ করতে হবে। এটা ছিল একটি মারাত্মক আক্রমণ’। তিনি জানান, ছুরি হামলার ঘটনায় মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। এর ফলে তাকে নিরাপত্তার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাস দিয়ে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন রুশদি। শুধু যুক্তরাজ্যেই বইটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ লেখার পর থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছিলেন এই লেখক। এই উপন্যাস লেখার জন্য রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়। উপন্যাসটিতে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন মুসলিমরা।

উপন্যাসটি প্রকাশের এক বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন। সেই সঙ্গে তার মাথার দাম হিসেবে ঘোষণা করেন ৩ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার। রুশদি ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। মঙ্গলবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হচ্ছে তার লেখা নতুন উপন্যাস ‘ভিক্টরি সিটি’। পুরুষতান্ত্রিক বিশ্বকে উপেক্ষা করে এই নারী কীভাবে একটি শহরকে পরিচালনা করেছেন, সে গল্পই উঠে এসেছে বইটিতে।

ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্যে এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী টি-টোয়িন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। তবে তাদের প্রস্তুতিটা ভালো হয়নি। পাকিস্তানের কাছে বেশ বড় ব্যবধানে হারলেন টাইগ্রেসরা। কেপটাউনে পাকিস্তানের মেয়েদের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান সংগ্রহ করে টাইগ্রেসরা। জবাবে ৪ উইকেট হারালেও ১৬ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। বল হাতে বাংলাদেশের রুমানা আহমেদ ও মারুফা খাতুন ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ দলের ব্যাটাররা শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকেন। পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে খাবি খেয়েছেন সালমা-স্বর্ণারা। তবে এর মাঝেও কিছুটা লড়াই উপহার দিয়েছেন শারমিন সুলতানা। ৪১ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেছেন তিনি।

বল হাতে পাকিস্তানের নিদা দার ও নিশরা ২টি করে এবং সাদিয়া ইকবাল, আলমান আনোয়ার ও তুবা হাসান ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ওপেনার সিদরা আমিনের উইকেট হারালেও জাভেরিয়া ওয়াদুদ (১২) ও বিসমাহ মারুফের (২৪) ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। মাঝে ওয়াদুদের পর দ্রুত মুনিবা আলী সিদ্দিকিও (৯) বিদায় নিলেও পাকিস্তানের জয় পেতে সমস্যা হয়নি। নিদা দার (২৪) ও আয়েশা নাসিম (২০) মিলেই বাকি পথ সহজেই পাড়ি দেন। দুজনেই শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থেকে মাঠ ছাড়েন।

দফায় দফায় আঘাত হানা ভূমিকম্পে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার বহু অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ধসে পড়া হাজার হাজার ভবন থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে একের পর এক মরদেহ আর আহতদের। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের উপচেপড়া ভিড়। আহত আর স্বজনহারাদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে ভূমিকম্পকবলিত এলাকার বাতাস। আকস্মিক এ দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। এরমধ্যে তুরস্কের কিছু অঞ্চলের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র শীতে দেখা দিয়েছে ভয়ংকর মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা। গতকাল দুপুরে দ্বিতীয় দফার ভূমিকম্পে ও অসংখ্য ভূমিকম্পন-পরবর্তী ঝাঁকুনির (আফটার শক) কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তুরস্ক জুড়েই। রাজধানী আঙ্কারায় ভূকম্পন তেমনটা অনুভূত না হলেও এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

