শিক্ষা পরামর্শ | ক্লাসরুম | দেশ রূপান্তর

ছাত্রজীবনে রুটিন করে পড়াশোনার বিকল্প নেই। রুটিনের গুরুত্ব ও রুটিন তৈরিতে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ টিপস জানাচ্ছেন বিপুল জামান

বলা হয়ে থাকে, সুঅভ্যাস সব সফলতার নেপথ্য নায়ক। পড়াশোনায় সাফল্যের জন্যও দরকার কিছু সুঅভ্যাস গড়ে তোলা। আর এজন্য প্রয়োজন রুটিন। বছরের প্রথম থেকে রুটিন মেনে পড়াশোনা করলে পরীক্ষার সময় দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। তাই রুটিন মেনে পড়াশোনা করার গুরুত্ব অপরিসীম। এর প্রথম ধাপ হচ্ছে একটি রুটিন তৈরি করা।

 দৈনন্দিন জীবনের সব কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখতে হবে এই রুটিনে। শুধু পড়াশোনা বা স্কুলের জন্য নয়, বরং ঘুম থেকে ওঠা, শরীরচর্চা, খাওয়া, খেলাধুলা এবং ঘুমানোর আগে সারা দিনের কাজ পর্যালোচনার জন্যও সময় রাখতে হবে।

 প্রতিটি বিষয় পড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখতে হবে। যে বিষয় পড়তে সময় বেশি লাগে, সে বিষয়ের জন্য সময় বেশি রাখো। যেটি দ্রুত আয়ত্ত করতে পারো, সেটিতে অপেক্ষাকৃত কম সময় রেখে রুটিনে ভারসাম্য আনো।

 একটি কথা মনে রাখতে হবে, রুটিনটি তুমি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং নিজের সুবিধামতো তৈরি করতে পারো কিন্তু তৈরি সেটি তোমাকে মেনে চলতেই হবে। তাই বুঝেশুনে এবং বড়দের সহযোগিতা নিয়ে রুটিন তৈরি করো।

রুটিন তৈরির পর এবার তা মেনে চলার পালা। এটি তোমার পড়ার টেবিলের সামনে সেঁটে দিতে পারো। একাধিক কপি করে বিছানার পাশে, স্কুলের ব্যাগেও রাখতে পারো।

 ঘুমাতে যাওয়ার আগে সারা দিনের কাজের পর্যালোচনা করার সময় রুটিনটি কতটুকু মেনে চললে তা পর্যালোচনা করো।

 কেন পারোনি তার কারণ ও কীভাবে রুটিনটি আরও সুন্দরভাবে অনুসরণ করা যায় তার উপায় বের করো। এই আন্তরিক পর্যালোচনার ফলে দেখবে রুটিন ব্যত্যয়ের ঘটনা অনেকাংশে কমে গেছে।

 রুটিনের কোনো অংশ তোমার জীবনযাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে বড়দের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে তা পরিবর্তন করো।

 এভাবে কয়েকবার সংযোজন, বিয়োজনের ফলে তুমি পাবে তোমার উপযোগী চূড়ান্ত রুটিন। এই রুটিন মেনে চললে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা অভ্যাসে পরিণত হবে।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে ২১ দিন, আবার কারও কারও মতে ৪০ দিন কোনো কাজ নির্দিষ্ট সময়ে করলে তা অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আর অভ্যাসই ব্যক্তির সাফল্য নির্ধারণ করে। তাই রুটিনটি গুরুত্বের সঙ্গে তৈরি করো এবং আন্তরিকভাবে অনুসরণ করো। আশা করি, তুমি ছাত্রজীবনে এবং সার্বিক জীবনে সফল হবে।