আমিও থাকি রাজধানী আঙ্কারায়। তীব্র শীতের কারণে গভীর ঘুমে ছিল পুরো শহর। এ কারণে হয়তো এখানে যে মৃদু কম্পন হয়েছে তা অনুভব করতে পারেননি বেশিরভাগ বাসিন্দা। আমিও টের পাইনি। তবে নামাজের জন্য খুব ভোরেই ঘুম ভাঙে আমার। নামাজ শেষ করে মোবাইল ফোনটা হাতে নিতেই একজনের ফোন আসে। তার মাধ্যমেই জানতে পারি কাহারামানমারাশ, গাজিয়ানতেপ শহরসহ অন্তত ১০ শহর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভূমিকম্পে। সে সময় বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ববহ মনে হয়নি। তবে সময় যত বাড়তে থাকে ততই আসতে থাকে ক্ষয়ক্ষতির খবর। স্পষ্ট হতে থাকে ধ্বংসের চিত্র। বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে উদ্বিগ্ন মানুষজনও খবর নিতে শুরু করেন। তুরস্কের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইন তুর্কির (অ্যাবাস্ট) সভাপতি হওয়ার কারণে দায়িত্ব হিসেবেই আমিও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাংলাদেশিসহ পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি। যোগাযোগ করি বাংলাদেশ দূতাবাসেও। তবে আশার কথা, দূতাবাস বা বিভিন্ন শহরের সূত্রগুলো কোনো বাংলাদেশির হতাহতের খবর দেয়নি।

এবারের ভূমিকম্পের সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল মোবাইল ফোনেও কোনো সতর্কতামূলক বার্তা না আসা। আগে ৫ মাত্রার ভূমিকম্পেও সতর্কতামূলক বার্তা পেয়েছিলাম। অথচ ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের আগে কোনো অ্যালার্ট আসেনি। এমনকি পরে বড় মাত্রার আফটার শকেরও কোনো আগাম আভাস পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের ঘটনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে তুরস্ক সরকার। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। তবে তীব্র শীত আর তুষারপাতের কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার তৎপরতা। সরকারি হিসাবেই ইতিমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শীত থেকে বাঁচাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওইসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। টেলিফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি শহরে। তাই সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পেতে হয়তো আরও অপেক্ষা করতে হবে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা আর অবকাঠামোগত ক্ষতি যে স্মরণকালের যেকোনো ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে যাবে তাতে সন্দেহ নেই। এখন দেখার বিষয় তুরস্ক সরকার কীভাবে এ বিপর্যয়ের মোকাবিলা করে?

লেখক: পিএইচডি গবেষক, সাংবাদিকতা বিভাগ, আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়, তুর্কিয়ে।

চার বছর ধরে চলা তদন্তের পর ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগ এনেছে প্রিমিয়ার লিগ কর্র্তৃপক্ষ। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০০ এর বেশি নিয়ম ভেঙেছে দলটি। সিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজস্ব সংক্রান্ত আর্থিক তথ্য, কোচ ও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের বিবরণ, উয়েফার নিয়ম লঙ্ঘন এবং প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার সঙ্গে সম্পর্কিত। দোষী প্রমাণিত হলে সিটির পয়েন্ট কাটা, দ্বিতীয় বিভাগে অবনমন কিংবা শিরোপা কেড়ে নেওয়ার মতো কঠিন শাস্তি হতে পারে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়েছে এক সমবায় সমিতি। এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার দুপুরে ওই সমিতির অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন গ্রাহকরা।

এলাকাবাসী, সমিতির গ্রাহক ও তাদের অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

তারা জানান, ১০-১৫ দিন আগে ওই বাজার এলাকায় তাহিম সরকার সুপার মার্কেটে কক্ষ ভাড়া নেয় হাবীব হাসান, তাসলিমা আক্তারসহ কয়েকজনের একটি চক্র। পরে তারা সেখানে প্রজন্ম শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি অফিস খুলেন। যার কথিত রেজিঃ নং-০২২৮৮। সাইনবোর্ডে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত লেখা দেখিয়ে চক্রটি কৌশলে শতাধিক গ্রাহক বানায়। পরে তারা সহজ কিস্তি ও স্বল্পসুদে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা নেয়। কিন্তু, গত রবিবার সকালে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি পালিয়ে যায়।

শ্রম পরিদর্শক পদে যোগ দেওয়ার ৩৪ বছর পর পদোন্নতি পেলেন মাহমুদুল হক। স্বপ্ন দেখতেন পদোন্নতির সিঁড়ি বেয়ে একসময় প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে যাবেন। সেই স্বপ্ন আট বছরেই লুটিয়ে পড়ল জ্যেষ্ঠতার তালিকায়।

১৯৮৮ সালে যোগ দেওয়ায় ’৯৫ সালেই পদোন্নতি পাওয়ার কথা ছিল মাহমুদুল হকের। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অদূরদর্শিতা সে স্বপ্ন শুরুতেই বাধা পেল। এন্ট্রি পোস্টে যোগ দেওয়ার পর তার মতো অন্য কর্মচারীরা যখন পদোন্নতির স্বপ্নে বিভোর, তখন তাতে গা-ই করলেন না সেই সময়ের প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

মাহমুদুল অপেক্ষায় রইলেন পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য। সেই পরিবর্তন আসতে আসতে চাকরিতে কেটে গেল আঠারো বছর। আঠারোতে মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হয়। তিনিও ভাবলেন আঠারোতে তিনি না হয় ‘জব ম্যাচিউরিটি’তে পৌঁছালেন। চাকরির আঠারো বছরে পদোন্নতি পেলেও মন্দ হয় না।

কিন্তু অবাক ব্যাপার, কর্তৃপক্ষ পদোন্নতি দিল, তবে মাহমুদুলকে ছাড়া। পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে কোথাও তার নাম নেই। হতাশায় মুষড়ে পড়লেন তিনি। জুনিয়র কর্মকর্তারদের নাম আছে, অথচ তার নাম নেই। প্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারকদের দরজায় দরজায় ঘুরলেন ন্যায়বিচারের আশায়। কিন্তু তারা পাত্তাই দিলেন না বিষয়টি।

তারা আমলে না নিলেও মাহমুদুলের স্বপ্ন তো সেখানেই থেমে যাওয়ার নয়। সেই স্বপ্ন পুঁজি করে তিনি গেলেন আদালতে। সেই ভিন্ন জগৎটাও কম চ্যালেঞ্জিং ছিল না। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে রায় দিল। মাহমুদুল আনন্দে আত্মহারা হলেন। কিন্তু সেই আনন্দ বেশি দিন স্থায়ী হলো না। সরকার আপিল করল প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে। মামলার ফল উল্টে গেল। হতাশায় ভেঙে না পড়ে তিনি গেলেন উচ্চ আদালতে। আপিল বিভাগে সিভিল আপিল মামলা করলে প্রশাসনিক আপিল আদালতের রায় বাতিল হয়। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকে।

জলে নেমে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করার মতো মাহমুদুল হকও যেন সরকারের সঙ্গে লড়াই করতে নামলেন। আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন করল সরকারপক্ষ। একপর্যায়ে সরকার বুঝতে পারল কোনোভাবেই তারা এ মামলায় জিততে পারবে না। সরকারপক্ষে রিভিউ পিটিশন প্রত্যাহার করা হলো। আদালত সরকারের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনকে আইনের কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা করল। জুনিয়র কর্মকর্তাকে যেদিন থেকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং যতবার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, একইভাবে মাহমুদুল হককে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। বকেয়া বেতন-ভাতাসহ সব পাওনা কড়ায়-গ-ায় পরিশোধের নির্দেশনা আসে।

আদালতের এই নির্দেশনা দেওয়া হয় ২০১৮ সালে। এরপর আদেশ বাস্তবায়ন করতে সরকারের লেগে যায় প্রায় চার বছর। ২০২২ সালের ১১ মে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ৩৪ বছর পর পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন মাহমুদুল হক। আবারও তাকে ঠকিয়েছে সরকার। জুনিয়র কর্মকর্তা যুগ্ম মহাপরিদর্শক হলেও তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় তার দুই ধাপ নিচের সহকারী মহাপরিদর্শক পদে। উপমহাপরিদর্শক ও যুগ্ম মহাপরিদর্শক আরও ওপরের পদ। আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কখনোই প্রজ্ঞাপন মাহমুদুল হকের জন্য ভালো বার্তা বয়ে আনেনি। পুরো চাকরিজীবন আদালতের বারান্দায় ঘুরে তিনি পৌঁছেছেন অবসরের প্রান্তসীমায়। আর তিন মাস পরে তিনি অবসরে যাবেন। যৌবন ও মধ্য বয়সের দিনগুলোতে আদালতে ঘুরে বেড়ানোর শক্তি ও সাহস থাকলেও মাহমুদুল হক এখন সেই সাহস দেখাতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করছেন। পারবেন তো শেষ সময়ে এসে সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে?

মাহমুদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, তিনি আদালতের কাছেই জানতে চাইবেন, আদালতের বিচার না মানার শাস্তি কী।

পুরো ঘটনা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা শুনিয়ে জানতে চাইলেন, কতজনের পক্ষে মাহমুদুল হকের মতো লড়াকু মনোভাব দেখানো সম্ভব?

সীমাহীন আনন্দ নিয়ে মানুষ সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়। এরপরই তার মধ্যে যে স্বপ্নটি দানা বাঁধে তা হচ্ছে পদোন্নতি। কার কীভাবে পদোন্নতি হবে তা আইনকানুন, নিয়ম-নীতি দিয়ে পোক্ত করা। পুরো বিষয়টি কাচের মতো স্বচ্ছ। এরপরও পদোন্নতি হয় না। দিন, মাস, বছর পার হয়ে যায়, কাক্সিক্ষত পদোন্নতির দেখা মেলে না।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ২৬টি ক্যাডারের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি হয়। বাকি ক্যাডারে হতাশা। তার চেয়েও কঠিন পরিস্থিতি নন-ক্যাডারে। ক্যাডার কর্মকর্তারা নিজের পদোন্নতির ষোলো আনা বুঝে নিয়ে ঠেকিয়ে দেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি। সংখ্যায় বেশি হওয়ায় নন-ক্যাডাররা একজন আরেকজনকে নানা ইস্যুতে আটকাতে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেন। সরকারের মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কর্মচারী। সেই হিসেবে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনবলের পদোন্নতি হয় না। পে-কমিশন হলেই কর্মচারীদের পদোন্নতির জন্য করুণা উথলে ওঠে। এমনকি ব্লকপোস্টে যারা আছেন, তাদের জন্যও পদোন্নতির বিকল্প সুবিধা বাতলে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর্মচারীদের পদোন্নতি উপেক্ষিতই থাকে।

যখন সময়মতো পদোন্নতি হয় না, তখন নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে থাকে। এসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট দপ্তর-অধিদপ্তরের চৌহদ্দি পেরিয়ে আমজনতাকেও প্রভাবিত করে। নন-ক্যাডার কর্মকর্তা আর সঙ্গে কর্মচারীরা যখন বুঝতে পারেন পদোন্নতির আশা তাদের নেই, তখন তারা দুহাতে টাকা কামানোর ধান্দায় মেতে ওঠেন। এতে করে ঘুষের সংস্কৃতি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। অকার্যকর পথে হাঁটে রাষ্ট্র। সাধারণ মানুষ টাকা ছাড়া তাদের কাছ থেকে কোনো সেবা পায় না, ব্যবসায়ীরা নতুন কোনো আইডিয়া নিয়ে ব্যবসায় আসেন না, ব্যবসাবান্ধব পরিস্থিতি না থাকায় মুখ ফিরিয়ে নেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর বারবার আহ্বানেও বিনিয়োগকারীরা সাড়া দেন না। সাধারণ মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দেওয়ার বাণীতেও উদ্বুদ্ধ হন না সংশ্লিষ্টরা।

এই পরিস্থিতিতে অনিয়ম আটকে রাখার সব কৌশলই ব্যর্থ হচ্ছে। যথাযথ তদারকি না থাকায় বিভাগীয় ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে। ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০টি অডিট আপত্তি ঝুলে থাকায় অডিট প্রতিষ্ঠানগুলোও আগ্রহ হারিয়ে নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছে অনিয়মে। দন্তহীন বাঘে পরিণত হওয়ার তথ্য সাংবাদিকদের জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান নিজেই।

নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদোন্নতির বড় একটা অংশ আটকে রাখে মন্ত্রণালয়গুলো। এই আটকে রাখার কারণ হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের স্বার্থ। বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তরে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিলে নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্তদের ওপরের পদে বসাতে হবে। এতে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের এককালীন লাভ; অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে একবার পদোন্নতি দেওয়া যাবে। কিন্তু পদোন্নতি না দিয়ে সংশ্লিষ্টদের চলতি দায়িত্ব দিলে বছরজুড়ে টাকা আয় করতে পারেন নীতিনির্ধারকরা। দপ্তর, অধিদপ্তরে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি দায়িত্বপ্রাপ্তদের আয় অনুসারে নীতিনির্ধারকদের মাসোহারা দিতে হয়। নন-ক্যাডারদের পদোন্নতি দেওয়া হলে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের নিয়মিত আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে আইন বা বিধি-বিধানের ফাঁকফোকর গলিয়ে নন-ক্যাডার এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি আটকে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।

সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদের সভাপতি নিজামুল ইসলাম ভূঁইয়া মিলন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সচিবালয় এবং সারা দেশের সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতির মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। নন-ক্যাডারের কিছু বিষয় ছাড়া সচিবালয়ের কর্মচারীরা সময়মতো পদোন্নতি পায়। কিন্তু সচিবালয়ের বাইরে পদোন্নতি হয় না বললেই চলে। সচিবালয়ে মাত্র ১০ হাজার কর্মচারী আছেন। সচিবালয়ের বাইরে আছেন ১০ লাখের বেশি। এসব কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে বহু বছর ধরে চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সমস্যা নিয়ে কাজ করার জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছে। কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে। ব্যস, ওই পর্যন্তই। এরপর এর কোনো অগ্রগতি নেই। যেখানে সরকারপ্রধান বলেন, চাকরিজীবনে সবাই যেন কমপক্ষে একটি পদোন্নতি পায়। সেখানে বহু কর্মচারী কোনো পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যাচ্ছেন। সরকারপ্রধানের নির্দেশনা উপেক্ষা করেন আমলারা। তাদের আগ্রহ কেনা-কাটায়, বিদেশ ভ্রমণে, নতুন জনবল নিয়োগে। এসব করলে তাদের লাভ। কর্মচারী পদোন্নতি দিতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এর নিশ্চয়ই একটা শেষ আছে। বৈষম্যের পরিণতি কী হয়, তা অনেক দাম দিয়ে বিডিআর বিদ্রোহে আমরা দেখেছি।’

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নন-ক্যাডারদের পদোন্নতি ঝুলছে বছরের পর বছর। এই অধিদপ্তরের কয়েক শ কর্মকর্তা পাঁচ বছর আগেই পদোন্নতির যোগ্য হয়েছেন। নানা কায়দা-কানুন করে তাদের পদোন্নতি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক সংশ্লিষ্টদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা করার নামে সময়ক্ষেপণ করছে। জ্যেষ্ঠতার তালিকা করার পর এখন তাদের পারিবারিক সদস্যদের তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সংস্থা নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদেরও তথ্য তালাশ করছে। তাদের আত্মীয়দের মধ্যে কে কোন দলের সমর্থক তার তথ্য নিচ্ছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।

গত মাসে শেষ হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দায়িত্ব পালন করছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সুরম্য ভবনে দায়িত্ব পালন করলেও ওই নন-ক্যাডার কর্মকর্তার মনের অবস্থাটা মনোহর ছিল না। কেমন আছেন জানতে চাইলে ওই নন-ক্যাডার কর্মকর্তা বলেন, ‘ভালো নেই। চাকরি করছি, পদোন্নতি নেই। ২০১৫ সালের আগে পদোন্নতি না পেলেও টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড ছিল। তাও তুলে দেওয়া হয়েছে। তুলে দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল সময়মতো পদোন্নতি হবে, ব্লকপোস্টধারীদের দেওয়া হবে বিশেষ আর্থিক সুবিধা। এসবের কোনোটাই হয়নি।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে একটি প্রশাসনিক আদেশ খুবই পরিচিত। সেই প্রশাসনিক আদেশ ১৬/২০১৮ অনুযায়ী ৭০ ভাগ কর্মকর্তা সরাসরি নিয়োগ হবে। আর ৩০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ৭০ ভাগ কর্মকর্তা সরাসরি নিয়োগের ফলে বিমানে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মকর্তা বেশি। নীতিনির্ধারকদের নতুন জনবল নিয়োগে আগ্রহ বেশি। পুরনোদের পদোন্নতি দিয়ে ওপরের পদ পূরণের চেয়ে তারা নতুন নিয়োগে যান। ফলে কারও চাকরিজীবনে একবারও পদোন্নতি হয় না। নামমাত্র যে পদোন্নতি হয় তা অনিয়মে ভরপুর।

নন-ক্যাডার ছাড়াও ১৩তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত পদোন্নতি হয় না বললেই চলে। প্রতিটি দপ্তরে এসব গ্রেডের পদোন্নতি আটকে আছে। অথচ এসব গ্রেডেই বেশি লোক চাকরি করছেন। সরকারের মোট জনবল প্রায় ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৭ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ২৩ শতাংশ পদের মধ্যেও নন-ক্যাডার রয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৭৭ শতাংশ পদই ১৩তম থেকে তার পরের গ্রেডের। এতে করে সহজেই বোঝা যায় সরকারের জনবলের বড় অংশই পদোন্নতির চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। সরকারের জনবলের এই বিশাল অংশ যখন পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন, তখন তারা নানা অনিয়মে ঝুঁকে পড়েন।

বেশির ভাগ দপ্তর, অধিদপ্তর পরিচালনা করেন বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তারা তাদের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে ক্যাডার কর্মকর্তাদের দপ্তর, অধিদপ্তরে পাঠান। প্রেষণে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা শুধু রুটিন কাজটুকুই করতে চান। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ বা পদোন্নতি রুটিন কাজ না হওয়ায় তা উপেক্ষিত থাকে। তা ছাড়া পদোন্নতি দিতে গিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়; বিশেষ করে মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রী বা সচিব তাদের পছন্দের লোককে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সংস্থার প্রধানকে চাপ দেন। এই চাপ উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ না থাকায় অযোগ্য লোককে পদোন্নতি দিতে হয় সংস্থার প্রধানকে। এই জটিলতা থেকে দূরে থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতি দেওয়া থেকেও দূরে থাকেন সংস্থার প্রধানরা।

নন-ক্যাডার কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের ১৪ গ্রেডের একজন কর্মচারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাইরের লোকের ইচ্ছাটাই জাগে না আমাদের পদোন্নতি দিতে। আমাদের দপ্তরপ্রধান মহাপরিচালক প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। অতিরিক্ত মহাপরিচালকও অনেক সময় প্রশাসন ক্যাডার থেকে প্রেষণে আসেন। তাদের কেন ইচ্ছা জাগবে আমাদের পদোন্নতি নিয়ে। যদি এসব পদে ফুড ক্যাডারের কর্মকর্তা থাকতেন, তাহলে তারা খাদ্য বিভাগের সমস্যা বুঝতেন। তা ছাড়া নিয়োগ বিধি সংশোধনের নামে আমরা দীর্ঘদিন একই পদে আটকে আছি।’

গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এক আবেদনে জানান, ‘বর্তমানে সচিবালয়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কর্মরত। এর বিপরীতে ক্যাডারবহির্ভূত সংরক্ষিত পদের সংখ্যা ২৬৭টি, যা খুবই নগণ্য। ফলে একই পদে ২০-২২ বছরের বেশি সময় কর্মরত থাকার পরও অনেকে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। পদোন্নতি না পাওয়ায় সৃষ্ট হতাশার ফলে কর্মস্পৃহা নষ্ট হচ্ছে।’

সরকার এ সমস্যা থেকে কীভাবে বের হতে পারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব সমস্যা সমাধানে সরকার সব সময়ই কাজ করে। কিন্তু এ চেষ্টা জটিলতার তুলনায় কম। এ বিষয়ে আরও এফোর্ট দিতে হবে।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে ১১২ কেন্দ্রের ফলাফলে ৯৫১ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। একতারা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৮৬ ভোট। এ আসনে জয় পেয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম তানসেন। মশাল প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার ৪৩৭ ভোট।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বগুড়ার দুইটিসহ মোট ৬ আসনে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির এমপিরা পদত্যাগের ঘোষণা দিলে এ আসনগুলো শূন্য হয়।

তখন, বগুড়া-৬ (সদর) এবং বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন হিরো আলম। নির্বাচন কমিশন একদফা তার প্রার্থিতা বাতিল করলেও পরে আদালতে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন হিরো আলম বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সদরের কেন্দ্র সব দখল হয়্যা গ্যাছে। ডিসি-এসপিক কয়্যাও কোনো কাম হচ্চে না। সদরের আশা সব শ্যাষ। কাহালু-নন্দীগামের অনেক কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে দেকছি। ভোট খুব সুষ্ঠু হচ্চে। মাঠের অবস্থা ভালো। কাহালু-নন্দীগ্রামে নিশ্চিত এমপি হচ্চি।’

এর আগে, সকালে সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যান তিনি। ভোট দেওয়ার পর হিরো আলম বলেন, ‘বগুড়া-৬ আসনে আগে থেকেই গোলযোগের আশঙ্কা করেছিলাম, সেটাই সত্যি হয়েছে। নির্বাচনি এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে বগুড়া-৪ আসনে ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। এভাবে সুষ্ঠু ভোট হলে এই আসনে আমিই বিজয়ী হবো।’

এদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থীর এজেন্ট বাদে অন্য এজেন্টদের ভোটকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সকালে হিরো আলমসহ তিনজন প্রার্থী এ অভিযোগ করেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করা হয়।

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা খরচের হিসাব ধরে বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৭২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বেশি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে খরচের বেশিরভাগ অর্থ জোগাড়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়ানো হবে। আসছে জুনের প্রথমভাগে জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী বাজেট হবে জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ বাজেট। তাই এখানে নেওয়া কোনো পদক্ষেপে যেন আওয়ামী লীগ সরকার সমালোচনার মুখে না পড়ে এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের থাকছে বিশেষ নজর। এ ছাড়া রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। তাই সংকট ও নির্বাচন দুটোই মাথায় রাখতে হচ্ছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে মোটাদাগে একটি রূপরেখা পাঠানো হয়েছে। নতুন পরিকল্পনার পাশাপাশি গত তিন মেয়াদে সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে আগামী বাজেট প্রস্তাবে তা মনে করিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো আগামী বাজেটের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায়ের কৌশল নির্ধারণে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে হিসাব ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট প্রস্তাব প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে তা কয়েক দফা খতিয়ে দেখা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তিনি প্রয়োজনীয় সংশোধন, যোগ-বিয়োগ করে আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার আগেও অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে।

ডলার সংকটে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারছেন না সাধারণ ব্যবসায়ীরা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পণ্যের দাম বাড়ছে। কাঁচামাল সংকটে বিপাকে শিল্প খাত। ব্যাংক খাতে অস্থিরতা। নতুন চাকরির সুসংবাদ নেই বললেই চলে। দফায় দফায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। খুব শিগগিরই এসব সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছেন না অর্থনীতিবিদরা। অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঋণদাতা সংস্থার কঠিন শর্তের বেড়াজালে আছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতেই আগামী অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশি^ক অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার কী কী পদক্ষেপ নেবে তা আগামী বাজেটে স্পষ্ট করা হবে। দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথাও বলা হবে। তবে শত সংকটের মধ্যেও আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী যতটা সুবিধা দেওয়া সম্ভব তা দিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে কাঁচামাল আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দিতে হিসাব কষা হচ্ছে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডলার সংকটে আমদানি রপ্তানি প্রায় বন্ধ। ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকটকাল চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বাজেটে আমাদের দাবি অনুযায়ী নগদ সহায়তা দিতে হবে। রাজস্ব ছাড় দিতে হবে। কর অবকাশ ও কর অব্যাহতি বাড়াতে দিতে হবে।’

ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া সংস্কারের শর্ত মানার অঙ্গীকার করে সরকার ঋণ পেয়েছে। শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে ঋণের যেকোনো কিস্তি আটকে দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। পর্যায়ক্রমে প্রতি অর্থবছরের বাজেটে এসব সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়ন করা হবে। আসছে বাজেটে শর্ত মানার চেষ্টা থাকবে। বিশেষভাবে অতীতের মতো ঢালাওভাবে কর অব্যাহতি দেওয়া হবে না। আর্থিক খাতের সংস্কারের কিছু ঘোষণা থাকবে। বিশেষভাবে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দেওয়া হবে। আইএমএফের সুপারিশে এরই মধ্যে ভ্যাট আইন চূড়ান্ত হয়েছে। আয়কর আইন মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে। শুল্ক আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে আছে। এ তিন আইন অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। আসছে বাজেটে টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার কথা বলা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কিছু উদ্যোগের কথা শোনানো হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঋণদাতা সংস্থার শর্ত মানার কথা বলা হলেও সব আগামী বাজেটে একবারে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে অর্থনীতির গতি কমে যাবে।’

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এনবিআর-বহির্ভূত খাত এবং এনবিআর খাতের জন্য মোট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৪ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৯ শতাংশ বাড়িয়ে ধরা হতে পারে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা হবে। এনবিআর এ লক্ষ্যমাত্রা কমানোর জোরালো আবেদন করেছে। কিন্তু তা আমলে আনেননি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ বা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হিসেবে, ৩৪ শতাংশ বা ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা আয়কর হিসেবে এবং ৩১ শতাংশ বা বাকি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শুল্ক হিসেবে সংগ্রহ করার কথা বলা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার কথা শুধু বললেই হবে না। কীভাবে অর্জিত হবে, সেটি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা না থাকলে প্রতিবারের মতো ঘাটতি থাকবে। রাজস্ব ঘাটতি হলে অর্থনীতিতে আয় ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত।’

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর উৎসে করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। সম্পদশালীদের ওপর নজর বাড়ানো হবে। শুধু বেশি সম্পদ থাকার কারণে অতিরিক্ত কর গুনতে হবে। সারচার্জ বহাল রাখা হবে। সুপারট্যাক্স গ্রুপকে উচ্চহারে গুনতে হবে কর। আগামী অর্থবছরেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা থাকবে। অর্থ পাচারোধে আইনের শাসন কঠোর করা হবে। অর্থ পাচার আটকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। করপোরেট কর কমানোর দাবি থাকলেও তা মানা হবে না। অন্যদিকে নির্বাচনের আগের বাজেট হওয়ায় করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে খোদ অর্থমন্ত্রী বললেও রাজস্ব আদায় কমে যাবে এমন যুক্তি দেখিয়ে এনবিআর রাজি নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। কমানো হবে শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানি শুল্ক। ডলারের ওপর চাপ কমাতে বেশি ব্যবহৃত পণ্য আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হবে। বিলাসবহুল পণ্য আমদানি কমাতে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে। তৈরি পোশাক খাতের সব সুবিধা বহাল রাখা হবে। শিল্পের অন্যান্য খাতেও কতটা সুবিধা বাড়ানো যায় তা নিয়ে এনবিআর হিসাব করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বাজেট প্রস্তুতিবিষয়ক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন প্রকল্পে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি এবং ঘাটতি ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হতে পারে। আগামী অর্থবছরে জিডিপির ৬ শতাংশ ঘাটতি ধরে ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হতে পারে বলে জানা যায়। ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে ভর্তুকি কমানোর চাপ থাকলেও আগামীবার এ খাতে বেশি ব্যয় ধরা হতে পারে। এ খাতে ১ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় আছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ অনুমোদন করে। ঋণদাতা সংস্থাটির কাছ থেকে বাংলাদেশ ছয় কিস্তিতে তিন বছরে ৪৭০ কোটি ডলার পাচ্ছে। ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের দিন আইএমএফ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে পূর্বাভাস দেয়। সংস্থাটি বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে হতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা হতে পারে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

এতে রিজার্ভ সম্পর্কে বলা হয়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ কমে দাঁড়াবে ৩ হাজার কোটি ডলার। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়বে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।